শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কুমিল্লার বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা পাপড়ি বসু
প্রকাশ: ০৬:৫৪ pm ১৫-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৭:০৪ pm ১৫-১২-২০১৬
 
 
 


ডেস্ক নিউজ: বিদ্যালয় জীবন থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের সামনের সারিতে কুমিল্লার পাপড়ি বসু৷ আগরতলায় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সাথে নেচে-গেয়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন৷

দিনের পর দিন রুটি বানিয়ে সরবরাহ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের৷

কুমিল্লায় ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন পাপড়ি বসু৷ মা মায়া ধর এবং বাবা প্রমথ চন্দ্র ধর৷ ছোট থেকেই নাচ-গানসহ সাংস্কৃতিক ধারায় নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছেন পাপড়ি৷

একইসাথে উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল তাঁর চলন-বলনে৷ ফলে তিনি যখন মাত্র অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তখনই পাকিস্তান সরকারের চাপিয়ে দেওয়া একটি পাঠ্যবই প্রত্যাহার করার দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন পাপড়ি বসু৷

এমনকি দাবি আদায়ে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অনশন ধর্মঘট করেছিলেন তারা৷ সেখানে তৎকালীন পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মীদের মুখোমুখি হন তারা৷

ফলে মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার নামে পরিচিত ফরিদা বিদ্যায়তনের ছাত্রী হিসেবে সেই বিদ্যালয় জীবন থেকেই মুক্তি সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হন পাপড়ি৷

এরপর ১৯৭১ সালে আসে ২৫শে মার্চের সেই ভয়াল রাত্রি৷  স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুর এই দিনগুলো সম্পর্কে পাপড়ি বসু বলেন, ‘‘আমাদের বাড়িটা হচ্ছে বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার সংলগ্ন যেখানে কাজী নজরুল ইসলাম আসতেন আমার দিদিমার কাছে৷ ঐ বাড়ির বিশাল মাঠ ছিল৷ সেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়৷

আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, যুদ্ধ আমাদের সামনে আসন্ন৷ তাই আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম৷ একদিন সত্যি সত্যি যুদ্ধ শুরু হলো৷ সেদিন শুধু কুমিল্লাতে নয়, বরং সারাদেশে পাক হানাদার বাহিনী হামলা শুরু করে৷

আমাদের বাসাটি পুলিশ লাইন থেকে একটু দূরে ছিল৷ ডিনামাইট দিয়ে রুস্তম আলীর বাড়ি উড়িয়ে দেওয়া হলো৷ সেই রাতের কথা কোনোদিনই ভুলবো না৷ আমাদের বাসার দু’টো বাসা সামনে যতীন্দ্র ভদ্রের বাসা ছিল৷

তার দুই ছেলে ডাক্তারি পড়তো – কাজল এবং রতন৷ বাবা-ছেলে এবং তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়াসহ প্রায় ১০/১২ জনকে একইসাথে মেরে ফেলেছিল পাক সেনারা৷

তবে তাঁর মেয়ে শুভ্রা আমাদের বাড়ি দিয়ে পেছনে পালিয়ে বেঁচে যায়৷ এ অবস্থায় আমরা আর সেখানে থাকতে পারিনি৷ আমরা লাকসাম রোডে গিয়ে এক আত্নীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিলাম৷

কিন্তু সেখানেও বেশি সময় থাকা সম্ভব হলো না৷ পরের দিন আমরা দেখলাম এন পি রায় চৌধুরী এবং প্রকাশ সাধুকে নির্মমভাবে গুলি করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারা হলো৷

এমনকি সাথে কুকুরটিকেও মারা হয়েছিল৷ এরপর কারফিউ শিথিল হলে আমি মামার সাথে বুড়িচং দিয়ে পায়ে হেটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আগরতলায় চলে যায়৷”

দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে কখনো ঝোপ-জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে নানা বিপদ-আপদ মাড়িয়ে ভারতে পৌঁছান পাপড়ি এবং তাঁর সঙ্গীরা৷

সেখানে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য কীভাবে কাজ করেন – সেসব ঘটনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘প্রথমে জেঠিমার বাড়িতে উঠলেও পরে আমরা সূর্যমনি শিবিরে চলে যাই৷ সেখানে আমরা একটি গোষ্ঠী তৈরি করি৷

অভিনেত্রী সুজাতার বড় বোন কৃষ্ণাসহ আমরা নৃত্যশিল্পী অসিত চৌধুরীর নেতৃত্বের একটি সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠী গড়ে তুলি৷ সে সময় আমার দাদার এক বন্ধু একটি গাড়ি দিয়েছিলেন৷ সেই গাড়িতে করে আমরা বিভিন্ন জায়গায় নাচ-গান করতাম৷ সেই নাচ-গান পরিবেশন করে আমরা যে অর্থ পেতাম সেটা সেলিনা বানুর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের দিতাম৷

পরে যখন মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে আহত হয়ে আসতে থাকলেন তখন তিনি আমাদের বিশ্রামনগর শিবিরে নিয়ে যেতেন তাদের সেবা-শুশ্রূষা করার জন্য৷ এরপর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী সুখময় সেন গুপ্তের সাথে পরামর্শ করে আমার জেঠিমা আমাদের রুটি বানানোর দায়িত্ব দেন৷

ফলে নাচ-গানের পাশাপাশি চিত্রাদি, আমি, আমার বড় বোন ভারতীসহ সবাই মিলে রুটি করে জেঠিমার হাতে তুলে দিতাম, কখনো সেলিনা বানুর হাতেও দিতাম৷ আমরা অনেক রুটি করেছি৷ ফলে তখন প্রায়শই রুটি খাওয়া হতো৷ যে কারণে তারপর থেকে আমার আর রুটি খেতে ইচ্ছা করে না৷ ” সূত্র: ডিডাব্লিউ

 

এইবেলাডটকম/পিসি 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71