বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কালীগঞ্জে বৃদ্ধা শিবানী দাসীর জীবন সংগ্রাম
প্রকাশ: ১০:৫০ pm ০৬-০৮-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:৫০ pm ০৬-০৮-২০১৮
 
কালীগঞ্জ প্রতিনিধি
 
 
 
 


মেয়ে অনিতা দাসীর জন্মের আড়াই বছর পর ছেলে রবীন দাস জন্ম গ্রহন করে। এর ৩ দিন পর দিনমজুর স্বামী মহাদেব দাস মারাত্বক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তখন থেকে আমাকে ওদের বাবা-মা উভয়ের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। শতকষ্টে ২ সন্তানকে লালন পালনে বড় করে বিয়ে দিয়েছিলাম। মনে করে ছিলাম সব কষ্টের অবসান হবে। কিন্ত ঘটেছে তার উল্টোটা। বর্তমানে আমার বয়স ৭০ পেরিয়ে গেছে। এ বয়সে এসে প্রতিদিন ছেলে রবীনের প্রতিবন্ধী সন্তান অন্তর দাসের হুইল ঠেলে বাঁচতে হচ্ছে। বয়সের ভার আর অসুস্থতায় শরীরে এখন শক্তি নেই। সারাদিন হুইল ঠেলি আর মনে করি এর চেয়ে মরলেই মনে হয় শান্তি পাবো। কিন্ত সেই শান্তি নগর আর কত দূর ? আর আমি শান্তি নগরে চলে গেলে (মারা গেলে) তখনঅ ন্তরেরইবা কে দেখবে ? কথা গুলো বললেন কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে বসবাসকারী অসহায় বৃদ্ধা শিবানী দাসী। 

বৃদ্ধা শিবানী দাসী চোখের পানি ফেলে বলেন, এক সময় আমার সবই ছিল কিন্ত এখনকিছুই নেই। নিশ্চিন্তপুর গ্রামের রনজিৎ দাসের পতিত জমিতে প্রতিমাসে ১’শ টাকার চুক্তিতে মাটি ভাড়া নিয়ে ঝুপড়ি ঘর বেধে বসবাস করছি। এখন আমি পথের ভিখারী। মানুষের কাছে হাত পেতে বেঁচে আছি। 
তিনি বলেন, আমার ছেলের সন্তান অন্তরের জন্মের ৩ বছর পর তারমা স্বামীসন্তান ফেলে চলে যায়। তখন থেকে অন্তরের দেখা শুনার আর কেউ রইল না। অন্তর কথাও বলতে পারে না। দাঁড়াতেও পারেনা। পরে ছেলে আবার বিবাহ করলেও সে বউমা আমাদের ছেড়ে বাবা বাড়িতে থাকে। ফলে অন্তরের শেষ ভরসা এখনআমিই। প্রতিদিন হুইল চেয়ারে করে শহরে ঘুরেমানুষের কাছে হাত পেতে যা পাই তা দিয়ে চলতে হয়। সরকারী ভাতা পাই কিন্ত তা দিয়ে ২ জনের ঔষধ কিনে আর পয়সা থাকে না। 

অতীতের স্মৃতিচারন করে বৃদ্ধা শিবানী বলেন, কার কপালে কি আছে বলা যায় না। আমার বাবা উপজেলার সাদিকপুরগ্রামের গিরীন দাস ছিলেনএকজন স্বচ্ছল কৃষক। তিনি আমাকেও বিয়ে দিয়েছিলেন কৃষক পরিবারে। এদিকে বাবা বাড়িতে হঠাৎ আগুন লেগে জমির দলিল সহ মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ছাইহয়ে গেল। ওই বছরই দেশে শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। সে সময়ে নিজের জীবন বাঁচাতে বাবার বাড়ির সবাই শরনার্থীদের সাথে চলে গেলেন ভারতে। এর অল্প কিছু দিন পরেই সেখানে বাবা মারা যাওয়ার পর এখানকার সম্পত্তি সব বেহাত হয়ে যায়। ফলে আমি সবক’লহা রিয়ে ফেললাম। জীবনে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের মাধ্যমে ২ সন্তান বড় করেও কপাল দোষে এ বয়সে এখন ছেলের প্রতিবন্ধি ছেলে রহুইল চেয়ার ঠেলে মানুষের নিকট হাত পেতে বাঁচতে হচ্ছে। 

প্রতিবেশীজিতেন্দ্রনাথ দাস জানান, প্রায় এক যুগেরও বেশিসময় ধরেএ ভাবে প্রতিবন্ধী অন্তরের হুইল ঠেলছে শিবানী। অন্তরের বয়স বর্তমান ১৭ বছর। এখনতার দৈহিকওজনও বেড়েছে। ফলে বৃদ্ধা শিবানীর পক্ষে তার হুইল ঠেলা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও সে প্রতিবন্ধীকে বাঁচাতে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। শিবানী এ বয়সে এসে এক প্রতিবন্ধীর জন্য যে কষ্ট করছেন তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়। 

প্রতিবেশী সাধন কুমার দাস জানান, এ প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে নিয়ে বৃদ্ধা শিবানী দীর্ঘ দিন ধরে কষ্ট করছেন। বাবাহারা ২ ছেলে মেয়েকে লালন পালন করেছেন। এখন করছেন ছেলের প্রতিবন্ধী সন্তানকে। বয়সেরভারে শিবানী এখন নিজেই অসুস্থ। তারপরও প্রতিবন্ধী অন্তরের হুইল চেয়ার ঠেলছেন এটামহল্লারবাসীর নিকট আশ্চর্য লাগে। প্রতিবন্ধীঅন্তরকে দেখলে যেমন কষ্টলাগে তেমন কষ্ট লাগে বৃদ্ধা শিবানীর কষ্টকরে হুইল চেয়ার ঠেলে বাজারেআসা দেখলে। 

নি এম/মানকি ঘোষ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71