মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কবি ও ঔপন্যাসিক জয় গোস্বামীর ৬২তম জন্মবার্ষিকী
প্রকাশ: ১২:৫২ pm ১০-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ০২:২২ pm ১০-১১-২০১৬
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

কবি ও ঔপন্যাসিক জয় গোস্বামী (জন্মঃ- ১০ নভেম্বর, ১৯৫৪)

প্রথমদিকে সাময়িকী ও সাহিত্য পত্রিকায় তিনি কবিতা লিখতেন। এভাবে অনেক দিন কাটার পর দেশ পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা হয়। এর পরপরই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পরে তাঁর প্রথম কাব্য সংকলন ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি ঘুমিয়েছ, ঝাউপাতা কাব্যগ্রন্থের জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালের আগস্ট মাসে তিনি পাগলী তোমার সঙ্গে কাব্য সংকলনের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।
পুরস্কারসমূহ
• Anita-Sunil Basu Award from Bangla Akademi, W.B. Govt.
• আনন্দ পুরস্কার (১৯৯০), (১৯৯৮)
• Sahitya Akademi Award to Bengali Writers|Sahitya Akademi Award (২০০০)
• ভারতীয় ভাষা পরিষদ (২০১০)
• রচনা সমগ্র পুরস্কার (২০১১)
• পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেয়া বঙ্গ বিভূষণ (২০১২)

তার জন্ম কলকাতা শহরে। ছোটবেলায় তাঁর পরিবার রানাঘাটে চলে আসে। তখন থেকেই তাঁর স্থায়ী নিবাস সেখানে। তাঁর পিতা রাজনীতি করতেন, তাঁর হাতেই জয় গোস্বামীর কবিতা লেখার হাতে খড়ি। ছয় বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। তাঁর মা শিক্ষকতা করে তাঁকে লালন পালন করেন। জয় গোস্বামীর প্রথাগত লেখা পড়ার পরিসমাপ্তি ঘটে একাদশ শ্রেণীতে থাকার সময়।

প্রকাশিত কিছু বই
কবিতা
• ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ (১৯৭৬)
• প্রত্নজীব (১৯৭৮)
• আলেয়া হ্রদ (১৯৮১)
• উন্মাদের পাঠক্রম (১৯৮৬)
• ভূতুমভগবান (১৯৮৮)
• ঘুমিয়েছো, ঝাউপাতা? (১৯৮৯)
• আজ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করো
• বজ্র বিদ্যুং ভর্তি খাতা (১৯৯৫) 
• ওহ স্বপ্ন (১৯৯৬) 
• পাগলী, তোমার সঙ্গে (১৯৯৪) 
• পাতার পোষাক (১৯৯৭) 
• বিষাদ (১৯৯৮) 
• যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল (১৯৯৮) 
• মা নিষাদ (১৯৯৯)
• সূর্য পোড়া ছাই (১৯৯৯) 
• জগৎবাড়ি (২০০০) 
• কবিতাসংগ্রহ (১৯৯৭-২০০১) 
• প্রেতপুরুষ ও অনুপম কথা (২০০৪) 
উপন্যাস ও অন্যান্য
• হৃদয়ে প্রেমের শীর্ষ (১৯৯৪) 
• মনোরমের উপন্যাস (১৯৯৪) 
• সেইসব শেয়ালেরা (১৯৯৪) 
• সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা (১৯৯৫) 
• রৌদ্রছায়ার সংকলন (১৯৯৮) 
• সংশোধন বা কাটাকুটি (২০০১) 
• সাঁঝবাতীর রূপকথারা (২০০১) 
• দাদাভাইদের পাড়া
• ব্রহ্মরাক্ষস
• সব অন্ধকার ফুলগাছ

বলি – জয় গোস্বামী

…অনামিকা কই? কাজল কোনদিকে গেল?
সায়ন কোথায়?
পিছনে তাকিয়ে দেখি সঙ্গে কেউ নেই
প্রান্তরের মধ্যে এক যূপকাষ্ঠ—অর্ধেক প্রোথিত—
ধারে কাছে কোনও ধড় নেই
মুণ্ডুরা উধাও।
ধুলোয় শোওয়ানো আছে খাঁড়া।
চেনে চেনে লাগে বড়।
ইতি পূর্বে দেখা হয়েছে কি?
সত্তর – একাত্তর – বাহাত্তর সালে
এঁদের দেখেছি বটে।
তারপর কি কোখাও দেখিনি?
হ্যাঁ মনে পড়েছে।
লালাবাজারে এই খাঁড়া ঝোলানো রয়েছে।
যূপকাষ্ঠ আছে মহাকরণের বুদ্ধিঘরে।
...............

