সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
কাভার্ডভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে রিয়া বড়ুয়ার মৃত্যু
প্রকাশ: ০৯:৫৫ am ২৭-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৫৫ am ২৭-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


এক বান্ধবীর বিয়ে উপলক্ষে কয়েকজন বান্ধবীকে নিয়ে শপিং করতে গিয়েছিলেন নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী রিয়া বড়ুয়া (২২)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শপিং শেষে ফেরার পথে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় পৌঁছলে তাকে বহনকারী রিকশাটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। ছিটকে পড়ে যান রিয়া। কাভার্ডভ্যানটি থামল না, চালক রিয়ার মাথার ওপর দিয়েই চালিয়ে দিলেন গাড়িটি। মগজ ছিটকে পড়ল রাস্তায়। মুহূর্তেই সব শেষ। প্রিয় বন্ধু রিয়ার এমন মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছেন পেছনের রিকশায় থাকা তার বান্ধবীরা।

রিয়া পটিয়া উপজেলার ঊনাইনপুরা গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রাজীব বড়ুয়ার তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। কাভার্ডভ্যান চালক মোস্তফাকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। রিয়ার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ছুটে আসেন তারা। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না সকালে হাসিখুশি যে মেয়েটি ঘর থেকে বের হয়েছিল সে আর নেই। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ, সহপাঠীদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পাঁচলাইশ থানার এসআই আবদুল মোতালেব বলেন, রিয়াকে বহনকারী রিকশাটি ষোলশহরে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে আজিম কার্গো পরিবহনের একটি কাভার্ডভ্যান তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাটি আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেলে রাস্তায় ছিটকে পড়ে রিয়া। কাভার্ডভ্যানের পেছনের চাকা চলে যায় রিয়ার মাথার ওপর দিয়ে। এতে তার মাথার বামপাশ ও চেহারা পুরো থেঁতলে যায়। মগজ ছিটকে পড়ে রাস্তায়। মুহূর্তেই মৃত্যু হয় তার।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিয়ার লাশ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা কাভার্ডভ্যান চালক মোস্তফাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। চালক মোস্তফার বাড়ি নেত্রকোনার কালিয়াঝুরি এলাকায়। কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সময় কাভার্ডভ্যানটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলেও জানান এসআই আবদুল মোতালেব।

রিয়ার মাসি রূপালী বড়ুয়া বলেন, মেয়েটি ছিল অমায়িক। কোনোদিন কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ কিংবা কোনো কিছুতে ছিল না। শুধু পড়াশোনা করত। সন্ধ্যায় একটি টিউশনি করত। বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা মিলে কোনোমতে সংসার চলত তাদের। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। এক বোন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক।

রিয়ার দুলাভাই দিবস বড়ুয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এত মেধাবী ও ভালো মেয়ে হয় না। সব সময় হাসিমুখে থাকত। কখনও কারও কথায় বিরক্ত হতো না। তার কোনো বান্ধবী বিপদে পড়লে সবার আগে ছুটে যেত। ভাই না থাকায় আমাকে বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করত। রিয়ার মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না। তিনি বলেন, এভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও গাড়িচাপায় আর কত মৃত্যু হবে।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71