মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১লা কার্তিক ১৪২৫
 
 
কলকাতার সংলাপে আশায় বুক বাঁধতে চায় বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা
প্রকাশ: ১০:৩০ am ১৭-০৯-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:২১ am ১৭-০৯-২০১৮
 
কলকাতা প্রতিনিধি
 
 
 
 


কলকাতা থেকে:  সেপ্টেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের জন্য উদার হচেছ বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। কলকাতায় ইন্দো-বাংলাদেশ : কালচারাল সেন্টার ও গ্লোবাল মাইনোরিটি ভয়েসের আয়োজিত “ভারত-বাংলাদেশ সংলাপ ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র” শীর্ষক এক গোল টেবিল আলোচনা সভায় উভয় দলের নেতারাই হিন্দু-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের জন্য একরাশ প্রতিশ্রুতি দিলেন। বিএনপির প্রতিশ্রুতি, সংসদে আসন সংরক্ষণ ছাড়াও সংখ্যালঘু কল্যাণে তৈরি করা হবে পৃথক মন্ত্রালয়। আওয়ামী লিগের পাল্টা দাবি, শীঘ্রই রাষ্ট্রীয ধর্ম বাতিল করে ধর্মনিরপেক্ষতার পথে যাবে বাংলাদেশ।

রবিবার(১৬ সেপ্টেমবর) একাডেমি অব ফাইন আর্টসে সারাদিন ব্যাপী ‘ভারত-বাংলাদেশ সংলাপ : সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা চক্রের চারটি পর্যায়ে অংশ নেন ভারত-বাংলাদেশের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। এদিন প্রথম পর্যায়ে খন্দকার আহসান হাবিব এবং তৃতীয় পর্যায়ে ডাঃ কাজী মাঝহারুল ইসলাম দোলন বিএনপির পক্ষ থেকে বক্তব্য পেশ করেন। 

তাঁরা জানান, বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায এলে সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য ১০শতাংশ আসন সংরক্ষণ করবে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু কল্যাণের জন্য সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের নিযে গঠন করা হবে বিশেষ মন্ত্রালয়। ডাঃ কাজী মাঝহারুল ইসলাম দোলন তাঁর বক্তব্যের সময় আওয়ামীলীগের ২০০৯  থেকে বর্তমান  সময় পর্যন্ত শাসন আমলে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের তথ্য ভিত্তিক প্রমাণসহ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন- শুধু মাত্র বিএনপি’র  শাসনামলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের কথাই আপনারা জেনে এসেছেন কিন্তু যে দলটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজেদের ভোট ব্যাংক মনে করে আর আপনারা এখানকার অনেকেই তা বিশ্বাসও করেন তাদের বিশেষভাবে জানা ও বুঝার জন্যই আজকের আমার এ উপস্থাপনা।  আশা করি আপনাদের বুঝতে কষ্ট হবে না যে বর্তমান তথাকথিত সংখ্যালঘু বান্ধব সরকারের সময়ও এ সম্প্রদায় কিভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমার জানা মতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বর্তমান সরকারের সময় একটি নির্যাতনেরও বিচার পায়নি। তিনি আরো বলেন- এ ব্যাপারে যদি কারো মতবিরোধ থাকে তবে তিনি প্রামাণিক দলিল উপস্থিত করতে রাজি আছেন। 

ডা: কাজী মাঝহারুল ইসলাম দোলনের পালটা হিসাবে আওয়ামী লিগের সাংগঠনিক সম্পাদক-সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সংবিধানে প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম ছিল না। আমরা সংখ্যালঘুদের স্বার্থে শীঘ্রই সংবিধান পরিবর্তন করে বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসাবে ঘোষণা করতে আগ্রহী।’ দ্বিতীয় পর্যায়ে একই সুর শোনা গিয়েছে কৃষক লীগের শীর্ষ নেতা এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুলের বক্তব্যে এবং চতুর্থ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদিনের কণ্ঠে। 

আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশিস কুমার কুন্ডু, অধ্যাপিকা সাদেকা হালিম। সংখ্যালঘুদের পক্ষে এদিনের আলোচনায় সরব হয়েছেন হিন্দু সংগঠনের নেতা প্রদীপ হালদার, হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইডসুফ আবদুল্লাহ। 

এদিন গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, ‘জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা আয়োজন করার দাবি জানাচিছ।’ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনে ভারতের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রাক্তন গোয়েন্দাকর্তা গদাধর চট্টোপাধ্যায, প্রাক্তন সেনা কর্তা সমীর কুমার মিত্র, জাতীয় শিক্ষক জয়ন্ত কুমার রায, অধ্যাপক পঙ্কজ রায়, সাংবাদিক প্রীতম রঞ্জন বসু।

এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল ইন্দো-বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার, ইন্টার ন্যাশনাল কমিউনিটি ফর টেরর ফ্রি ওয়ার্ল্ড এবং গ্লোবাল মাইনরিটি ভয়েস। পর্যায়গুলিতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সমাজকর্মী অঞ্জন সেনগুপ্ত, বিশিষ্ট সাংবাদিক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায, সাংবাদিক রক্তিম দাশ ও সমাজকর্মী ওসমান গণি মল্লিক।

নি এম/রক্তিম 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71