রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
কবি ও গীতিকার অজয় ভট্টাচার্যের ৭৩তম মৃত্যূ বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০২:০৭ pm ২৪-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০২:০৭ pm ২৪-১২-২০১৬
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

কবি ও গীতিকার অজয় ভট্টাচার্য (জন্মঃ- জুলাই, ১৯০৬ - মৃত্যুঃ- ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৩)

তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দু-হাজারের কাছাকাছি। তিনি স্বল্পায়ু জীবনের মাত্র পনেরো বছর ব্যয় করতে পেরেছিলেন গানগুলি রচনার জন্যে- পল্লীগীতি, ভাটিয়ালি, বাউল, রাগপ্রধান, কীর্তন, সাধনসঙ্গীত, ভজন ইত্যাদি। কাব্যগীতিতে বিষয়-বৈচিত্র্য ছিল প্রচুর। রোমান্টিক গান তো ছিলই - তাতে রূপকথার ছোঁয়াও ছিল (‘রূপকথারি রাজা এসে তুলে নিল পারুল ফুল’, ‘রাজার কুমার পক্ষীরাজে’ ইত্যাদি)। শেষের দিকের রচনা আবার অনেকটা এগুলির মধ্যে অনেক গান, বিশেষত ছায়াছবির গান এককালে অসাধারণ জনপ্রিয় হয়েছিলো। ছবির গান 'এই পেয়েছি অনল জ্বালা', 'একটি পয়সা দাও গো বাবু', 'দুঃখে যাদের জীবন গড়া', 'বাংলার বধূ' গানগুলি লোকের মুখে মুখে ফিরত।

তাঁর জন্ম ত্রিপুরার শ্যামগ্রামে। কিন্তু বড় হয়েছেন বাংলাদেশের কুমিল্লা শহরে বাবা যেখানে ওকালতি করতেন। পড়াশোনার শুরু কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালায়। ভালো ছাত্র ছিলেন। শুধু পড়াশুনো নয় সাহিত্য, গান, নাটক, ইত্যাদি নানায় বিষয়ে ওঁর প্রচুর উৎসাহ ছিল। বাংলায় এম এ পাশ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে গিয়ে কিছুদিনের জন্যে কুমার বোর্ডিং-এ ত্রিপুরার রাজবাড়ির কুমারদের গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ নেন। সে চাকরি ছেড়ে ত্রিপুরার কুমার শচীন দেববর্মণের আমন্ত্রণে কলকাতায় চলে আসেন। শিক্ষকতার চাকরি পেলেন কলকাতার তীর্থপতি ইনস্টিট্যুশনে। কিন্তু আয় মূলতঃ হত গান আর সিনেমার জন্যে গল্প ও সংলাপ লিখে। অজয় ভট্টাচার্য কবিতাও লিখতেন, কিন্তু ওঁর মুখ্য পরিচয় গীতিকার হিসেবে। ওঁর প্রথম গান 'হাসনুহানা আজ নিরালায়'; গানটিতে সুর দেন সুরসাগর হিমাংশু দত্ত। হিমাংশু দত্তও ছিলেন কুমিল্লা লোক। অজয় ভট্টাচার্যের লেখা আরও অনেক গানে উনি সুর দিয়েছিলেন। পরে ওঁর গানে সুর দিয়েছেন শচীন দেববর্মণ, পঙ্কজ মল্লিক, রাইচাঁদ বড়াল, অনুপম ঘটক, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ সে যুগের বিশিষ্ট সুরকাররা। গেয়েছেন শচীন, সায়গল, পঙ্কজ, কানন দেবী, হেমন্ত প্রমুখ শিল্পীরা।