আমরা তো অল্পে খুশি – জয় গোস্বামী

আমরা তো অল্পে খুশি,
কী হবে দুঃখ করে?
আমাদের দিন চলে যায়
সাধারণ ভাতকাপড়ে।
চলে যায় দিন আমাদের
অসুখে ধারদেনাতে
রাত্তিরে দুভায়ে মিলে
টান দিই গঞ্জিকাতে।
সবদিন হয়না বাজার,
হলে হয় মাত্রাছাড়া –
বাড়িতে ফেরার পথে
কিনে আনি গোলাপচারা।
কিন্তু পুঁতব কোথায়?
ফুল কি হবেই তাতে?
সে অনেক পরের কথা
টান দিই গঞ্জিকাতে।
আমরা তো অল্পে খুশি,
কী হবে দুঃখ করে?
আমাদের দিন চলে যায়
সাধারণ ভাতকাপড়ে।
মাঝে মাঝে চলেও না দিন
বাড়ি ফিরি দুপুররাতে ;
খেতে বসে রাগ চড়ে যায়
নুন নেই ঠান্ডা ভাতে।
রাগ চড়ে মাথায় আমার
আমি তার মাথায় চড়ি,
বাপব্যাটা দুভায়ে মিলে
সারা পাড়া মাথায় করি।
করি তো কার তাতে কী?
আমরা তো সামান্য লোক।
আমাদের ভাতের পাতে
লবণের ব্যবস্থা হোক।
.................................

মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয় – জয় গোস্বামী

বেণীমাধব, বেণীমাধব, তোমার বাড়ি যাবো
বেণীমাধব, তুমি কি আর আমার কথা ভাবো?
বেণীমাধব, মোহনবাঁশি তমাল তরুমূলে
বাজিয়েছিলে, আমি তখন মালতী ইস্কুলে
ডেস্কে বসে অঙ্ক করি, ছোট্ট ক্লাসঘর
বাইরে দিদিমণির পাশে দিদিমণির বর
আমি তখন নবম শ্রেণী, আমি তখন শাড়ি
আলাপ হলো, বেণীমাধব, সুলেখাদের বাড়ি
বেণীমাধব, বেণীমাধব, লেখাপড়ায় ভালো
শহর থেকে বেড়াতে এলে, আমার রঙ কালো
তোমায় দেখে এক দৌড়ে পালিয়ে গেছি ঘরে
বেণীমাধব, আমার বাবা দোকানে কাজ করে
কুঞ্জে অলি গুঞ্জে তবু, ফুটেছে মঞ্জরী
সন্ধেবেলা পড়তে বসে অঙ্কে ভুল করি
আমি তখন নবম শ্রেণী, আমি তখন ষোল
ব্রীজের ধারে, বেণীমাধব, লুকিয়ে দেখা হলো
বেণীমাধব, বেণীমাধব, এতদিনের পরে
সত্যি বলো, সে সব কথা এখনো মনে পড়ে?
সে সব কথা বলেছো তুমি তোমার প্রেমিকাকে?
আমি কেবল একটি দিন তোমার পাশে তাকে
দেখেছিলাম আলোর নীচে; অপূর্ব সে আলো!
স্বীকার করি, দুজনকেই মানিয়েছিল ভালো
জুড়িয়ে দিলো চোখ আমার, পুড়িয়ে দিলো চেখ
বাড়িতে এসে বলেছিলাম, ওদের ভালো হোক।
রাতে এখন ঘুমাতে যাই একতলার ঘরে
মেঝের উপর বিছানা পাতা, জ্যো‍‌ৎস্না এসে পড়ে
আমার পরে যে বোন ছিলো চোরাপথের বাঁকে
মিলিয়ে গেছে, জানি না আজ কার সঙ্গে থাকে
আজ জুটেছে, কাল কী হবে? – কালের ঘরে শনি
আমি এখন এই পাড়ায় সেলাই দিদিমণি
তবু আগুন, বেণীমাধব, আগুন জ্বলে কই?
কেমন হবে, আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?

 

এ্‌ইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71