মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের যুগপূর্তি
প্রকাশ: ০৪:২৮ am ২০-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০৪:২৮ am ২০-০৩-২০১৫
 
 
 


‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস ও জনগণকে মুক্ত’ করার ঘোষণা দিয়ে ২০০৩ সালের ২০ মার্চ ইরাকে আক্রমণ চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট। শুক্রবার ‘মিথ্যা’ অজুহাতে চালানো ওই আক্রমণের ১২ বছর পূর্তি হচ্ছে। ওই যুদ্ধ শেষ হলেও যুগপূর্তির দিনেও নতুন অভিযানের নামে ইরাকের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা।

ইরাকের বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ধ্বংস ও সাদ্দাম সরকারের পতনের ঘোষণা দিয়ে সেদিন প্রাচীন সভ্যতার তীর্থভূমি ইরাকের মাটিতে হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও পোল্যান্ড।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আগ্রাসী বাসনাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। ‘অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম’ নামে ওই অভিযান চালায় জোট।

ওই বছরেরই জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে সিবিএসের চালানো এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, ৬৪ শতাংশ আমেরিকান ইরাকে সামরিক আক্রমণকে সমর্থন করেন। ৬৩ শতাংশ চাইছিলেন যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিকভাবে সমাধান করুক বুশ। ৬২ শতাংশ আমেরিকানের ধারণা ছিল, ইরাকে এ ধরনের আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী ঘটনা বাড়িয়ে দেবে।

জোট সেনারা ২০০৩ সালের ৯ এপ্রিল ইরাকি রাজধানী বাগদাদকে ঘিরে ফেলে। ১০ এপ্রিল কিরকুক ও ১৫ এপ্রিল তিকরিত দখল করে তারা। এরপর মাত্র ২২ দিনের মাথায় ১ মে বাগদাদের পূর্ণ দখলের মাধ্যমে প্রধান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ৪৮ হাজার, যুক্তরাজ্যের ৪৫ হাজার, অস্ট্রেলিয়ার ২ হাজার ও পোল্যান্ডের ১৯৪ সেনা অংশ নেয়। ইরাকের কুর্দিস্থানের কুর্দি সেনারা তাদের সহায়তা করে।

পরবর্তী সময়ে বাথ পার্টির নেতা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে গোপন অবস্থান থেকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। এরপর আদালতের রায়ের মাধ্যমে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

হাজার হাজার ইরাকি হতাহতের পর ২০০৪ সালের জুনে অভিযানের পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি ঘোষণা করে জোট বাহিনী। অভিযান সমাপ্ত হলেও রাষ্ট্র ‘পুনর্গঠনে’র কথা বলে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করে মার্কিন সেনারা।

ইরাকে আক্রমণ, সাদ্দাম সরকারের পতন ও পরবর্তী সময়ে কয়েক বছর দেশটিতে অবস্থান করেও অবশ্য কোনো ধরনের মরণঘাতী রাসায়নিক অস্ত্রের খোঁজ পায়নি জোট সেনারা। এমনকি এ ব্যাপারে আর কোনো কথাও বলেননি বুশসহ জোট নেতারা।

২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামপন্থী সংগঠন আইএস-এর (ইসলামিক স্টেট) উত্থানের পর আবারও ইরাকে এসেছে মার্কিন সেনারা। এবার আরও বড় জোট গঠন করে আইএস দমনের লক্ষ্যে দেশটিতে বিমান হামলা চালাচ্ছে তারা।

‘অপারেশন ইনহারেন্ট রিজল্ভ’ নামে ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অভিযান এখনও চলছে।
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71