সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলামের ১১ মাসের সাফল্য
প্রকাশ: ০৪:১০ pm ২৯-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:১০ pm ২৯-০৭-২০১৭
 
রবীন্দ্র নাথ, ময়মনসিংহ :
 
 
 
 


জেলা পুলিশ গত ১১ মাসে জঙ্গী দমন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বাল্য বিবাহ রোধে সচেতনতামূলক সভা, মাদক সেবীদের পূর্নবাসন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও ওয়ারেন্ট তামিলে বিশাল সাফল্য দেখিয়েছে। জঙ্গী ও মাদক বিরোধী প্রায় আড়াই হাজার জনসচেতনামূলক কমিউনিটি পুলিশিং সভা ও এসপি ময়মনসিংহ সহ জেলার সকল থানার ফেসবুক আইডি খুলে জনগণের সাথে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে পুলিশী কার্যক্রম জোরদার করেছে। 

পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম ময়মনসিংহ যোগদান করে গত ১১ মাসে তার নেতৃত্বে জেলা পুলিশ এ সাফল্য দেখিয়েছে। এ সময় ত্রিশাল থেকে গ্রেফতারকৃত জঙ্গী সালাউদ্দিন কামরানের দেয়া জবানবন্ধী অনুযায়ী জেলা ডিবি, ডিএমপি’র সোয়াট ও অপারেশন স্ট্রমহিট-২৬ পরিচালনা করে হলি আর্টিজামের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোষ্ট ওয়ান্টেড জঙ্গী তামিমের নারায়নগঞ্জ ডেরায় সফল অভিযান পরিচালনা করে। সেই অভিযানে তামিম সহ ৩ জঙ্গী নিহত হয়।

জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে আগষ্ট থেকে জুন’১৭ইং পর্যন্ত পৌনে ৪ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছে। এ সময়ে মাদকের মামলা হয়েছে ১৬৮০টি। এর আগের বৎসর প্রায় দুই কোটি টাকার মাদক উদ্ধার ও মাদকের মামলা হয়েছিল ১২৫৪টি। মাদক আইনে গ্রেফতার হয়েছে ১৯৬৪ জন। 

পূর্ববর্তী বৎসরে গ্রেফতার হয়েছিল ১৩৯৬ জন। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত ১১ মাসে পুলিশ ১৮৯০২ পিস ইয়াবা প্রায় ৩ কেজি হিরোইন, ৮৩৪ বোতল ফেন্সিডিল,৩৬৫ কেজি গাজা, ইনজেকশন ২৩৩৭ এ্যাম্পুল, দেশী মদ ১০১৭ বোতল ,বিদেশী মদ ৩৮ বোতল উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি মাদক সেবীদের পূর্নবাসনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সদস্যদের ১ দিনের বেতন থেকে ২৫ জনকে ২৫টি রিক্সা ও ১৫টি সেলাই মেশিন দেয়া হয়। তুলনামূলক ভাবে আগষ্ট ১৫ থেকে জুন ১৬ইং থেকে আগষ্ট ১৬ইং থেকে জুন ১৭ইং পর্যন্ত বেশী মাদক উদ্ধার হওয়ায় মোট মামলার সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত পক্ষে মামলার সংখ্যা কমেছে ২৪১টি।

বর্তমান সময়ে দেশের সর্বোচ্চ আলোচ্য বিষয় কতিপয় বিপথগামী তরুন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া। এ জেলার মুক্তাগাছায় বাংলা ভাই ধরা পড়ায় মুক্তাগাছা, ফুলবাড়ীয়া, ভালুকা ও ত্রিশালে বেশ কিছু বিপথগামী তরুন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এরই জের ধরে ত্রিশালে পুলিশ ভ্যানে হামলা করে দু’জন দূধর্ষ জঙ্গী ছিনিয়ে নেয়ায় উদ্বেগ বাড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে। সাধারণ মানুষের আতংকভাব কাটাতে গত ১১ মাসে জঙ্গী ও মাদক বিরোধী ২১৯১টি জন সচেতনামূলক কমিউনিটি পুলিশিং সভা করা হয়। যার ফলে এ সময়ে ২৮ জন জঙ্গীকে গ্রেফতার করে ১০টি মামলা দেয়া হয়। ইত:মধ্যে ৭টি মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। ভাড়াটিয়ারা যাতে জঙ্গীদের বাসা ভাড়া দেয়ার আগে তা যাচাই-বাছাই করে সেজন্য লিফলেট ও মাইকিং করে জনসচেতনা বাড়ানো হয় এবং ১৭১৩টি ভাড়াটিয়া পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ মনে করে এ সংখ্যাটা অপ্রতুল।