অজয় ভট্টাচার্যের জীবিত কালে ওঁর গানের তিনটি সংকলন প্রকাশিত হয় - 'আজি আমারি কথা', 'মিলন-বিরহ-গীতি' ও 'শুক-সারী'। মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় 'আজও ওঠে চাঁদ'। অজয় ভট্টাচার্যের অনেক গানের সুর দিয়েছিলেন শচীন দেববর্মণ। অজয় ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পরে স্বরলিপি সহ সেই গানগুলির একটা সংকলন তিনি 'সুরের লিখন' নাম দিয়ে প্রকাশ করেন। বইটির নিবেদনে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার পরম স্নেহাস্পদ কবি অজয়কুমারের বহু গীতি-রচনায় আমি সানন্দে সুর যোজনা করেছি এবং এ কথাও আজকের দিনে গৌরবের সঙ্গেই প্রকাশ করছি যে কবির কথা ও আমার সুর সমাবিষ্ট হয়ে বিদগ্ধজনের সমাদর লাভ করেছে। এর বহু বছর বাদে ১৯৯১ সালে ওঁর স্ত্রী রেণুকা ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'অজয় ভট্টাচার্যের গান'। সৌভাগ্যক্রমে সেগুলি হারিয়ে যায় নি - কবিপত্নী রেণুকা ভট্টাচার্যের সৌজন্যে ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর ডিজিটাল সাউথ এশিয়া লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত আছে। এই ডিজিট্যাল লাইব্রেরিতে অজয় ভট্টাচার্যের স্বহস্তে লেখা বেশ কয়েকটি পান্ডুলিপিও পাওয়া যাবে।

গীত রচনার সঙ্গে সঙ্গে অজয় ভট্টাচার্য সাহিত্য সাধনাও করেছেন। ছোট ভাই কবি সঞ্জয় ভট্টাচার্য প্রকাশিত 'পূর্বাশা' পত্রিকায় অজয় ভট্টাচার্যের অসংখ্য গদ্যপদ্য প্রকাশিত হয়েছে। একটি উপন্যাস লিখেছিলেন, অনুবাদও করেছিলেন একটি বইয়ের। ওঁর তিনটি কবিতার বইও (‘রাতের রূপকথা’ , ‘ঈগল ও অন্যান্য কবিতা’ এবং ‘সৈনিক ও অন্যান্য কবিতা’ ) প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু কবি হিসেবে তিনি সেরকম খ্যাতি পান নি। ওঁর গীতিকাব্যের সংকলন 'আজো ওঠে চাঁদ' এর ভূমিকায় সুখময় ভট্টাচার্য লিখেছিলেন, ' ‘রাতের রূপকথা’র রোম্যাণ্টিক কবি ধীরে ধীরে ঘোর বাস্তববাদী ও কতকটা সাম্যবাদীতে রূপান্তরিত হন পরবর্তীকালে।' ওঁর শেষের দিকের অনেক কবিতা কাব্যগুণ বর্জিত না হলেও বক্তব্যের বাহুল্যে ভারাক্রান্ত – জনপ্রিয় কবি না হয়ে উঠতে পারার সেটা একটা কারণ হতে পারে। অন্যভাবে চিন্তা করলে বলতে হয় গীতিকার হিসেবে যে অসামান্য খ্যাতি উনি অর্জন করেছিলেন, তার দীপ্তিতে ওঁর কবিখ্যাতি ম্লান হয়ে গেছে।

লেখা ও চলচ্চিত্রজগতের নানান কাজের মধ্যে ডুবে থাকলেও শিক্ষকতার দায়িত্ব উনি কিন্তু উপেক্ষা করেন নি। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিক্ষকটিকে ছাত্ররা পছন্দ করত। শুধু পড়ানো নয়, পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার দিকেও ওঁর দৃষ্টি ছিল। যাদের মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পাতেন, তাদের গড়ে তোলার জন্যে স্কুলের বাইরেও সময় দিতেন। কয়েক বছর আগে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ শঙ্কর সেন ওঁর স্মৃতিচারণ করছিলেন, " অজয়বাবু স্যার জাতীয় সংগ্রামে জয়প্রকাশ নারায়ণ, অরুণা আসফ আলী প্রমুখের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমাদের কয়েকজনকে তিনি তাঁর ছোটোখাটো কাজেও লাগিয়েছিলেন। আমার আজও মনে পড়ে যে ঢাকুরিয়া লেকে নিয়ে গিয়ে আমাদের নেতাজীর কথা, হলওয়েল মনুমেন্টের কাহিনী, আরও কত কথা আমাদের শুনিয়েছিলেন।"
অজয় ভট্টাচার্যের অন্যান্য প্রতিভার মূল্য পুরোপুরি বোঝার বয়স না হলেও ওঁর ছাত্রদের কাছে উনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, মানুষ গড়ার কারিগর। এই প্রতিবেদকের কাছে সেটাও ওঁর কম পরিচয় নয়।

