বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯
বুধবার, ১২ই আষাঢ় ১৪২৬
 
 
কালের স্বাক্ষী ভরত চন্দ্র দাতর্ব্য চিকিৎসালয় সংরক্ষণের দাবী
প্রকাশ: ০৪:৩৯ pm ১২-১২-২০১৮ হালনাগাদ: ০৪:৩৯ pm ১২-১২-২০১৮
 
খুলনা প্রতিনিধি
 
 
 
 


অ-বিভক্ত ভারতের ইতিহাস ঘেরা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ভরত চন্দ্র দাতর্ব্য চিকিৎসালয় আজ ভূতুড়ে বাড়ী। বর্তমানে খুলনার কয়রা উপজেলার সিমান্তে শুড়িখালীস্থ এ দাতর্ব্য চিকিৎসালয় দেখভাল ও তদারকির অভাবে চুরিসহ নষ্ট হচ্ছে অনেক মূল্যবান সম্পদ। অরক্ষিত হওয়ায় সম্পত্তি বেহাত সহ ভবনের মূল্যবান শাল, সেগুন, লোহা কাঠের কড়েঁ বর্গা চুরি হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী ঐতিহ্যবাহী এ দাতর্ব্য চিকিৎসালয়টি সংস্কার করে কালের সাক্ষী স্বরূপ সংরক্ষণের দাবী জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বৃট্রিশ আমলে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কথা ভেবে তৎকালীন খুলনার পাইকগাছা বর্তমানে কয়রা উপজেলার হাতিয়ারডাঙ্গার জমিদার শরদা চরন বাছাড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য ২একর ৪১শতক জমি দান করেন। এর প্রেক্ষিতে দু'উপজেলা সিমান্তের এ জমিতে গড়ইখালী ইউপির পাতড়াবুনিয়ার গাতিদার লক্ষন চন্দ্র মন্ডল সরকারের কাছে তাঁর পিতার নাম করনে ‘ভরত চন্দ্র মন্ডল দাতর্ব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। 

সূত্র মতে বিষয়টি নিয়ে ১৯৩৮সালে ১৬ ফেব্রয়ারী জেলা বোর্ডের সভায় উর্ত্থাপন হলে তা একই সনে ২০ ফেব্রয়ারী রেজুলেশন আকারে ‘ভরত চন্দ্র দাতর্ব্য চিকিৎসালয়ের অনুমোদন মিললে জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নামে চিকিৎসালয়ের জন্য কলিকাতার তৎকালীন রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ায় ৮হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। এর পর বৃট্রিশ সরকার এ স্থানে চিকিৎসকদের আবাসন হলরুম সহ দর্শনীয় ৫ কক্ষের ১৫ ইঞ্চি চওড়া দেওয়াল বিশিষ্ট চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম শুরু করেন। এ ছাড়া পানীয় জলের জন্য একটি পুকুর খনন করা হয়। পরবর্তীতে জমিদার শারদা চরণ বাছাড় ১৯৩৯ সালে এ সম্পত্তি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৭৭নং দলিলমূলে রেজিঃ করে দেন। ইতিহাস পর্যালোচনা মতে, দাতর্ব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাপক সুফল মেলে এবং ডা. বীরেন্দ্র নাথ গুহ'র মত অনেক বরনীয় চিকিৎসক, নার্স এখানে কর্মরত থাকাবস্থায় ১৯৪৫ সালে ৫ ফেব্রয়ারী তৎকালীন ডিসি জেমস জজ, লেডি জজ, জেলা বোর্ড সদস্য (জেলা পরিষদ) রায় সাহেব কালী চরন মন্ডল ও খান সাহেব কোমর উদ্দীন আহম্মেদ একই সাথে চান্নিরচক লক্ষন চন্দ্র হাইস্কুল বর্তমানে চান্নিরচক এলসি কলেজিয়েট স্কুল ও ভরত চন্দ্র দাতর্ব্য চিকিৎসায় পরিদর্শন করেন। 

জানা গেছে পরবর্তীতে বৃট্রিশ বিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ পাকিস্থান আমলের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের উদাসীনতায় দাতর্ব্য চিকিৎসালয়ের কার্য্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর পর আলোর মুখ না দেখলেও দাতর্ব্য প্রতিষ্ঠানটি রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ভূতুড়ে বাড়ীতে পরিণত হয়েছে। ভনের অনেক মূল্যবান সম্পদ চুরি হয়ে যাচ্ছে। ২.৪১ একরের জমির মধ্যে বর্তমান জরিপে ১.৯৪ একর সম্পত্তি চিকিৎসালয়ের অনুকূলে জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড হয়েছে। কে বা কারা দখলে নিয়েছেন এ নিয়ে এলাকার মানুষ মুখ না খুললেও রায় সাহেব কালী চরন মন্ডলের বড় ছেলে ভবতোষ মন্ডল সহ অনেকেই সরকারের কছে সম্পত্তি উদ্ধার ও কালের স্বাক্ষী এ ভবনটি সংস্কার করে সংরক্ষণের দাবী করেছেন।

চান্নিরচক এলসি কলেজিয়েট স্কুলের সভাপতি অমলেন্দু বাছাড়, অধ্যক্ষ রাজীব বাছাড় জানান, এ সম্পত্তিতে বর্তমান সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক ও সুপেয় পানীয় জলের জন্য ৫৩ লাখ ৬৮৬ টাকা ব্যয়ে পুরনো পুকুরটি খনন করেছে। সম্পত্তির অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা বলেন, এটা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষই ভাল বলতে পারবেন।

নি এম/মহানন্দ 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71