ময়মনসিংহ শহরের কালীবাড়ী এলাকায় ভোগপণ্য সরবরাহের আড়ালে জঙ্গীরা নীরব নেটওয়ার্ক স্থাপন করলে বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসে। তিনি কোতোয়ালী থানাকে গোপনে জঙ্গীদের তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত করে। অবশেষে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে ৭ জঙ্গীকে গ্রেফতার করে। এ সময় বিপুল পরিমান জিহাদী বই ও সিডি উদ্ধার করে। একাজে পুলিশ সুপারকে সহায়তা করেন কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম, ওসি তদন্ত মুনসুর আহাম্মদ ও নং ফাঁড়ির টিএসআই মোঃ আশরাফুল আলম।
 
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ের হাইওয়ের ৬৫ কিলোমিটার সড়ক সব সময় ঝুকিপূর্ণ। সড়ক ডাকাতি, দূর্ঘটনা ও হাইওয়েতে অবৈধ যান বন্ধের জন্য ৬৫ কিলোমিটার হাইওয়ে ১২ কোরের ফাইবার অপটিক দ্বারা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। যা পুলিশ সুপারের অফিস সংলগ্ন কন্ট্রোলরুম থেকে পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি একটি চক্র নাশকতার জন্য ফাইবার অপটিকের ১০ কিলোমিটারের তার চুরির সময় জড়িত ৩ সদস্যকে আটক করে ত্রিশাল থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ। আশা করা হচ্ছে শহর এলাকার অপরাধ সিসি ক্যামেরা বসানো হবে অচিরেই।

গত ১১ মাসে ওয়ারেন্ট তামিলে সাফল্য দেখিয়েছেন জেলা পুলিশ। গত আগষ্ট পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম যোগদানের সময় পেন্ডিং ওয়ারেন্ট ছিল ২৩৭০৮টি। এ সময় আদালত থেকে আসে ২৮৪৫৬টি। মোট ৫২১৬৪টি ওয়ারেন্টের মধ্যে নিস্পত্তি করা হয় ৩৭৬২৫টি। তামিলের অপেক্ষায় রয়েছে ১৪৩৯টি। অথচ আগষ্ট ১৫ইং থেকে জুন ১৬ইং পেন্ডিং ওয়ারেন্ট ছিল  ৪১২৬টি ও আদালত থেকে আসে ৫৫১৫৮টি। মোট ৫৯২৮৪টি ওয়ারেন্টের মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৩৬৪৩৬টি। অর্থাৎ বর্তমান পুলিশ সুপারের আমালে ৯১৬৯টি ওয়ারেন্ট বেশী নিষ্পত্তি হয়েছে। 

জেলার ১৪টি থানায় গত ১১ মাসে ডাকাতি,দস্যুতা, নারী নির্যাতন, পুলিশ লাঞ্ছিত, দ্রুত বিচার ও অন্যান্য মামলা কমেছে। এসময় গরু চুরির, অপহরণ, চোরাইচালান, মাদক দ্রব্য আইনে মামলা বেড়েছে। জুন ১৫ইং থেকে আগষ্ট ১৬ইং পর্যন্ত জেলায় মোট মামলা হয়েছে ৪৬০৪টি। আগষ্ট ১৬ইং থেকে জুন ১৭ইং পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৪৮০১টি। এ সময়ে মাদকের মামলা পূর্বের তুলনায় ৫৩১টি বেশী হওয়ায় মামলার সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবে মামলা কমেছে ২৪১টি।

বর্তমান পেক্ষাপটে জঙ্গীবাদ ও মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের জনসচেতনামূলক কর্মসূচী বেড়ে যাওয়ায় জেলাবাসী সুফল পাচ্ছে। এ সফলতাকে ধরে রাখতে যেমন প্রয়োজন লজিষ্টিক সাপোর্ট, তেমনী প্রয়োজন জনগণের সার্বিক সহযোগিতা। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে এ সাফল্য ধরে রাখতে দল মত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসা। পুলিশের একার পক্ষে অপরাধ নির্মূল সম্ভব নয়। জনগণ যদি এগিয়ে আসে এবং সামাজিক সচেতনতা বৃ্দ্ধি পেলে জেলা পুলিশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরো সফল হবে। এক্ষেত্রে পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে-যেন প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং নিরপরাধীরা হয়রানীর শিকার না হন। 

আরডি/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71