মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কুরুক্ষেত্রের তৃতীয় দিনের যুদ্ধে কি হয়েছিল
প্রকাশ: ০৯:০৬ pm ১৯-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:০৬ pm ১৯-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


প্রথম দুই দিনের যুদ্ধে কৌরব পক্ষ কোন ব্যুহ রচনা করেছিলেন সে নিয়ে কোনো উল্লেখ নেই। আজকের লড়াইতে কৌরবেরা গড়লেন গারুড় ব্যুহ। গারুড় ব্যুহ হছে মধ্যভাগে স্থুল এইরকম সেনা বিন্যাস। একটি বইতে রেফারেন্স হিসেবে পড়েছিলাম যে মহারাজ পুরু আলেকজান্ডারের বিরুদ্ধে এই ব্যুহ রচনা করেছিলেন। এটির বিশেষতঃ এর সামনের সাড়িতে হস্তী যুথ, তার পিছনে রথ ও সব শেষে অশ্বারোহীরা থাকবে। অনেকটা যেনো কার্স্কের লড়াইতে জার্মান সেনাদের ট্যাকটিক্স। প্রথমেই খুব ভারী ট্যাংক (টাইগার) ও ট্যাংক ডেস্ট্রয়ার (ফার্দিনান্দ), এর পরেই মাঝারী বা মেইন ব্যাটেল ট্যাংক (প্যানথার) আর সব পিছনে দ্রুতগামী হাল্কা ট্যাংক। ভারী ট্যাংক বা হাতীর আঘাতে সারিবদ্ধ সেনাদের প্রাচীর ভেঙে গেলে রথ বা মেইন ব্যাটেল ট্যাংক ঢুকে পড়বে।

আর পান্ডবেরা করলেন অর্দ্ধচন্দ্র। নাম শুনেই বোঝা যায় চেহারাটা কেমন। দুই দিকে দিয়ে ঘিড়ে ফেলবার একটা আক্রমনাত্মক সেনাসজ্জা।

কৌরব পক্ষে ব্যুহের একদম অগ্রগামী অংশে অর্থাৎ ব্যুহ মুখে রইলেন ভীষ্ম, আর তার পিছনেই(ব্যুহের মাথায়) দ্রোণ আর কৃতবর্ম্মা রইলেন। তাদের পিছনে অশ্বত্থামা, কৃপাচার্য্য আর সব বড় রথীরা। অনেকটা পিছনে দুর্যোধন। দুই পক্ষ বা উইংসে কিন্তু সবই এলেবেলের দল। দক্ষিন পক্ষে মগধ, কলিংগ ও দানোরক সেনারা আর বামদিকে পক্ষে কারুষ, বিকুঞ্জ, মুন্ড সেনারা। এই দুই উইংগসে কোনো নামকরা রাজা বা রথী নেই। আর এমন কিছু দেশের সেনাদের উল্লেখ আছে যাদের চেনাই যায় না।

অর্জুন কিন্তু পান্ডব ব্যুহের মধ্যমণি ছিলেন না। তিনি বামদিকে রইলেন। আর ডানদিকে রইলেন ভীমসেন আর সাত্যকি, তাদের পিছনেই ধৃষ্টকেতু, দ্রুপদ আর বিরাট। ব্যুহের মধ্যভাগে রইলেন ধৃষ্টদ্যুম্ন আর শিখন্ডী। অনেকটা পিছনে করীসৈন্য নিয়ে যুধিষ্ঠির। প্রথম দিনের বজ্র যুদ্ধেও যুধিষ্ঠির বুহের পিছন দিকেই ছিলেন।

দুই পক্ষের সেনা বিন্যাস আর রথীদের স্থাপনাতেই দুই পক্ষের টিক্স বোঝা যায়। কৌরবেরা চাইছিলেন একটা দুর্গভেদী যা মরডের আঘাতে পান্ডব ব্যুহের মধ্যভাগ ভেঙে দেবেন আর পান্ডব পক্ষ চাইছিলো দুই উইংগস দিয়ে তারা কুরুর ব্যুহকে ফ্ল্যাংকিং অ্যাটাক করবেন।

কৌরবপক্ষের রথীরা "একাগ্রচিত্ত হইয়া অনেকবার পান্ডব সৈন্যগনের শ্রেণী ভঙ্গ করিলেন"। পান্ডবেরাও কৌরবদের "ছিন্ন ভিন্ন করিতে লাগিলেন"। কিন্তু কোনো পক্ষই অন্যপক্ষের ব্যুহ পুরোপুরি ভেদ করতে পারলো না।"সৈন্যগন সেনামুখ হইতে বহির্গত হইয়া যুদ্ধ করিতে লাগিল"।

ভীষ্ম আজকে ভীষণ। তিনি অতিদ্রুত গতিতে সারা কুরুক্ষেত্রের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন এবং পান্ডব পক্ষের রথীদের দেখে তাদের নাম উচ্চারণ করে (এই দ্যাখ অমুক, তোকে হত্যা করছি")তাদেরকে শরাঘাতে নিধন করছিলেন। তার এক এক বাণে এক একটি হাতীর মৃত্যু হচ্ছিলো, এক এক নারাচে (লোহার ভারী বানে) একই সাথে তিন চারজন যোদ্ধা বিদ্ধ হচ্ছিলো।

