সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
এমপি বদির সাজায় অভিভাবকহীন সীমান্তের ইয়াবা পাচারকারীরা
প্রকাশ: ০৪:৩৮ pm ০৪-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ০৪:৩৮ pm ০৪-১১-২০১৬
 
 
 


কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের মাদক অধ্যূষিথ শহর টেকনাফ সীমান্তের  ইয়াবা পাচারকারীদের এখন সামাল দেবে কে ?

এমপি বদিও সাজা হওয়ার পর থেকেই কথাটি মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল। এতোদিন ধরে এমপি বদি তাদের যে কোন বিপদ-আপদ সামাল দিবেন। এই বিশ্বাস ছিলো ইয়াবা পাচারকারীদের। কিন্তু আদালত কর্তৃক এমপি বদির সাজার রায় ঘোষণা হওয়ার পর সেই হিসাব পাল্টে যায়। এখনো পর্যন্ত বিকল্প নেতৃত্ব না থাকায় ইয়াবা পাচারকারীদের মাঝে তাই বিরাজ করছে হতাশা।

ইয়াবা পাচারের সাথে সম্পৃক্ত বদির আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে প্রশাসনের তালিকাভূক্ত টেকনাফের প্রায় সব ইয়াবা কারবারীই এখন আত্মগোপনে। বুধবার থেকে তাঁদের মাঠে ময়দানে দেখা যাচ্ছে না। শুধু পেছন থেকে বদির মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত গুটিকতেক মানুষকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করছেন।

গেল ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং বিএনপি-জামাত নেতাদের মধ্যে যাঁরা এমপি বদির প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তাঁরাও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। আন্দোলন করা দূরে থাক, বদির বিষয়ে মুখ খুলতেই সাহস করছেন না তাঁরা।

ইতোমধ্যে এমপি বদির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক এমপি মো. আলী এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর।উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আদিল উদ্দিন চৌধুরী এবং বাদশা মিয়া চৌধুরীও বদির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন।

তাঁরা সবাই বদিকে একজন খারাপ লোক হিসেবে চিত্রিত করে মাদক ব্যবসায় যুক্ত থাকার দাবি করছেন। ২ নভেম্বর রায় ঘোষণার পর শুধুমাত্র বদির নিজ বাড়ি টেকনাফ পৌরসভায় মাত্র জনা-বিশেকের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল এবং দুপুরে প্রথম স্ত্রীর পৈত্রিক বাড়ী উখিয়ার ফলিয়া পাড়া এবং পালংখালী ইউনিয়ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ফজল কাদের ভুট্টোর নেতৃত্বে কিছুক্ষণ সড়ক অবরোধ করা হয়।

সড়ক অবরোধ কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের পর থেকেই লাপাত্তা ফজল কাদের ভুট্টো। শ্বশুর বাড়ীর পক্ষ থেকে বেশ কয়েক জায়গায় বদি মুক্তির আন্দোলনে সামিল হতে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কোন স্থান থেকে সাড়া পাওয়া যায় নি।

এ দিকে, এমপি বদির রায় ঘোষণার পরপরই পুরো টেকনাফ বিরাজ করছে গুমোট অবস্থা। চারিদিকেই নীরব-নিস্তব্ধতা। বাজারগুলোতেও বিরাজ করছে হাহাকার। ইতিপূর্বে বাজারের বড় ক্রেতা ছিলো ইয়াবা পাচারকারীরা। কিন্তু গত দু’দিন ধরে বাজারে তাঁদের দেখাই যাচ্ছে না।এ কারণে বাজারে বেচা-কেনা কম হচ্ছে বলে টেকনাফে কর্মরত এক সাংবাদিক জানিয়েছেন।

২০১৪ সালেই এমন অবস্থা দেখেছিলো টেকনাফের লোকজন। তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল।এরপরই কয়েকজন মাদক পাচারকারী ক্রসফায়ারে নিহত হয় বলে আইন-শৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

কিন্তু ইয়াবা পাচারকারীদের ধরে এনে মেরে ফেলা হচ্ছে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।ফলে অধিকাংশ ইয়াবা পাচারকারী অন্তরালে চলে যায়।

এইবেলাডটকম/চঞ্চল/এফএআর


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71