বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও হিন্দু বোন পূর্ণিমা
প্রকাশ: ০৫:৪৩ pm ০৪-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:৪৩ pm ০৪-০৭-২০১৭
 
 
 


মহানন্দ; (খুলনা প্রতিনিধি): সীমিত সুযোগ সুবিধা, দক্ষ প্রশিক্ষণের অভাব ও জনসংখ্যার আনুপাতিক হার অনুযায়ী পুলিশের সংখ্যা অতিনগণ্য।

এ সত্ত্বেও দেশের মানুষের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে অনেক গৌরব উজ্জ্বল সাফল্য। দেশের নিপিড়িত, নির্যাতিত মানুষ সর্বপ্রথমেই পুলিশের দারস্থ হন। কার্যক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীর চাপ কিংবা বাড়তি সুবিধা নেওয়ার কারণে অসহায় ওই মানুষগুলো অনেক সময় পুলিশের সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয়। এতে একদিকে যেমন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ব্যহত হয় তেমনি ন্যায় বিচার না পেয়ে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরুপ ধারণা সৃষ্টি হয়।

সবমিলিয়ে পুলিশের কতিপয় সদস্য যেমন সুনাম ক্ষুণ্য করছে তেমনি এ বাহিনির ভাল কাজের দৃষ্টান্ত কম নয়। সেবার ব্রত নিয়ে দেশ এবং জনগণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করছেন। এ ধরণের কর্মকর্তাদের কর্মকান্ডের কারণে জনগণ পুলিশকে পরমবন্ধু হিসাবে মূল্যায়ন করে থাকে।

এমনই একজন পুলিশ কর্মকর্তা ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। যিনি নিজেকে কখনও ওসি হিসাবে নয়, সেবক হিসাবে জনগণের পাশে থেকে ইতিমধ্যে যথেষ্ঠ সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি গত ৭ মে ২০১৭ইং তারিখ অফিসার ইনচার্জ হিসাবে খুলনা জেলার পাইকগাছা থানায় যোগদান করেন। যোগদানের পর জনস্বার্থ ও মানবিক সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি কাজ করেছেন যা স্থানীয় জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। যার মধ্যে উপজেলায় আলোচিত মিনহাজ নদী নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট সংঘাত-সংঘর্ষের অবসান, কর্মকার পরিবারকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করা এবং প্রচন্ড তাপদাহের মধ্যে থানা হাজতিদের জন্য ফ্যানের সুব্যবস্থা করা অন্যতম।

তিনি এলাকার সবশ্রেণির মানুষের কাছে অতিপরিচিত নাম। কারণ এর আগে তিনি ২০০৯ সালের দিকে সেকেন্ড অফিসার হিসাবে পাইকগাছা থানায় কর্মরত ছিলেন। তখন তিনি ওসি না থাকলেও সেকেন্ড অফিসার হিসাবে দক্ষতার পরিচয় দেন। আমিনুল ইসলামের তখনকার উপকারের কথা জনগণ যেমন এখনও মনে রেখেছে, তেমনি তিনিও পূর্বের অনেক স্মৃতিকে মনে রেখেছেন। গত কয়েকদিন আগে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যা হুবু-হু তুলে ধরা হলো-যেখানে ঋষি সম্প্রদায়ের মাঝবয়সী অসহায় এক নারী পূর্ণিমাকে তিনি বোন উল্লেখ করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, সময়টা ২০০৯ সালের শেষ দিকে। আমি তখন পাইকগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার। অনুজ্জ্বল শাড়িতে শরীর ঢাকা, মাথায় লন্বা ঘোমটা, দুহাত প্রনামের ভঙ্গীতে, দয়া অনুগ্রহের প্রার্থনায়, বিন¤্র চিত্তে-অবনত মস্তকে, কাচু-মাচু শরীরে আমার টেবিলের সামনে এসে হঠাৎ মেঝেতে প্রনামরত এক মাঝবয়সী নারী। জীবনে এই প্রথম দেবতার ভূমিকায় নিজেকে আবিস্কার করলাম। তারপর বিস্তারিত জানলাম-নাম তার পূর্নিমা ঋষি, সে পাইকগাছা উপজেলার উলুডাঙ্গা গ্রামের মৃত কালিচরন ঋষির মেয়ে। তার একমাত্র ভাই ষষ্টি ঋষি মারাগেছে অনেক আগে।

