বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কাজলা রানী’র কান্নায় থমকে গেছে ঢাকা মেডিক্যাল
প্রকাশ: ১০:০৫ am ২৭-০২-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:০৫ am ২৭-০২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ছেলে শুভ সাহার (১৭) রক্তাক্ত নিথর দেহ নিয়ে মা কাজলা রানী সাহা প্রায় ২৭ কিলোমিটার পথ ট্রাকে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আসেন। নিজের আঘাত ভুলে ছেলেকে বাঁচানোর জন্য ছুটে আসেন হাসপাতালে। তবে ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি এই মা। হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসকরা জানান, আগেই শুভর মৃত্যু হয়েছে। এরপর থেকে মা কাজলা রানী সাহার কান্না আর থামছে না।

ছেলের রক্তেভেজা শাড়ী পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের মেঝেতে নির্বাক মা বসে আছেন। ঘটনার পর থেকে থামেনি তার চোখের পানি। কারও সান্ত্বনাই একমাত্র ছেলে হারানোর যন্ত্রণা কমাতে পারছে না।  

কাজলা রানী সাহাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্যরাসোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ত্রিবর্দী এলাকায় লরিকে ধাক্কা দিয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের সিডিএম ট্রাভেল পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন দশ জন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ চার জন রয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। যাদের মধ্যে এখনও তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কাজলা রানী সাহার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এলাকায়। এক সপ্তাহ আগে ছেলের সঙ্গে ছোট মেয়ে তাপসী রানী সাহার গাজীপুরের কালীগঞ্জের পূবাইলের বাসা দেখতে আসেন। মেয়ের বাসায় বেড়ানো শেষে চাঁদপুরে নিজেদের বাড়ি যাওয়ার জন্য আজ দুপুর ১২টার দিকে কাঁচপুর ব্রিজ থেকে মা ও ছেলে সিডিএম ট্রাভেল পরিবহনের বাসটিতে ওঠেন। বাসটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ত্রিবর্দী এলাকায় যাওয়ার পর সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরিকে ধাক্কা দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে বাসটির অধিকাংশ যাত্রী আহত হন। বাসের ভেতরে সিটে বসা ছাড়াও দাঁড়ানো যাত্রী ছিল। মা কাজলা রানী ও শুভ সাহাও দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর শুভ সাহাসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন। পথচারীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে রওনা হন। ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে আনা হয়।

আহত এক কিশোরীঘটনার পর শুভ সাহা বাসের ভেতর পড়ে ছিল। গুরুতর আহতদের সঙ্গে তাকেও ট্রাকে তোলা হয়। শুভর বুক, পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। ঘটনার পর সে আর চোখ খোলেনি। ছেলের সঙ্গে মাও ওই ট্রাকে ওঠেন। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক শুভকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শুভর ছোট বোনের স্বামী নিমাই সাহা বলেন, ‘শাশুড়ি (কাজলা সাহা) ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর আমি চলে আসি। আমার শ্বশুরের নাম গোপাল সাহা। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে শুভ সবার ছোট। আমার বাসায় বেড়ানো শেষে তারা বাড়িতে যাচ্ছিল।’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ত্রিবর্দী এলাকায় লরিতে ধাক্কা দেওয়ার আগে বাসটি একটি রিকশাকে চাপা দিয়ে আসে বলে জানিয়েছেন আহতরা। হাসান নামের আহত এক তরুণ বলেন, ‘লরিতে ধাক্কা দেওয়ার আগে একটি রিকশাকে চাপা দিয়ে আসে বাসটি। তখন যাত্রীরা সবাই চালককে ধীরে বাস চালাতে বললেও সে যাত্রীদের কথা শুনেনি। এরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটে।’

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম বলেন, ‘এখনও মামলা হয়নি। আমরা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছি। কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটলো, তা হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি আমরাও তদন্ত করবো।’ 

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71