মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯
মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
উপজেলা নির্বাচনে যাবে না বিএনপি
প্রকাশ: ১১:১৩ am ১১-০১-২০১৯ হালনাগাদ: ১১:১৩ am ১১-০১-২০১৯
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আগামী মার্চ মাস থেকে অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি জোট। দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে 'ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি'র অভিযোগে ওই নির্বাচন বর্জন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট। বিএনপি ও জোটের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিএনপি ও জোটের কয়েকজন নেতা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সংলাপে সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে বারবার ঘোষণা দিলেও নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। ফলে এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মনোভাব নেই তাদের। অংশ নিয়ে নির্বাচনকে বৈধতা দিতে যাবেন কি-না- এ নিয়ে দল ও জোটের ভেতর চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।

দলের নীতিনির্ধারক মহল বলছে, মূল নির্বাচন নিয়ে এখনো বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় নতুন করে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ভাবনার অবকাশ নেই। সেইসঙ্গে এখনো সংসদে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি এসব বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো সিদ্ধান্তও আসেনি।

নাম প্রকাশ না করে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপি জোটের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ ছিল। সরকারের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়ায় তারা নির্বাচনে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আশঙ্কাই সত্য হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের ফলাফলেই এটা প্রমাণিত হয়েছে। ফলাফল দেখে দেশবাসী ও বিদেশিরা বিস্মিত।

বিএনপি নেতারা বলেন, বর্তমানে সারাদেশে তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় কারাভোগ করছেন। অনেকে মামলা মাথায় নিয়ে এলাকাছাড়া। যারা প্রকাশ্যে ছিলেন, হুমকি-ধমকির কারণে তারাও নির্বাচনী মাঠে ছিলেন না। কেউ পোলিং এজেন্ট হওয়ার সাহস করেননি। ফলে সারাদেশে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট ছিল না।

তারা বলছেন, নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের কর্মীরা আবার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। হামলা-মামলার ভয়ে এখন অনেকে বাড়িছাড়া। এ পরিস্থিতিতে তিন মাসের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন দিলেও একই পরিণতি হবে। উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিলে সম্ভাব্য প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের আবার মামলা-হামলার শিকার হতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে 'কারচুপির মাধ্যমে বিপুল বিজয়ের' পর উপজেলা নির্বাচনেও বিএনপিকে দাঁড়াতে দেবে না ক্ষমতাসীন দল। 

মার্চে শুরু, ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন: উপজেলা নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে সারা দেশে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। এ ক্ষেত্রে জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রয়ারির শুরুতে তফসিল হতে পারে। আর মার্চের ৩ অথবা ৭ তারিখে প্রথম ধাপের ভোটের প্রাথমিক তারিখ চিন্তা করা হচ্ছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে ৪৯২টি উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে সম্প্রতি নির্বাচন হয়েছে। তবে মার্চের মধ্যে যেগুলো নির্বাচন উপযোগী হবে সেগুলোয় প্রথম ধাপে ভোট হবে। এজন্য জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২৬ ফেব্রয়ারির মধ্যে এবং ব্যবহারির পরীক্ষা ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে শেষ হতে পারে। তাই এসব বিষয় মাথায় রেখে ইসি ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে প্রত্যাহার পর্যন্ত ১৪-১৫ দিন দেওয়া হতে পারে। আর প্রচারণার জন্য সময় থাকবে ১৪ থেকে ১৬ দিন। সে হিসেবে জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে তফসিল হলে মার্চের ৩ অথবা ৭ তারিখে প্রথম ধাপের ভোট হবে। আর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দ্বিতীয় ধাপের তফসিল দিয়ে মার্চের মাঝামাঝি ভোট করার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের গ্রিন সিগন্যালের ওপর।

বর্তমানে সারাদেশে ৪৯৪ উপজেলার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের দেড় শতাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান রয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন দুই শতাধিক। গত উপজেলা নির্বাচনে বেশিরভাগ এলাকাতে বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

নি এম/ 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71