একমাত্র পুত্র মান্দার ঋষি সেও মৃত। একমাত্র পৌত্র (মৃত মান্দার ঋষির পুত্র) শিশু সৌরভ, যার বয়স মাত্র ৭ বছর। এই হচ্ছে পূর্নিমাদের সংসারের একমাত্র সবেধন নীলমনি পুরুষ সদস্য। পূর্নিমার “মা”-হরিদাসী জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু শয্যায়। মায়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে বসত বাড়ীতে থাকা মেহগনি গাছ কাটতে গিয়েই বিপত্তি-বাধা। জানা যায় পূর্নিমাদের একমাত্র স্থাবর সম্পত্তি বসতবাড়ী বহুপূর্বেই সমাজপতিদের তঞ্চকীপূর্ণ জাল দলীলের মাধ্যমে অন্যের হয়ে গেছে। তাই এই বিনম্র প্রনাম আর হাউ-মাউ করে বুকফাটা কান্না। বুকের মধ্যে কেন যেন চিন-চিন করে উঠল। শুরু হলো তার জন্য নিরন্তর চেষ্টা।

শুধু সাধ্যের মধ্যে নয়, সাধ্যের বাইরেও চেষ্টা ছিল নিরন্তর। ছুটেছি বিভিন্ন অফিস-আদালত আর দপ্তরে, উকিল-মোক্তার আর কর্তাব্যক্তিদের কাছে। অনেক ক্ষমতাবানদের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করেছি। প্রায়ই চিৎকার করে বলার চেষ্টা করেছি-“এটা অন্যায়।” পাশথেকে অনেককেই টিপ্পনি কেটে বলতে শুনেছি-“একজন ঋষি মহিলার জন্য এত কি দরকার?” শুধু মনে মনে ভেবেছি-“তার সাথে আমার জাতের মিল নেই, পাতের মিল নেই, ধর্মেরও মিল নেই, তারপরও পূর্নিমা আমার বোন।

পূর্নিমারা আমাদের অস্তিত্বের ঠিকানা। মুক্ত বিহঙ্গের মত পূর্নিমাদের নির্মোহ বিচরন আর স্বপ্নীল নকশিকাথায় আমাদের আগামী “শোষন বঞ্চনাহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত অসাম্প্রদায়ীক সোনার বাংলা। অনেকেই বলেছেন পাগলামি। কিন্তু অমি থমকে যাইনি। জীবিকার প্রয়োজনে শতমাইল দূরে থেকেও তার জন্য চেষ্টা ছিল নিরন্তর। পুনরায় চলতি বছরের গত ৭ মে পাইকগাছা থানায় যোগদান করলাম অফিসার ইনচার্জ হিসাবে। থানায় প্রবেশের পূর্বেই সাধারন জনগনের প্রতি আমার মেসেজ ছিল“সকল প্রকার ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গ্রহনে বিনীত ভাবে অপারগতা প্রকাশ করছি।”-যা ব্যানার এর মাধ্যমে থানার সামনে আগে থেকেই টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছিল। অপরদিকে, আমার আগমনের একমাত্র আমন্ত্রিত অতিথি ছিল আমার বোন পোড়াকপালী পূর্নিমা।

থানায় প্রবেশ করেই আমি সোনার বাংলার কলঙ্কটিকা আমার বোন পূর্নিমার মুখ দর্শন করতে চেয়েছিলাম এবং তাই করেছি। পরবর্তীতে ছুটেগেছি-তথাকথিত সমাজপতিদের কালো থাবায় চূর্ন হওয়া আমার বোনের জন্ম ঠিকানা উলুডাঙ্গার সেই বাড়িতে। যে বসত ভিটেতে আজ আর বসত বাড়ী নেই, পরিনত হয়েছে ফসলের ক্ষেতে। কাবুলিওয়ালাদের ন্যায় তথাকথিত স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, আর সততা, নীতিবাক্য, ন্যায়পরায়নতা, ন্যায়বিচারের বুলি আওড়ানো সমাজপতিতের মুখে চপেটাঘাত কষে পূর্নিমাদের আলোয় আমাবশ্যার অবগাহনই আমার চলতি মিশন। যা চলছে এবং চলবে ইনশাল্লাহ। ওসি আমিনুলের ন্যায় দেশের প্রতিটি পুলিশ অফিসার সেবার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে জনগণের পরমবন্ধু হিসাবে পরিচিতি লাভ করুক এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

 

এইবেলাডটকম/গোপাল/এসএম/সুমন

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71