শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
কিডনিতে পাথর ,অবহেলা নয়
প্রকাশ: ১০:৩৩ pm ০৩-০৭-২০১৫ হালনাগাদ: ১০:৩৩ pm ০৩-০৭-২০১৫
 
 
 


স্বাস্থ্য ডেস্ক :  কিডনিতে পাথর হলে তা খুবী কষ্টকর এবং বেদনাদায়ক । কিডনিতে কেন পাথর হয়, কেমন এই পাথর আর কীভাবেই বা এ সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আর একটু সচেতন হওয়া এবং কিছু পরামর্শ মেন চললে আপনি অনেকটা দূরে থাকবেন কিডনি পাথর থেকে । তাই জেনে নিন কিডনি পাথর এবং এর প্রতিকারের বিভিন্ন তথ্য ।

কিডনির পাথর
কিডনির রোগগুলোর মধ্যে পাথরজনিত রোগই সবচেয়ে বেশি। তাই কিডনিতে পাথর হওয়া বা হলে সেই কষ্টের কথা শোনেননি, এমন মানুষের সংখ্যা বোধহয় কম৷ খনিজলবণ এবং অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে কিডনির পাথর তৈরি হয় । তবে পাথর হয়ে থাকে নানা কারণে৷ প্রস্রাব ঘন বা গাঢ় হলে খনিজগুলোকে দানা বাঁধতে সহায়তা করে বিভিন্ন উপাদান ।

বোঝার উপায়
কিডনির মধ্যে পাথর খানিকটা বড় হয়ে যখন বিচরণ করতে থাকে তখনই ব্যথা বাড়ে৷ তবে এমন পাথরও আছে যেগুলো চুপচাপ বসে থাকে৷ তাই শুধুমাত্র এক্সরে এবং আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমেই ধরা পড়ে এগুলি৷ এক্ষেত্রে ডাক্তাদের পরামর্শ, ব্যথা না করা পর্যন্ত নিয়মিত চেকআপ করানোর৷ তাছাড়া আরও কিছু লক্ষণ যা কখনো অবহেলা করা যাবে না ।

পেটে ব্যথা
কিডনিতে জমে থাকা পাথর যখন আস্তে আস্তে মূত্রনালিতে চলে আসে, তখনই ব্যথা এবং অন্যান্য সমস্যা শুরু হয়৷ সাধারণত প্রস্রাব করার সময় হালকা ব্যথা হয়ে থাকে, এমনকি ছোট ছোট পাথরগুলো বের হয়েও আসতে পারে৷ তবে বড় পাথর মূত্রের রাস্তায় আটকে গিয়ে ‘রেনাল কলিক’ হতে পারে৷ এতে পেটে অসম্ভব ব্যথা হয়৷ সাথে বমি, ঘেমে যাওয়া, জ্বর ইত্যাদি হতে পারে৷ এমন হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে৷

পানি পান ও শরীরচর্চা
রোগী যদি বুঝতে পারেন যে তাঁর প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা খোঁচা লাগছে, তাহলে ইউরোলজিস্ট-এর কাছে যেতে হবে। তিনি রক্ত, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং আলট্রাসাউন্ড করার পর আপনাকে জানাবেন, কোন ধরনের পাথর হয়েছে এবং কী চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন৷ তবে চার মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের পাথর হলে, তা নিজে থেকে চলে যেতে পারে৷ অবশ্য এর জন্য রোগীকে নিয়মিত যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান ও শরীরচর্চা করতে হবে৷

আর যদি হয় বড় পাথর
কিডনির পাথরে সাইজ যদি সাত মিলিমিটারের বেশি হয়, তাহলে সেটা নিজে থেকে বের হতে পারে না৷ সেক্ষেত্রে লেজার, এন্ডোসকোপি বা বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পাথর গুড়ো বা ভেঙে ফেলা সম্ভব৷ এছাড়া খাবার-দাবারে পরিবর্তন এবং নানা রকম ওষুধের সাহায্যেও পাথর গলানো যায়, তবে সেটা সময়সাপেক্ষ৷ বলা বাহুল্য সব পাথর একই পদার্থের হয় না৷ তাই পাথরভেদে ওষুধ বা চিকিৎসার আশ্রয় নিতে হয়৷ 

সচেতনতা 

সচেতনতা না বাড়ালে পাথর থেকে ডাক্তারও আপনাকে মুক্তি দিতে পারবে না। কিডনিতে যাতে পাথর না হয় এবং যাঁদের পাথর বের করে ফেলা হয়েছে তাঁদের আবার যেন নতুন করে তেমনটা না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে৷ শুধু তাই নয়, তাঁদের জীবনযাত্রার মানেও পরিবর্তন আনতে হবে৷ সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহরবাসীদের কিডনিতে পাথর বেশি হয়ে থাকে, বিশেষ করে যাঁরা সারাদিন বসে কাজ করেন৷ তাই হাঁটাচলা খুবই জরুরি৷

পরামর্শ
ইউরোলজিস্ট-এর পারামর্শ, অতিরিক্ত লবণ, লাল মাংস এবং চর্বিজাতীয় খাবার কম খেয়ে শাক-সবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া দরকার৷ পাশাপাশি প্রয়োজন হাঁটাচলা এবং শরীরচর্চা৷ তাছাড়া কিডনিতে কোনো সমস্যা মানেই প্রচুর পানি পান করতে হবে৷ একমাত্র তবেই কিডনিতে পাথর হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না৷

এইবেলা দতকম/এন এইচ 
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71