ভীতসন্ত্রস্থ পান্ডবসেনারা তখন পালাতে শুরু করলো। "তাহারা ভীষ্মশরে এরূপ ব্যথিত ও ভগ্ন হইয়া নানাদিকে ধাবমান হইল যে দুইজনকে একত্রে গমন করিতে দেখা গেলো না"। পান্ডবপক্ষের রথীরা চেষ্টা করেও তাদের সেনাদের পালিয়ে যাওয়া আটকাতে পারছিলেন না। 

কৃষ্ণ আর অর্জুনের চোখের সামনেই এইসব ঘটছিলো। কৃষ্ণ তখন অর্জুনকে বললেন এই সময়, তুমি এখন ভীষ্মকে আক্রমন কর। "অতএব যদি মুগ্ধ না হইয়া থাক তো ভীষ্মকে প্রহার কর"। অর্জুন তখন ভীষ্মের মুখোমুখী হলেন ও দুই জনের দ্বৈরথ শুরু হল। এই দ্বৈরথ যতক্ষণ চলবে সাধারন পান্ডব সেনাদের ততক্ষনই শান্তি। অর্জুন পর পর দুইবার ভীষ্মের ধনুক ছিন্ন করলে ভীষ্ম খুবই খুশী হলেন। তারিফ করলেন অর্জুনের। বললেন "আমি তোমার প্রতি প্রীত হইয়াছি। তুমি আমার সহিত স্বচ্ছন্দে যুদ্ধ কর"।

ভীষ্ম, অর্জুন আর কৃষ্ণকে বাণে একেবারে ছেয়ে ফেলে কৃষ্ণকেই "তীক্ষ্ণ বাণ দ্বারা কম্পিত করতঃ অট্ট অট্ট হাস্য করিতে লাগিলেন"। কৃষ্ণ ভাবলেন "অর্জুন তীক্ষ্ণ শরে একান্ত আহত হইয়াও ভীষ্মের গৌরবানুরোধে আপনার কর্ত্তব্য বিষয়ে মনোযোগ করিতেছেন না।" অতএব আমি ভীষ্মকে বধ করব।

ভীষ্মের অনুগামী কৌরব পক্ষের সব মহারথীরা আর অন্যদিকে অর্জুনের সহযোগী পান্ডবদের তাবড় রথীরা, সবাই এই দ্বৈরথেই সামিল হলেন। কিন্তু ভীষ্মকে আটকানো যাচ্ছিলো না।ভীষ্মের নির্দেশে কৌরব পক্ষের সব মহারথীরাই অর্থাৎ দ্রোণ, কৃপ, কৃতবর্ম্মা, জয়দ্রথ, শকুনি এরা সবাই মিলে কৃষ্ণকে শর নিক্ষেপ শুরু করলেন। অনুমান করা যায় যে ভীষ্ম আর অর্জুন কেউই পরষ্পরকে আঘাত করতে চাইছিলেন না। ভীষ্ম তাই "সফট টার্গেট" হিসেবে কৃষ্ণকেই বেছে নিয়েছিলেন। পান্ডবসেনারা আবার ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে শুরু করলেন। সৈন্যদের পালানোর খবর পেয়ে আর ভীষ্মের অধিক পরাক্রম আর অর্জুনের "মৃদুতা" দেখে দেখে কৃষ্ণের সব ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল। সাত্যকিকে ডেকে বললেন যারা পালিয়েছে, তাদের তো কথাই নেই আর যারা এখনো যুদ্ধ করছেন, তাদেরকেও পালাতে দাও। আমি একাকীই ভীষ্মকে সংহার করব।

তারপরে তো সেই অলৌকিক ঘটনা। চক্রহাতে কৃষ্ণ রথ ছেড়ে মাটীতে নেমে ভীষ্মের দিকে ধেয়ে এলে ভীষ্ম তো স্তব শুরু করে দিলেন। অর্জুনও ছুটে এসে হাতে পায়ে ধরে কৃষ্ণকে আবার রথে তুললেন। তবে কৃষ্ণকে এই কৌশল আরো একবার নিতে হবে অর্জুনকে সংহারী যুদ্ধ মনযোগী করবার জন্য। এইবারে অর্জুন খুবই মনোযোগী। সমূলে কৌরবপক্ষের বিনাশ চললো। কৃষ্ণ হৃষ্টচিত্ত হলেন। এদিকে সন্ধ্যাও ঘনিয়ে আসছে। কুরুপক্ষের দিক দিয়েই যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করা হল। "একা অর্জুনই আমাদের সকল রথীকে হারিয়ে দিয়েছে" এই কথা বলতে বলতে কৌরবপক্ষের সেনারা তাদের শিবিরে ফিরে গেলেন।


বিডি


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71