অজয় ভট্টাচার্যের লেখা কয়েকটি গান এখানে দেয়া হল

১.
তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে। 
নিয়ে গেছ হায় একটি কুসুম 
আমার কবরী হতে।
নিয়ে গেছ হিয়া কী নামে ডাকিয়া 
নয়নে নয়ন দিয়া 
আমি যেন হায় ফেলে-যাওয়া-মালা 
কূলহারা নদীস্রোতে।
খেলাঘরে কবে ধূলির খেলায়
দু’টি হিয়া ছিল বাঁধা
আমার বীণাটি তোমার বাঁশিটি
একসুরে ছিল সাধা।
সে খেলা ফুরালো, সে সুর মিলালো,
নিভিলো কনক আলো;
দিয়ে গেছ মোরে শত পরাজয় 
ফিরে এস জয়রথে। 
___সুর ও শিল্পী -শচীন দেববর্মণ

২. 
 চৈত্র দিনের ঝরা পাতার পথে 
দিনগুলি মোর কোথায় গেল, বেলা-শেষের শেষ আলোকের রথে।।
নিয়ে গেল কতই আলো কতই ছায়া, 
নিল কানে-কানে-ডাকা নামের মনে-মনে-রাখা মায়া, 
নিয়ে গেল বসন্ত সে 
আমার ভাঙা কুঞ্জশাখা হতে।।
দূরে দূরে কোথায় আমার স্বপনখানি
কয়ে বেড়ায়, ‘এই তো আমি, 
প্রাণে প্রাণে চিরদিনের জানাজানি।।’
কোথায় আমার নয়ন-আলো
কোন প্রদীপের আলোর সনে কেমন করে সে মিলালো!
আবার সে কোন সুদূর বিপুল নভে 
অস্তপারের দিনগুলি মোর নূতন ঊষার আলো হয়ে রবে,
আমায় ওরা চিনবে না গো,
চিনবো না আর আমি কোন মতে।
___সুর ও শিল্পী- পঙ্কজ কুমার মল্লিক; ছায়াছবি – ডাক্তার

৩. 
ছিল চাঁদ মেঘের ওপারে বিরহীর ব্যথা লয়ে 
বাঁশরীর সুর হয়ে কে গো আজ ডাকিল তারে, ছিল চাঁদ 
ধরণীর ধুলি থেকে চামেলি এসে কহে ডেকে 
এস প্রিয় আমারই দ্বারে------ছিল চাঁদ 
চাঁদ কহে সুদূরে আমি মোর প্রেম জোছনা সে কেঁদে মরে তব বাসে 
ওগো ফুল কেমনে নামি ---- চাঁদ কহে সুদূরে আমি 
চামেলি কহিল তবে আমি যাই দূর নহি 
ঝরিল সে ঝরিল পথের ধারে, ছিল চাঁদ... ... 
___সুর হিমাংশু দত্ত, শিল্পী অনুপ ঘোষাল

৪. 
জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল। 
মুখপানে যার কভু চাওনি ফিরে, কেন তারি লাগি আঁখি অশ্রু ব্যাকুল
মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল জীবনে যারে কভু দাওনি মালা?

চিরদিন যারে তুমি দিয়েছো হেলা, হৃদয় লয়ে শুধু খেলোছো খেলা
বিরহে তারি আজি বলো গো কেন, শুন্য লাগে এই ধরণী বিপুল 
মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল, জীবনে যারে কভু দাওনি মালা।

আমিতো ছিলাম প্রিয় তোমারই কাছে, সেই বকুল তলে সেই চাঁদিনী রাতে
সেদিন কেন দিলেনাকো হায় যে মালাখানি ছিল তোমারই হাতে
মোর যত প্রেম মোর যত গান, চায়নিতো কভু কোনো প্রতিদান
আমি চিরতরে হায় যবে নিলাম বিদায় 
তুমি বুঝেবি কি গো তব হৃদয়েরও ভুল, মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল।।
____সুর হিমাংশু দত্ত, শিল্পী অনুপ ঘোষাল

