শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
এখনো নজর কাড়ে জমিদার শ্রীমন্ত রাম পালের বাড়ি
প্রকাশ: ০২:২০ pm ১৭-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:২০ pm ১৭-০৮-২০১৭
 
 
 


সামনে বড় উঠান। বাড়ির তিনপাশে প্রশস্থ জায়গা। যেখানে রয়েছে গাছ-গাছালি। তিন পাশে তিনটি পুকুর। প্রচ- দাবদাহেও নির্মল বাতাস ছায়াঘেরা এই বাড়িতে। ভবনের ছাদ অনেক উঁচু। দেয়ালগুলিও অনেক মোটা, চওড়া প্রায় দুই ফুট। রাজসিক এই বাড়ি শীত কিংবা গরম যেকোন ঋতুতেই আরামদায়ক। পরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই স্থাপত্য নিদর্শন এখনো টিকে আছে হাটহাজারীর চৌধুরীহাটে। বাড়িটি জমিদার শ্রীমন্ত রাম পালের। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বাড়িটি হতে পারে এক অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এই বাড়িতে বর্তমানে বসবাস করছেন জমিদার শ্রীমন্ত রাম পালের বংশধররা।

বংশধরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাড়িটি নির্মাণ করেন শ্রীমন্ত রাম পাল। দ্বিতল বাড়িটির উচ্চতা ৪৪ ফুট। ভবনের ছাদ দেয়া হয়েছে ২০ ফুট উচ্চতায়। ভবন নির্মাণে চুন সুরকি এবং লোহার পাত ব্যবহার করা হয়েছে। পূর্বমুখী ভবনটির নিচ তলায় রয়েছে লম্বা বারান্দা। এছাড়া সাতটি কক্ষ রয়েছে। দ্বিতীয় তলায়ও সাতটি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে রয়েছে একটি করে জানালা। এছাড়া পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ পাশে দুইটি টয়লেট এখন ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আর ভবনের সামনের দিকে উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ছোট দুইটি বারান্দা রয়েছে। দোতালায় উঠার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে শ্বেত পাথর দিয়ে। ভবনের দেয়ালে অশ্বত্থ গাছসহ বিভিন্ন ধরনের আগাছা উঠেছে। কিছু এলাকায় দেয়াল ক্ষয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

শ্রীমন্ত রাম পালের নাতি নিহার কান্তি পালের তথ্যমতে, শ্রীমন্ত পালের পুত্র ছিলেন অমরেন্দ্র নাথ পাল। তাঁর চার পুত্র হলেন শ্যামল পাল, নিহার কান্তি পাল, কাজল পাল এবং নির্মল পাল। এর মধ্যে নির্মল পাল শিশুকালেই পরলোকগমন করেন। ভবনে বর্তমানে বসবাস করছেন তিনি এবং তার ভাই কাজল পাল। বাড়ি নির্মাণের সময় উঠানের উত্তর পাশে একটি পারিবারিক মন্দিরও নির্মাণ করা হয়। মন্দিরটি বর্তমানে ভেঙে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। বাড়ির পেছনে অর্থাৎ পশ্চিমপাশে, উত্তর এবং পূর্বপাশে একটি করে পুকুর রয়েছে। ফতেয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয় তাদের দানের জমির উপর স্থাপিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাদুঘরের সাবেক কিউরেটর ও পুরাতত্ত্ব গবেষক শামসুল হোসাইন পূর্বকোণকে বলেন, নির্মাণ প্রযুক্তির মাধ্যমেই স্থাপনাসমূহের নির্মাণ কাল নির্ধারণ করা যায়। ১৮৭৭ সালের দিকে চট্টগ্রামে স্থাপত্যশৈলীতে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার নিদর্শন পাওয়া যায়। যেমন হালিশহরের মালুম বাড়ি। এই সময়ে

স্থাপনাসমূহে চুন-সুরকি এবং ইটের সাথে কাঠের ব্যবহার করা হত। পরবর্তীতে প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিবর্তন হয়। কাঠের পরিবর্তে লোহার গার্ডার ব্যবহার শুরু হয়। জমিদার সীমান্ত রামপালের বাড়িতে যেহেতু লোহার গার্ডার রয়েছে সেহেতু এই বাড়িকে দ্বিতীয় ফেজ তথা দ্বিতীয় প্রজন্মের স্থাপনা বলা যায়। বাড়িটির পলেস্তরা খসে পড়ায় লোহার গার্ডারগুলি দেখা যাচ্ছে। ভবনের ছাদ উচুঁ হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেসময় বিদ্যুৎ ছিল না। তাই পর্যাপ্ত আলো বাতাসের বিষয়টি মাথায় রেখেই ভবন নির্মাণ করা হত।

তৃতীয় পর্যায়ের স্থাপনাসমূহ হল আদালত ভবন, সেন্ট্রাল রেলওয়ের ভবন পাহাড়তলীর রেলওয়ে ভবন, চিটাগং ক্লাবসহ ওই সময়ের স্থাপনাসমূহ। এইসব স্থাপনাকে কলোনিয়াল স্থাপনাও বলা হয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলি সংরক্ষণে কাজ করে। কিন্তু চট্টগ্রামে সংরক্ষণযোগ্য অসংখ্য স্থাপনা থাকার কথাটি তারা স্বীকারও করতে চায় না। অথচ দেশের অনেক জেলায় পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনা চিহ্নিতকরণে জরিপ হয়েছে। একবার জরিপ হয়ে সরকারি তালিকায় নাম উঠে গেলে তখন ওইসব স্থাপনা ধ্বংস করা কঠিন হবে।

জমিদার বাড়ির অবস্থান : নগরীর ৩ নং রুটের বাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। এ বাসে করে চৌধুরীহাটে নেমে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে দেখিয়ে দেবে এই জমিদার বাড়ি। অথবা অক্সিজেন থেকে সিএনজি ট্যাক্সি অথবা যেকোন লোকাল বাস, রাইডারে করে চৌধুরীহাট যাওয়া যায়।

আরডি/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71