শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮
শনিবার, ৬ই শ্রাবণ ১৪২৫
 
 
কাশ্মীরে আছে বাংলাদেশ নামের একটি  গ্রাম
প্রকাশ: ০৮:৫৭ pm ১৭-০১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:৫৭ pm ১৭-০১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


কাশ্মীরের সৌন্দর্য বর্ণনা দিতে গিয়ে অনেকেই আবেগে বিহ্বল হন। কাশ্মীর নিয়ে উন্মাদনা তো কম হয় না। এখন তো বাংলাদেশি অনেক পর্যটকদেরও অন্যতম প্রিয় জায়গা এই কাশ্মীর। কিন্তু বাংলাদেশিরা কি জানেন, পৃথিবীর ভূস্বর্গ খ্যাত এশিয়ার সুইজারল্যান্ড কাশ্মীরেও আছে এমন এক টুকরো গ্রাম, যার নাম বাংলাদেশ!

কাশ্মীরের ২২ টি জেলা সর্বমোট। শ্রীনগর থেকে ৮০ কি.মি উত্তর দিকে গেলে যে জেলা পড়বে তার নাম বান্ডিপুরা। এই বান্ডিপুরা জেলার আলুসা তহশিলে একটি গ্রামের নাম বাংলাদেশ। বিখ্যাতউলার হৃদের তীরে ভাসমান এই গ্রামে বাইরের মানুষ খুব একটা যান না অবশ্য। বান্ডিপুরা-সোপুরের মধ্য খান দিয়ে মাটির রাস্তা ধরে পাঁচ কিলোমিটার হাটলেই এই গ্রামটি দেখা যাবে।

কিন্তু কেন “বাংলাদেশ” হলো এই গ্রামের নাম? আপনি জেনে অবাক হবেন, কাশ্মীরের এই গ্রামটির সাথেও ১৯৭১ এর যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৭১ সালে জুরিমন নামক এক গ্রামের ৫-৬টি ঘরে আগুন লাগে। আগুনের শিখায়জ্বলে পুড়ে যায় ঘরগুলো। গৃহহীন হয়ে পড়েন নিরীহ সাধারণ এই মানুষগুলো। তারা তখন পুড়ে যাওয়া জায়গা থেকে কিছুটা দূরে পার্শ্ববর্তী ফাঁকা জায়গায় সবাই মিলে ঘর তোলেন। সেই বছরই ডিসেম্বরে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই একই সময় গৃহহীন মানুষগুলো দুঃসময় মোকাবেলা করে শুরু করেন তাদের নবজনম। তাই তারাও তাদের নতুন গ্রামের নাম রাখেন বাংলাদেশ। উলার হৃদের তীরে এই গ্রামটি সৌন্দর্যে কিন্তু কম যায় না! চারদিকে জল, পেছনে সুউচ্চ পর্বত, সব মিলিয়ে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই গ্রামটির। কিন্তু, নাগরিক কিছু সাধারণ সুবিধা এখনো ঠিক ঠাক ভাবে পৌঁছে না গ্রামবাসীর কাছে। ভিনদেশী মানুষ তাদের কাছে আশ্চর্য এক ব্যাপার। বাইরে থেকে সচরাচর কেউ যায় না সেখানে। তাই হটাত কেউ গেলেই তারা খুব অবাক এবং আশ্চর্য হয়।

যদিও তারা গ্রাম হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে বেশিদিন হয়নি। বান্ডিপুরার ডিসিঅফিস ২০১০ সালে এই বাংলাদেশ নামক গ্রামটিকে আলাদা গ্রামের মর্যাদা দেন। ৫/৬ ঘর থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ গ্রামে এখন আছে পঞ্চাশেরও বেশি ঘর! যদিও এই প্রজন্মের অনেকে গ্রামটির জন্ম ইতিহাস জানেন না। মাছ ধরা মূলত প্রধান জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম তাদের। পাশাপাশি পানি বাদাম সংগ্রহ করাও গ্রামবাসীর অন্যতম প্রধান কাজ। ভাসমান এই গ্রাম, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, কাশ্মীর সব মিলিয়ে যেন আশ্চর্য কাকতালীয় যোগাযোগ! কোথায় যেনো একটা মায়া কাজ করে শুনলে, বিশেষ করে যে গ্রামটির জন্ম একাত্তরে, যে “বাংলাদেশ” গ্রামটি জন্মেছিলো স্বাধীন বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটি জন্মের বছরে! 

আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71