বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কাহারোলে নিহত ধন্যরামের মাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান
প্রকাশ: ০৮:৫০ am ১৬-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:৫০ am ১৬-০৭-২০১৭
 
 
 


শুক্রবার বিকালে নিহত ধন্যরাম পরিবারকে নগদ ২৫০০০ হাজার টাকা আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন বাংলাদেশ মাইনোরটি রাইটস্ এলাইনস্ টোরেন্টো কানাডা(BMRA)এবং রিচার্স এন্ড আম্পায়ারম্যান্ট অরর্গানাইজেশন(REO)। সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর রিওর জেলাপ্রতিনিধি উত্তম কুমার রায়,সুজন কুমার রায়, বিপ্লব মজুমদার, পঙ্কজ কান্তি রায়, সাধন দে, মিঠুন রায় সহ রিওর অনান্য সদস্যবৃন্দ।

উল্লেক্ষ্য, রিওর প্রতিনিধিরা বিকাল সাড়ে ৪টায় বিড়লী গেলে মৃত ধন্যরামের মা পারনা বালা কান্নায় ভেংঙ্গে পড়েন,ব্যানারে নিহত ধন্যরামের ছবিটি বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি আর্তনাত করে বলেন, আজ প্রায় ১মাসের বেশী হলেও কেন সব আসামীরা ধরা হচ্ছে না গো বাবারা। আমি কি আমার ছেলের সুবিচার পাবনা? 

কাহারোল থানা কর্মকর্তা মনসুর আলীকে ফোনে কথা বলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কাহারোল উপজেলা প্রতিনিধি প্রভাস রায়। ফোনালাপে মনসুর আলী বলেন, এই মাসের মধ্যে সমস্ত আসামীকে আইনের আওতায় আনব।

 ২জুন শুক্রবার বিকাল আনুমানিক ৪টার সময় দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলাধীন বিরলী গ্রামের গরীব-মজুর পারনা বালার আমন ধানের বীচন ক্ষেতে পূর্ব পরিকল্পিত নীল নক্সা অনুযায়ী পার্শ্ববতী তারাপুরের ফজল আলীর ছেলে শাহজাহান আলী গরু দিয়ে খাওয়ায়। এব্যাপারে পারনা বালা রায় গরু আনতে গেলে বীচনতলায় তারাপুর গ্রামের ফজল আলীর ছেলে শাহজাহান আলী পারনা বালার চুল ধরে মারডাং শুরু করে, তার শাড়ী ধরে টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানির অপচেষ্টা করে। মায়ের কান্না ও চিৎকার শুনে এমন পরিস্হি দেখে পুত্র ধন্যরাম তার মাকে রক্ষা করতে ছুটে যায়। কিন্তু শাহজাহান ধন্যরামকে হত্যার উদ্দেশে বাঁশের খুটি দ্বারা আঘাত করার অপচেষ্টা করলে ধন্যরাম দৌড়ে পলায়ন করে বাড়ীতে ফিরে আসে।

কিছুক্ষণ পরে শাহজাহান আলী(৩৪) তার ভাই (২)আবুল কালাম(৪৩), (৩)জব্বার(৪৮), (৪)আবুল বাশার(৩৮) এবং শাহজাহানের মামা (৫)তাজুল ইসলাম(৫৫) ও তার মামাত ভাই (৬)আনু(৩০)কে সঙ্গে নিয়ে দল বেধে মৃত নন্দীরাম রায়ের ও স্বামীহারা পারনা বালা রায়ের একমাত্র পুত্র ধন্যরামকে হত্যার উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যায় পার্শ্ববতী তরলা আদিবাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর কোনে ভূট্টা ক্ষেতে। সেখানে তারা সকলে মিলে লাঠি দিয়ে তার ঘাড়ে ও অন্ডকোষে মারডাং করে। লাঠির আঘাতে তার(ধন্যরাম) অন্ডকোষ ফেটে যায় ও রক্ত ঝরে। অজ্ঞান অবস্হায় সন্ধ্যে প্রায় ৭টার সময় ঘটনাস্হল থেকে পারনা বালা ও পাশের বাড়ীর সোহেল নামে জনৈক ব্যক্তি ধন্যরামকে উদ্ধার করে কাহারোল থানা কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। থানা হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার ধন্যরামকে মৃত বলে ঘোষনা করে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য শাহজাহানের চাচা শ্বশুর বর্তমানে ৪নং তাড়গাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সহযোগী হিসেবে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থের লোভে ধন্যরামের লাশ তদন্তকারী এসআই সুরত চন্দ্র রায় মিথ্যা ও বানোয়াট রিপোর্ট থানায় প্রদান করে। আবার জীবন বাঁচার তাগিদে গত ১২জুন তারিখে বদলী নিয়ে কোতয়ালী থানায় চলে যান। আসামীপক্ষ মৃত ধন্যরামের একই উপজেলাধীন পরমেশ্বরী গ্রামের কাকা বিশুরাম রায় পিং-মৃত তারিনী-কে কাহারোল থানায় নিয়ে এসে গত ৩জুন তারিখে অপমৃত্যুর আবেদন করিয়ে নেন। যার কাহারোল থানার অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা নং-১৫,তাং-০৩/০৬/২০১৭।

কাহারোল থানা ইনচার্জ কোন মামলা গ্রহন না করায় বাদী হয়ে মৃত ধন্যরামের মা পারনা বালা রায় গত ১৯জুন ছেলে হত্যার খুনীদের তারাপুর গ্রমের ফজল আলীর ছেলে (১)শাহজাহান আলী(৩৪), (২)আবুল কালাম(৪৩), (৩)জব্বার(৪৮), (৪)আবুল বাশার(৩৮) এবং শাহজাহানের মামা (৫)তাজুল ইসলাম(৫৫) ও তার মামাত ভাই (৬)আনু(৩০)কে বিবাদী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে একটি মামলা দায়ের করেন গত ১৫জুন।

২৩জুন শুক্রবার চানচঞ্চল্যকর ধন্যরাম রায়ের হত্যকারী খুনিদের ফাঁসীর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসীসহ মানববন্ধন, পথসভা ও থানা ঘেরাও কর্মসুচি পালন হয়।২৭জুন মঙ্গলবার রাতে প্রধান আসামী শাহজাহান আলীকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

২৮জুন বুধবার দুপুর ১১টায় বিরলী ইদগা ময়দানে এক সন্মিলিত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন সাবেক নেপাল রাষ্ট্রদূত নিম চন্দ্র ভৌমিক। থানা ইনচার্জ মনসুর আলী সরকার পক্ষে মামলা গ্রহন করে প্রধান আসামীকে আদালতে সোর্পদ করেন। যার মামলা নং- ০৮/৪৯; তাং-২৮/০৬/২০১৭। ২৯জুন বৃহস্পতিবার বিকালে ভারতীয় হাই কমিশনার সহকারী অজয় কুমার মিত্র মৃত ধন্যরামের শোকাহত মা পারনা বালা রায়কে সমবেদনা জ্ঞাপন ও শান্তনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, আমি প্রেস দিতে আসিনি।আমি এসেছি দুষ্কৃতকারী কর্তৃক নিহত ধন্যরামের মায়ের খবর নিতে।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71