বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট দিয়াস-কানেল
প্রকাশ: ১১:৫৭ am ২০-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:৫৭ am ২০-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বিশ্বে একমাত্র কমিউনিস্ট রাষ্ট্র কিউবায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৫৭ বছর বয়সী সাবেক তড়িৎ প্রকৌশলী ও রাউল কাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিগুয়েল মারিও দিয়াস-কানেল। দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটির এক দিন পর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

৮৬ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর স্থলাভিষিক্ত হলেন দিয়াস-কানেল। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ছয় দশকের কাস্ত্রো পরিবারের শাসনের অবসান হলো দেশটিতে। এমন এক সময় কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটির দায়িত্ব নিলেন দিয়াস-কানেল, যখন বিশ্বে নতুন করে স্নায়যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই তাঁকে রাউল কাস্ত্রোর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বেসরকারীকরণ সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং পরিবর্তনকামী নতুন প্রজন্মের দাবির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি নিজেও কিউবার আধুনিকায়নে বিশ্বাসী। তবে কঠোর কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী এই নেতার হাত ধরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৩ সাল থেকে দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

১৯৫৯ সালে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর পদত্যাগের পর ২০০৬ সালে কিউবার নেতৃত্ব নেন তাঁর ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রো। স্বেচ্ছায় রাউল কাস্ত্রো পদত্যাগের ঘোষণা দিলে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তবে কিউবার ক্ষমতার রাশ এখনই আলগা করছেন না রাউল কাস্ত্রো। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান (ফার্স্ট সেক্রেটারি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আর কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান থাকা মানে সংবিধান অনুযায়ী তিনিই হবেন ‘সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রধান অভিভাবক’। ফলে রাউলই কিউবার সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবেই থেকে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দিয়াস-কানেল তাঁর বক্তৃতীয় বলেন, রাউল কাস্ত্রো কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান থাকছেন।

৮৬ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো এখনো কর্মক্ষম এবং স্পষ্টত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। কিন্তু নতুন নেতারা যেন অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও তরুণ প্রজন্মের হতাশা দূর করতে পারে এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

গত বুধবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে দিয়াস-কানেলকে একক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই কেবল বাকি ছিল। ওই দিন ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়াও কাউন্সিল অব স্টেটের ৩১ জন সদস্য নির্বাচনেও ভোটাভুটি হয়। দিয়াসের পক্ষে ৬০৪টির মধ্যে ৬০৩টি ভোট পড়ে।

রুপালি চুলের অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতা দিয়াস-কানেল কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন। তিনি দলটির পলিটব্যুরোর সদস্য। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনিই হলেন দ্বীপ রাষ্ট্রটির প্রধান নেতা, যিনি ১৯৫৯ সালের কিউবা বিপ্লবের পর জন্মগ্রহণ করেছেন। কঠোর পরিশ্রমী, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনকারী এবং সরকারি সেবায় নিজেকে উৎসর্গকারী এক ব্যক্তি হিসেবে দেখে আসছে দেশবাসী। তবে তিনি গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে।

বৃহস্পতিবার ১৯৬১ সালের পিগ উপসাগর আক্রমণের বার্ষিকীতে কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন দিয়াস-কানেল। ৫৮তম জন্মদিনের এক দিন আগে তিনি এ দায়িত্ব পেলেন। আজ ২০ এপ্রিল তাঁর জন্মদিন।

দিয়াস-কানেলকে একজন অ-ক্যারিসমেটিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তিনি কিউবার সরকারকে জনগণের প্রতি আরো বেশি সংবেদনশীল করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত মার্চে পার্লামেন্টে নির্বাচনের পর এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলব। যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁদের অবশ্যই জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে, মানুষের কথা শুনতে হবে, তাদের সমস্যা জানতে হবে এবং তাদের বিতর্কে উৎসাহিত করতে হবে।’

দিয়াস-কানেল ১৯৬০ সালের ২০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৩ সালে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে তিনি কাউন্সিল অব মিনিস্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০১৩ সালে কাউন্সিল অব স্টেটের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। 

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71