শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
শনিবার, ৪ঠা ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
কিভাবে হিরন্যকশিপু অমরত্ব লাভ করেছিলেন?
প্রকাশ: ১০:৫১ pm ০৬-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৫১ pm ০৬-১১-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


নৃসিংহ বিষ্ণুর চতুর্থ অবতার। পুরাণ, উপনিষদ ও অন্যান্য প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থে তাঁর উল্লেখ রয়েছে। সাধারণত দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের অন্যতম প্রতীক তিনি৷ প্রাচীন মহাকাব্য, মূর্তিতত্ত্ব, মন্দির ও উৎসব ইত্যাদির তথ্যপ্রমাণ থেকে জানা যায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর পূজা প্রচলিত রয়েছে। নৃসিংহকে শৌর্যের মূর্তিস্বরূপ এবং তাঁর মন্ত্র শত্রুনিধন ও অমঙ্গল দূরীকরণে বিশেষ ফলপ্রসূ বলে মনে করা হয়; তাই অতীতে শাসক ও যোদ্ধারা নৃসিংহের পূজা করতেন।

নৃসিংহ অর্ধ-মনুষ্য অর্ধ-সিংহ আকারবিশিষ্ট। তাঁর দেহ মনুষ্যাকার, কিন্তু সিংহের ন্যায় মস্তক ও নখরযুক্ত। মৎস্যপুরাণ অনুযায়ী নৃসিংহ অষ্টভূজ হলেও, অগ্নিপুরাণ অনুযায়ী তিনি চতুর্ভূজ। একাধিক বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে তাঁর পূজা প্রচলিত। দক্ষিণ ভারতে নৃসিংহ পূজার বিশেষ প্রচলন দেখা যায়। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, নৃসিংহ ‘মহারক্ষক’। তিনি ভক্তকে তার প্রয়োজনের সময় সর্বদা রক্ষা করে থাকেন।তাই চলুন জেনে নিন কিভাবে হিরন্যকশিপু অমরত্ব লাভ করেছিলেন-

ব্রহ্মার কাছ থেকে হিরণ্যকশিপু অমরত্ব লাভ করতে পাড়ে নি। ব্রহ্মা তাকে অমরত্ব ছাড়া যা খুশি বর চাইতে বললেন। তখন হিরণ্যকশিপু অমরত্বের মতই বর চাইলেন। তাই সে বলতে লাগল -

- আপনার সৃষ্টির কোনও প্রাণী থেকে আমার মৃত্যু হবে না।
- গৃহের ভেতরে কিংবা বাইরে আমার মৃত্যু হবে না।
- দিন কিংবা রাতে আমার মৃত্যু হবে না।
- জল ভুমি বা আকাশে ও না।
- পশু বা মানুষের হাতে ও না।
- কোন অস্ত্রে যেন আমার মৃত্যু না হয়।
- আমি যেন ব্যাধিগ্রস্ত বা জরাগ্রস্ত না হই।
এভাবে শক্তিমান হয়ে তিনি আরো অত্যাচারী হয়ে উঠে। যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো তখন অন্তরীক্ষ থেকে ব্রহ্মার বাণী সে শুনতে পেল হে হিরণ্যকশিপু।নৃসিংহদেব আমার সৃষ্টির কেউ না, বরং আমিই উনার সৃষ্টি।

- গৃহের ভিতর বা বাইরে নয়, ভগবান তোমাকে চৌকাঠে মারতে যাচ্ছে।
- দিন বা রাত্রি নয়, চেয়ে দেখ এখন গোধুলী লগ্ন।
- জলে, ভূমিতে বা আকাশে নয় তুমি নৃসিংহদেবের উরুদেশে মরতে যাচ্ছ।
- পশু বা মানব নয় দেখ, নৃসিংহদেব পশু ও নয় মানব ও নয়।
- কোন অস্ত্রে নয়, বরং ভগবানের নখ তোমার শরীর বিদীর্ণ করবে এক্ষুনি।
-তুমি জরা বা ব্যাধিগ্রস্ত নও তাই তুমি এখন মৃত্যু কবলগ্রস্ত।
এভাবে ভগবান তার ভক্তকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন তাই তাকে বলা হয় বিপদভঞ্জক ভগবান নৃসিংহদেব। কেউ যদি ভক্তিভরে ভগবান নৃসিংহদেবের কাছে চরম বিপদে ও প্রার্থনা করে তবে তাকে তিনি রক্ষা করেন।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71