৫. 
দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কি রে?
হাসবি তোরা বাঁচবি তোরা, মরণ যদি আসেই ফিরে।
অন্ধকারের শিশু তোরা আলোর তৃষায় মিছে ঘোরা,
আপন হৃদয় জ্বালিয়ে দিয়ে জ্বালবি সবার প্রদীপটিরে।।
তোদের প্রাণে বন্দি হয়ে কাঁদে ভুখা ভগবান।
মুখে তবু খেলার বাঁশি যখন বুকে রয় পাষাণ।
হেলায় হেসে নিলি মরণ তাইতো মরণ পেলো লাজ।
ধুলির সাথে মিশে তোরা সোনার মতো হলি আজ।।
এবার যে রে প্রভাত আসে, রাতের আঁধার গেল টুটে, 
ভোরের আলোর তিলক প’রে বাহিরপানে আয় রে ছুটে।
দুঃখ তোদের জয়ের মালা দুঃখ হলো মুকুট শিরে।
বাঁধন হলো হাতের রাখী মুক্তি এলো নয়ন-নীরে।।

৬. 
এ গান তোমার শেষ করে দাও নূতন সুরে বাঁধো বীণাখানি।
আঁধার পথে যাত্রা এবার, শেষ হয়েছে দিনের জানাজানি।।
কান্না হাসির দিনগুলো সব একে একে হলো নীরব,
চির রাতের অজানা সুর বাজাও তবে কঠিন আঘাত হানি।।
ডুবলো যদি একটি রবি জ্বললো দিনের চিতা
নিভলো যদি একটি বাতি, জ্বালাও দীপান্বিতা। 
বাঁধলে যারে যায় না বাধা তার লাগি আজ মিছেই কাঁদা,
পরাজয়ের দুঃখ কিরে, তার মাঝে রয় জয়ের আশার বাণী।।

৭. 
আমি ছিনু একা বাসর জাগায়ে
হৃদয়ের ব্যথা ছিল মিশে।
প্রদীপে শুধানু, ‘কিছু জান কি গো?’
শুধু সে কহিল, ‘সে যে মায়ামৃগ,
কিছু তার আলো কিছু ঢাকা ছায়ে।’ 
কহিনু কাঁদিয়া, ‘যে গান পাঠানু 
শুনিলো না সে কি?’
দ্বার খুলে দেখি সে গান আমার 
ফিরে এল এ কি!
কেতকী কহিল, ‘তারে কোথা পাই,
ফুটেছিনু পথে আজি ঝ’রে যাই, 
 দিয়ে যাই কাঁটা দিও তার পায়ে।।’ 
_____ শিল্পী - শচীন দেববর্মণ

৮. 
 আমার ব্যথার গানে তোমায় আমি
ছুঁয়ে গেলাম বারে বারে
কেমন ক’রে ভুলবে তারে।।
অশ্রু আমার বাদল হয়ে 
তোমায় কাঁদায় র’য়ে র’য়ে, 
আমার জ্বালা প্রদীপ হয়ে
জ্বলে তব অভিসারে।।

কণ্ঠমালায় হয় নি যে ঠাঁই
পথপারের কুসুম আমি, 
সুবাস দিয়ে তোমার পায়ে
জানাই প্রণাম দিবসযামী।
শেষ হয়েছে বিফল চাওয়া,
এবার শুধু এড়িয়ে যাওয়া,
যে নাম ছিল মনের মাঝে 
মুছে যাবে নয়নধারে।।

৯.
কথা কও দাও সাড়া;
শেষ রাগিণীর বীণ বাজে প্রাণে,
ফুটেছে বিদায়-তারা।
মনে পরে সব কাজে
তব মণিহার বিরহ রচিত
নিশীথ শয়ন মাঝে,
আজ কোথা তুমি কত দূরে আমি 
হিয়া মোর হিয়া ছাড়া।
আমার গানের একটি কথা যে 
ভালবেসেছিলে কত, 
শত গান আজি গাহি আর ভুলি 
ভুলি না তো ব্যথা যত।
আজো মোর মনে পড়ে 
আমার কাঁদনে কাঁদিয়াছ তুমি
তবু কেন গেলে সরে;
ভুল নিয়ে বুঝি হয়েছিল শুরু
ভুলে তাই হলো সারা।।

১০. 
সে নিল বিদায়
না-বলা ব্যথায়
আমি ছিনু অভিমানে
রজনীগন্ধা জানে
সে কেন তাহারে 
সাধিল না হায়!
ছিল মোর চোখে জল
দেখি নি যাবার আগে,
যূথী কেন কহিল না, -
‘যেও না, শপথ লাগে।’
পথে তৃণদল ছিল
সে কেন রে যেতে দিল,
ফুটিল না কেন নিঠুরের পায়।।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71