শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
শুক্রবার, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
কলকাতায় আগাম দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
প্রকাশ: ০৮:৪৬ pm ০৩-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:৪৬ pm ০৩-০৫-২০১৭
 
 
 


প্রতিবেশী ডেস্ক: এবারও চমক! গত দু’বছর কলকাতা পুলিশ ও পুজোর কর্মকর্তাদের ঘুম কেড়ে নেওয়া দেশপ্রিয় পার্ক পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা সুদীপ্ত কুমার বলছেন, ‘‘আক্ষরিক অর্থেই চমক থাকবে।

যে চমকটা এবার দেব... একমাত্র দেশপ্রিয় পার্ক ছাড়া সেই প্যান্ডেলটা করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়।’’চ্যালেঞ্জ? অবশ্যই। লড়াই? অবশ্যই। কারণ, পুজোর বাকি মাত্র সাড়ে চার মাস।শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পুজো বলে পরিচিত নাকতলা উদয়ন সংঘ খুঁটিপুজো সেরে ফেলেছে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন। কার খুঁটির জোর কত, তা বোঝাতে শুরু হয়ে গিয়েছে ‘টিজারে’র লড়াই।দলবদলও শেষ। ঘটে যাচ্ছে পরিবর্তন। প্রচলিত চমক ছেড়ে এবছর ‘থিমে’র পথে চলেছে লেবুতলা পার্ক পুজো কমিটি (আনুষ্ঠানিক নাম সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার)। পুজো কমিটি সূত্রের খবর, ‘থিমে’র দায়িত্বে অমর সরকার। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত লেবুতলা পুজো কমিটির প্রধান উদ্যোক্তা প্রদীপ ঘোষ দাবি করতেন, তাঁদের থিমের দরকার হয় না।

পুরস্কারের দরকার পড়ে না। কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে লেবুতলা ‘অমর’ হয়ে থাকবে তাদের প্রতি বছরের চমকের জন্য। কিন্তু সেই দাবির প্রাসঙ্গিকতা ক্রমেই কমে এসেছে।তাই কি ‘পরিবর্তন’?লেবুতলার পাশাপাশি গৌরীবাড়ি সর্বজনীনও এবার অমরের হাত ধরে থিমের পথে। সল্টলেকের এফডি ব্লকও বিরাট আকারের স্থাপত্য ছেড়ে চিন্তা-ভাবনার পুজোর ভিড়ে ঢুকতে চলেছে বলেই পুজো কমিটি সূত্রের খবর। এখানেও সেই অমর।

তবে পরিবর্তনের পথে এখনও যাননি মন্ত্রীরা। অন্তত ‘বিশ্বকর্মা’দের বদল করেননি তাঁরা। নাকতলা উদয়ন সংঘের পুজোর প্রধান উদ্যোক্তা পার্থ, সুরুচি সংঘের পৃষ্ঠপোষক পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং পুরমন্ত্রী তথা চেতলা অগ্রণী সংঘের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ববি হাকিম এবারও গতবারের শিল্পীদের দিয়েই পুজোর কাজ করাচ্ছেন। 

নাকতলা উদয়নকে পাদপ্রদীপের আলোয় এনেছিলেন শিল্পী সুশান্ত পাল। মাঝে কয়েক বছর কাজ না করলেও গতবার ফের তিনি ওই পুজোর দায়িত্ব নেন। এক বছর পুরস্কারের খরা ছিল। গতবার ফের একটি সাবেকি পুরস্কার-সহ একাধিক পুরস্কারে প্যান্ডেল ভরিয়ে দিয়েছিলেন সুশান্ত। এবার তিনি ওই পুজোর ক্যাচলাইন দিয়েছেন, ‘মায়ের আশীর্বাদ, মাটির গন্ধ, মানুষের প্রাণ...। কেউ কেউ ওই ক্যাচলাইনে মা-মাটি-মানুষের ছোঁয়া পাচ্ছেন।

