রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯
রবিবার, ৬ই শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
এতিম সন্তানদের অধিকার আদায়ে লড়ছেন মা
প্রকাশ: ০১:৪৮ pm ২০-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০১:৪৮ pm ২০-০৫-২০১৮
 
নীলফামারী প্রতিনিধি
 
 
 
 


শিল্পপতি স্বামীর রেখে যাওয়া কোটি কোটি টাকার সম্পদই যেন এখন জীবনের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতিম দুই শিশু সন্তানদের পিতার সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ওয়ারিশদের অবৈধ দখল ও থাবা থেকে ওই সম্পত্তি রক্ষায় প্রতিনিয়ত লড়াই করে যেতে হচ্ছে। এজন্য চারিত্রিক অপবাদসহ শারীরিক নির্যাতন সহ্য করে চলেছেন দীর্ঘ ৮ বছর থেকে। তারপরও প্রশাসন বা সমাজপতিদের সহযোগিতা না পেয়ে চরম দূর্দশায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে অসহায় এক বিধবা মা কে। 

সম্প্রতি নির্যাতনের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। তাই মানবাধিকার সংগঠনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন। এতেও যদি কেউ এগিয়ে না আসে তাহলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের ১৫ নং বেডে শুয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা জানান সৈয়দপুর শহরের নয়া বাজার এলাকার মরহুম শিল্পপতি পারভেজ আলমের বিধবা স্ত্রী শাহিন পারভীন পারভেজ।

সাংবাদিকদের কাছে আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন- আপনারাই আমাকে বাঁচাতে পারেন অত্যাচারীদের হাত থেকে। নতুবা অচিরেই আমার মৃত্যুর খবর পাবেন আপনারা। কেননা হয় তারা আমাকে মেরে ফেলবে নয়তো আমি নিজেই নিজেকে শেষ করে দিবো।
 
শাহিন আরও জানান, ২০১০ সালের ২৭ জুলাই আমার স্বামী শিল্পপতি পারভেজ আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তারপর থেকেই আমার শ্বশুর-শাশুড়ী, ভাসুর ও তার পরিবারের লোকজন আমাকে আমার স্বামীর সম্পত্তি থেকে বিতাড়িত করাসহ প্রাণে মেরে ফেলার জন্য নানামুখী নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমার এতিম দুই সন্তান নুরে এলাহী ইব্রাহিম (১১) ও মোহাম্মদ নুর ইসাহাক (৮) কে তাদের পিতার সম্পত্তিতে কোন প্রকার অধিকার দিতে আগ্রহী নয় স্বামীর পরিবারের সদস্যরা। প্রায়ই তারা সপরিবারে আমার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এমনকি বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে মিথ্যে চারিত্রিক অপবাদ দিয়ে লাঞ্ছিতও করেছে। এজন্য আমি সন্তানদের অধিকার আদায়ের জন্য আদালতের স্মরনাপন্ন হয়ে কয়েকটি মামলা করি। এই মামলাগুলোতে আমার পক্ষে রায় হওয়ায় এবং এখনও বিচারাধীন ২টি মামলা তুলে নিতে আমার উপর চাপ সৃষ্টি করতে তাদের ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ মে বুধবার বিকালে আমার বাসার ডিস লাইন ঠিক করতে আসা লাইনম্যানকে নিয়ে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে ঘরে ঢুকে আমাকেসহ আমার সন্তানদের বেধড়ক মারধর করে আমার ভাসুরের ছেলে নুর আলম। এসময় তারা আমার ঘরের দরজা, জানালাসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে। পরে গভীর রাতে আবার তারা আমার উপর চড়াও হয়। এসময় নুর আলম আমার চুলের মুঠি ধরে টেনে হিচড়ে দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে আনে। সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত আমার ভাসুর জামসেদ আলম, তার স্ত্রী, মেয়ে ফারজানা এবং জামাতা বদরুদ্দোজা হাতে থাকা লোহার শাবল, লাঠি ও ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে এলোপাথারী মারধর করে। এসময় আমার শিশু সন্তানরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকেও নির্যাতন করে তারা। তাদের উপর্যূপরী আঘাতে আমি আত্মচিৎকার করলে এলাকাবাসী ছুটে এসে আমাকে উদ্ধার করে ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। এখানে আজ ৩ দিন যাবত চিকিৎসাধীন আছি। খবর পেয়েছি আমাকে মারধর করে উল্টো আমার বিরুদ্ধেই সৈয়দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। 

শাহীন পারভীন বলেন, আমার স্বামীর একান্ত প্রচেষ্টায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে সৈয়দপুর শহরে ৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাসহ বাড়ি-গাড়ী, জমি-জায়গা ও বিপুল পরিমান সম্পত্তি অর্জন করেছেন। তিনি এসবের সবগুলোতেই তার বাবা খোরশেদ আলম ও বড় ভাই জামসেদ আলমকেও অংশিদার করেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর আজ তারাই সন্তানসহ আমাকে তার অর্জিত সম্পত্তি থেকেই বিতাড়িত করতে অমানবিক নির্যাতন ও নোংরামীর আশ্রয় নিয়েছেন। এমনকি তার স্মৃতি বিজরিত বাড়ির কক্ষটি থেকেই বিতারিত করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যা কোনভাবেই বরদাস্ত করার মতো নয়।

এ প্রসঙ্গে শাহীন পারভীনের ভাসুর জামসেদ আলমের মেয়ে ফাতেমা জাসমেদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এটা আমাদের পারিবারিক ব্যাপার। আমার চাচির চরিত্র ভালো না। তাছাড়া তার সন্তানরা এখনও নাবালক। তাই এই মূহুর্তে চাচার সম্পত্তি চাচির হাতে তুলে দেয়া ঠিক নয় বলেই আমরা উভয়পক্ষের আইনজীবীদের সমঝোতায় একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাচিকে প্রতিমাসে খরচা বাবদ ২৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সময় প্রয়োজনীয় খরচাদি করার জন্য অর্থ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি এতে সন্তুষ্ট নয়, বরং বাহিরের লোকজনের কুপরামর্শে তাদের ইন্ধনে মাঝে মাঝে সিনক্রিয়েট করে আমাদেরকে চাচার সব সম্পত্তি তাকে লিখে দিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। মূলতঃ তাকে নির্যাতন করার কোন ঘটনাই ঘটেনি। সব সাজানো।


এমএএম/বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71