বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কালিহাতীতে হিন্দুদের জমি বেদখলের অভিযোগ
প্রকাশ: ০৯:০২ am ১৯-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:০২ am ১৯-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মগড়ায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের দেড় কোটি টাকার জমি বেদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। নেতারা ৬৫ শতাংশ জায়গায় সামনে ১৬ জনের নাম দিয়ে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছেন।

জিডি করেও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পাল সম্প্রদারের লোকজন। আওয়ামী লীগ নেতারা জমি বেদখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের খাস মগড়া গ্রামের সংখ্যালঘু সনত পাল, সমীর পাল, অনিমা পাল ও গায়ত্রী পালের মগড়া বাজারে উত্তরপাশে ৬৫ শতাংশ জমির সামনে একটি ছাপড়া ঘর এবং সাইন বোর্ড দেয়া হয়েছে। সাইনবোর্ডে দশকিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কোরবান আলী, আমানত আলী সরকার, সেলিম তালুকদার, মজিবর তালুকদার, আফাজ উদ্দিন ভুইয়া, ইসমাইল হোসেন ভুইয়া, রহিজ উদ্দিন মেম্বার, শফিকুল ইসলাম শফি, দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, আনোয়ার হোসেন আকন্দ, মতিয়ার রহমান ভুইয়া মেম্বার, আরিফুল ইসলাম আরিফ, জালাল উদ্দিন দুল্লু, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল কাশেম ও নাজমুল হাসানের নাম রয়েছে। এদের অধিকাংশ ব্যক্তিই আওয়ামী লীগের নেতা।

জমি দখলের অভিযোগে এনে সনত পাল বাদী হয়ে কালিহাতী উপজেলাধীন মগড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। 

সংখ্যালঘুরা জানান, বেদখলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও দশকিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ভুইয়ার আত্মীয়-স্বজন। জিডি করার পরও দেলোয়ার হেসেন, শফিকুল ইসলাম শফি, আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ভূমি দস্যূরা গভীর রাতে ওই জমিতে মাটি ভরাট করতে যান। এ সময় সনদ পালও সমীর পাল মাটি ভরাটে বাঁধা দিলে তাদের খুন করার হুমকি দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলে ভুমি দস্যুরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের মধ্যে বর্তমানে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই জানান ওই জমি বেদখল করার উদ্দেশ্যেই গভীর রাতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ও টিন দিয়ে ছাপড়া ঘর তুলেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। 

সনদ পাল বলেন, আমাদের জায়গা নিতেই তারা বিভিন্ন প্রকার হুমকি, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে মারতে আসে। মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে বলে মালুর বাচ্চারা যদি এ দেশে থাকতে চাস তাহলে মামলা তুলে মিমাংসা কর। আমরা এখন খুব আতঙ্কে আছি। ওরা খুবই শক্তিশালী।

দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক এম এ মালেক ভুইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি মিলে সনদ পালের ভাতিজা প্রদীপ পালের জমি কিনে নিয়েছে। রাতে মাটি ভরাটের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সনদ পালকে মিমাংসা করার জন্যে আমি ডেকেছিলাম। 

অভিযুক্ত দশকিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী মেম্বার বলেন, ওই জমির বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না তবে দেলোয়ার ও শফি ওরাই ভাল বলতে পারবে। 

রহিজ উদ্দিন মেম্বার বলেন, ওই সাইনবোর্ডে আমার নাম লেখা হয়েছে শুনেছি কিন্তু ওই জমির সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। 

অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রদীপ পালের নিকট থেকে আলম তালুকদার ৬৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে। আমরা আলম তালুকদারের নিকট থেকে ক্রয় করেছি।

টাঙ্গাইল কাগমারী এলাকার জবেদা আলীর ছেলে আলম তালুকদার বলেন, সনত পালের ভাতিজা প্রদীপ পালের নিকট আমার ৩০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা না দিতে পারায় প্রদীপ পালের ৬৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। প্রদীপ পাল তার ওয়ারিশের জমি আমার কাছে বিক্রি করেছে। শফিকুল ইসলাম শফি ৩ শতাংশসহ ১১ শতাংশ জমি আমার কাছ থেকে ক্রয় করে নিয়েছে। বাকি জমি ওরা বায়নাপত্র করেছে। 

কালিহাতীর মগড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই জমিতে গভীর রাতে শফিকুল ইসলাম শফির নেতৃত্বে মাটি ভরাট করতে যায়। পরে আমরা গিয়ে মাটি ভরাট বন্ধ করে দেই। এ বিষয়ে একটি জিডি করা হয়েছে।

বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71