গত ছ’বছরের মতো এবারও অরূপ ভরসা রেখেছেন শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই। গত বছর একটি সাবেকি পুরস্কার হাতছাড়া হয়েছে তো কী হয়েছে? কয়েক বছরে সুরুচি পুরস্কারের যে রেকর্ড গড়েছে, তা তো সুব্রতের হাত ধরেই! তাই বিশ্বস্ত ‘বিশ্বকর্মা’র উপরেই এবারও দায়িত্ব। 

খুঁটিনাটি: গত বছর সুরুচি সংঘের পুজোয় অরূপ বিশ্বাস। —ফাইল চিত্র চেতলা অগ্রণীকে কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে চেনানোর কৃতিত্ব অনেকটাই ছিল শিল্পী ভবতোষ সুতারের। মাঝে দু’বছরের ছেদ। ফের গত বছর পুরনো ক্লাবে ফিরে এসে সাবেকি পুরস্কারের ধারা অব্যাহত রেখেছেন ভবতোষ। এবারে সাবেকি পুরস্কারের হ্যাট্রিকের হাতছানি। ভবতোষ কি ববিকে সেই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী করে তুলতে পারবেন? যা ইতিমধ্যেই পার্থ ও অরূপের পকেটস্থ।

বাকি শিল্পীরাও ইতিমধ্যে যে যাঁর মতো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি সেরে কাজে নেমে পড়েছেন। দক্ষিণের দু’একটি নামী ক্লাব ছাড়া মোটামুটিভাবে শিল্পী ঠিক করে নিয়েছেন সকলেই। টালিগঞ্জ, বাঘাযতীন, সন্তোষপুর এবং বেহালার চারটি পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন প্রশান্ত পাল। শিবশঙ্কর দাস যুক্ত রয়েছেন সন্তোষপুর, গড়িয়াহাট এবং ভবানীপুরের তিনটি পুজোর সঙ্গে। অনির্বাণ দাস এবার দায়িত্ব নিয়েছেন গড়িয়াহাট, ভবানীপুর, বড়িশা, দমদম এবং আলিপুর মিলিয়ে পাঁচটি পুজোর। শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যার ভাবনা এবার থাকবে মনোহরপুকুর, হরিদেবপুর, টালিগঞ্জ এবং বড়িশার চারটি ক্লাবের পুজোয়। পূর্ণেন্দু দে করছেন যাদবপুর, কেষ্টপুর এবং উল্টোডাঙার তিনটি পুজো।

বিমল সামন্ত দায়িত্ব নিয়েছেন হরিদেবপুর এবং ভবানীপুরের দু’টি পুজোর। শিল্পী রূপচাঁদ কুণ্ডু করছেন বেহালার একটি পুজো।
লড়াইয়ের ঝাঁজ বাড়াতে ‘টিজার’ প্রকাশ্যে এনেছে শহরের দু’একটি পুজো কমিটি। দক্ষিণের রাজডাঙা নবোদয় সংঘের চমক, ‘সুশান্ত স্কোয়ার’। পুজো কমিটির এক কর্তার কথায়, ‘‘এবছর আমাদের শিল্পী সুশান্ত পাল। পুজো কমিটির সভাপতি স্থানীয় কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ।’’ দক্ষিণের ৬৬ পল্লির ‘টিজার’, ‘৬৬.৬৭ এফএম’। উদ্যোক্তারা জানালেন, ৬৬ পল্লির পুজোর এবার ৬৭ বছর। ওই কারণেই...।

আর দেশপ্রিয় পার্ক? গত দু’বছর ওই পুজো কমিটির সঙ্গে বেসরকারি সংস্থার চুক্তি হয়েছিল। পুজো কমিটির নামের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবারও অবশ্যই ওই ধরনের কোনও সংস্থা যুক্ত হবে। সুদীপ্তের কথায়, ‘‘বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কথা চলছে। ভাল কিছু করতে গেলে টাকার প্রয়োজন।’’
‘ভাল কিছু’! লড়াই তো সবে শুরু।

এইবেলাডটকম/এবি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71