শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কুতুবদিয়া জুড়ে জ্বীন আতংক!
প্রকাশ: ০৭:৫২ pm ১৮-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ০৭:৫২ pm ১৮-০৭-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বিগত কয়েকদিন ধরে জ্বীন আতংকে ভুগছে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার সাধারণ জনগণ। শুধু জলাশয়ে নয়, লোকালয়েও উপজেলার উত্তর ধুরুং, কৈয়ারবিল ও বড়ঘোপের কয়েকটি এলাকায় পরপর একই ধরনের অলৌকিক ঘটনা ঘটায় এ আতংক আরো ঘনিভূত হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। 

কোন সময়, কার উপর সওয়ার হয় কেউ বলতে পারছেনা। দিন দুপুরে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও। সন্ধ্যার পরে কিংবা আগে এমনকি দিনের সূর্যালোতেও পুকুরে নামতে ভয় পাচ্ছে এলাকার যুবক, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ঘরের বৌ-ঝিঁয়েরা। মহিলাদের অনেকেই সন্ধ্যার পরে ঘরের বাহির হচ্ছে না বলে লোকমুখে শুনা যাচ্ছে। এমনকি পুরুষরাও একাএকা কোন স্থানে আসা-যাওয়া করতে ভয় পাচ্ছেন। তাছাড়া উপজেলার সর্বত্র জ্বীন-জ্বীন একটি রব উঠায় জ্বীনের ভয় কেউ সহজে কেটে উঠতে পারছে না। সন্ধ্যার পর থেকে এলাকার কোচিং সেন্টারগুলোতে সন্তানদের নিতে অভিভাবকদের ভিড় দেখা গেছে।তবে অনেকেই কোচিং করতেই আসেনি বলে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি অনেকেই নিছক গোজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

১৬ জুলাই বড়ঘোপ ছৈয়দ পাড়ার ৭০ বছরের বৃদ্ধ খাইরুল্লাহ জানান, ওই দিন সকাল ১০টায় ঘোয়াল ঘরে কাজ করছিলেন তিনি। হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসে তার চোখে। ফলে তিনি বসে পড়েন। এরপর তিনি অনুভব করেন তাকে কেউ যেন সজোরে আছাড় দিল। তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। পরে মসজিদের ইমামের মাধ্যমে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা হয়।

১৫ জুলাই (রবিবার) সন্ধ্যায় জ্বীনের আক্রমণে আক্রান্ত হন বড়ঘোপ ইউনিয়নের মনোহরখালী গ্রামের হাফেজ শহিদুল্লাহর দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্র জিয়া উদ্দিন (১৫)। তার বর্ণনামতে, ৫ কি ১০ মিনিট পরেই সন্ধ্যার আযান। বাড়ি থেকে বাহির হয়ে মসজিদের দিকেই যাচ্ছিল সে। হঠাৎ সে অনুভব করে তাকে কেউ যেন উপরে তুলে আবার নিচে সজোরে নিক্ষেপ করছে। এর পর সে আর কিছু মনে রাখতে পারেনি। ঘটনাস্থলের পাশেই একটি জলাশয়। কিছুক্ষণ পর সে নিজেকে আবিষ্কার করে রক্তাক্ত অবস্থায়। তার শরীরের কয়েকটি অংশে নকের আঁচড়ের দাগ ও জামার সামনে-পেছনের বেশ কিছু অংশ ছিড়ে গেছে। ঘটনাশুনে তাকে একনজর দেখার জন্য ছুটে যায় এলাকাবাসী। 

একই দিন ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দেখে ফেরার পথে ওই এলাকায় জ্বীনের আক্রমনে আরো দু’জন আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন এলাকাবাসী।

কৈয়ারবিল এলাকার একজন জানান, ১৪ জুলাই সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পুকুরে চাল পরিষ্কার করতে গিয়েছিলেন বাড়ি কর্ত্রী। পুকুরের সিড়িতে নেমে তিনি চাল পরিষ্কার করছিলেন। হঠাৎ দেখেন বাম পায়ের কাছেই একটি বস্তা। পা দ্বারা বস্তাটি তিনি কয়েকবার সরিয়ে দেন। কিন্তু ক্ষনিক পরেই দেখলে একগোছা চুলে তার পা পেছিয়ে যাচ্ছে। চিৎকার দিয়েই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। 

উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের এম.হোছাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহারি শিক্ষক মাস্টার মফিজের বরাত দিয়ে একজন জানান, ১৪ জুলাই রাত ১২টার দিকে বিছানা থেকে নিখোঁজ হন মফিজের শাশুড়ি। সারা রাত বিভিন্ন স্থানে খুঁজাখোঁজির পর বাড়ির পুকুরে তল্লাশি চালালে ওই পুকুরের নিম্নদেশে তাকে (শাশুড়ি) বসা অবস্থায় মৃত উদ্ধার করা হয় বলে দাবী সংবাদবাহকের। সংবাদগুলো মুহুর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কুতুবদিয়া টক অব দ্যা নিউজে পরিণত হয়। 

এছাড়া সর্বশেষ ১৭ জুলাই কুতুবদিয়ায় উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড হাজী মফজল পাড়া গ্রামে জলপরী আতংকে আরো একজন অজ্ঞান হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই গ্রামের গোলাম রশিদের ছেলে নুরুল কাদের শাওন (২০) সমূদ্র সৈকত থেকে ফুটবল খেলে এসে বাড়ির পুকুরে গোসল করতে নামলে অজান্তেই পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এসময় তার সাথে থাকা এক বন্ধু তাকে ডুবে যেতে দেখে হাত ধরে টেনে কুলে নিয়ে আসে। এসময় শাওনের জ্ঞান নাই দেখে চিৎকার দিলে এলাকাবাসী দ্রুত শাওনকে কুতুবদিয়া হাসপাতালে ভর্তি করায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেও তার জ্ঞান ফেরাতে না পেরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তাকে দেখতে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান কুতুবদিয়া ইউএনও মনোয়ারা বেগম, এসিল্যান্ড পদ্মাসন সিংহ ও কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদাউস।

একই ধরনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানের আরো অনেকেই। তাদের ধারণা সাগর থেকে উঠেছে এসেছে খারাপ জিনিসটি। মানুষের অনিষ্ট করার জন্য লোকালয়ে বিচরণ করছে। এলাকাবাসীকে সচেতন থাকতে বলেছেন নেতৃবৃন্দরা। এ যেন কুতুবদিয়ার জলাশয়ে জ্বীনের বিচরণ সত্যে পরিণত হলো।

এব্যাপারে ইউএনও মনোয়ারা বেগম বলেন, জলপরী বলতে বাস্তবে কোন কিছুর অস্থিত্ব নেই। এই এক মনের ভ্রম বা মনের অজান্তেই ভয় কাজ করা। বিষয়টি নিয়ে কাউকে আতংকিত না হতে বলেন তিনি।

সিডিজি/বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71