মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯
মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
কুরুক্ষেত্রের দ্বিতীয় দিনের যুদ্ধে কি ঘটেছিল
প্রকাশ: ০৬:৫৩ pm ০৬-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:৫৩ pm ০৬-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


যুধিষ্ঠিরের পরামর্শে পান্ডবেরা ক্রৌঞ্চ ব্যুহ গড়লেন। ক্রৌঞ্চ বা বক এর মতন দেখতে ব্যুহের দুই পক্ষ ছিলো বিস্তীর্ণ আর সামনে বকের ঠোঁটের মতন সূচীমুখ। অর্জুনকে এই বকের "ঠোঁটে" রাখা হল। সচল ব্যুহের আক্রমনের একটাই পথ- যেনো অর্জুনকে বাধ্য করা হচ্ছে যুদ্ধের জন্য।

অন্য পক্ষে কৌরবদের তেমন মাথাব্যাথা নেই। দুর্যোধন বললেন, আমাদের সৈন্যসংখ্যা পান্ডবদের তুলনায় অনেক বেশী। আর ভীষ্ম যেমন লড়াই করছেন তাতে বাকী রথীরা শুধু ভীষ্মকে সুরক্ষা দিক - তার উপর যাতে আঘাত না আসে সেই মতো তাকে ঘিরে থাকুক, বাকীটা উনিই করবেন। কৌরবেরা কী ব্যুহ রচনা করলেন সে নিয়ে কোনো উল্লেখ পর্যন্ত নেই। সেই ভীষ্মই আবার একটানা পান্ডবসেনাদের ক্ষয় করে যেতে লাগলেন। অগত্যা অর্জুন কৃষ্ণকে বললেন আমাকে ভীষ্মের কাছেই নিয়ে চলো। ভীষ্মের মুখোমুখি হয়ে এক সংকুল যুদ্ধ শুরু হল, কেননা দুই পক্ষেরই মহারথী সবাই ওখানেই জড়ো হল। ভীষ্ম আর অর্জুন মুখোমুখি হয়ে দুজনেই দুজনকে বাণবিদ্ধ করতে লাগলেন। দুই সারথীই খুব দক্ষতার সাথে রথ চালিয়ে পরষ্পরের শরাঘাত বিফল করে দিচ্ছেন। 

একাধিকবার উল্লেখ হয়েছে যে এই দুই বীর সমরাঙ্গনে ক্রীড়া করিতে লাগিলেন। এই সময়ে অর্জুন বোধহয় দ্বৈরথ ছেড়ে সাধারন কৌরব সেনাদের নিধনে মনোযোগী হলেন। দুর্যোধন বোধহয় ভেবেছিলেন প্রথম দিনের মতন তিনি আবার প্রায় ওয়াকওভার পেয়ে যাবেন, কিন্তু অর্জুনের হাতে ক্রমাগতঃ নিজের পক্ষের সেনানীদের হতাহত দেখে দুর্যোধন নিতান্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ভীষ্মকে বললেন, আপনি রয়েছেন, দ্রোণও রয়েছেন। কিন্তু তা স্বত্তেও কীভাবে অর্জুন এইরকম পরাক্রম দেখিয়ে আমার সৈন্যদেরকে নিহত করে যাচ্ছে। আপনার কথা শুনেই আমি কর্ণকে বাদ দিয়েছি, অতএব যাহাতে অর্জুন শীঘ্র নিহত হয়, এমন উপায় স্থির করুন। প্রচন্ড ক্ষুব্দ ভীষ্ম এই অনুযোগ শুনে "ধিক ক্ষত্রিয়ধর্মে" বলে আবার ভয়ংকর হয়ে উঠলেন। দুর্যোধন কিন্তু কুরুক্ষত্র যুদ্ধের সব সময়েই ভীষ্ম আর দ্রোণকে, বিশেষতঃ দ্রোণকে এইভাবে উত্যক্ত করে চলবেন।

ইতিমধ্যে দ্রোণ আর ধৃষ্টদ্যুম্নের লড়াই খুব জমে উঠলো। এই দুইজনের দ্বৈরথ প্রায় প্রতিদিনই এক বা একাধিকবার হত এবং কখনই ধৃষ্টদ্যুম্ন সুবিধা করতে পারতেন না। আজও এই নিয়মের ব্যত্যয় হল না। অচিরেই দ্রোণের ভল্লের আঘাতে ধৃষ্টদ্যুম্ন অশ্বহীন, রথহীন এবং ছিন্ন শরাসন হলেন। ঢাল আর তলোয়ার নিয়ে রণক্ষেত্রে নামলেন দ্রুপদতনয়। অসিযুদ্ধে উনি পটু। দ্রোণের নিক্ষিপ্ত বাণসকল উনি ঢাল দিয়ে আটকাতে লাগলেন। ভীমসেন দ্রুত ছুটে এসে ধৃষ্টদ্যুম্নকে নিজের রথে তুলে নিয়ে সরে পড়লেন।

এরপরের লড়াই কলিঙ্গরাজের সাথে ভীমসেনের। পুর্বদেশের সব রাজাই গজারোহী সেনা নিয়ে যুদ্ধ করতেন। আজকে কলিঙ্গরাজ শ্রুতায়ু প্রচুর রথ নিয়ে আর তার সঙ্গী নিষদরাজ কেতুমান প্রচুর হাতী নিয়ে ভীম আর তার সহযোগী চেদী, মৎস্য ও করুষ দেশের সেনাদের একেবারে ঘিরে ফেললেন। কলিঙ্গ যুবরাজ শত্রুদেব ভীমসেনের ঘোড়াদের মেরে ফেললে ভীম অচল রথের থেকেই তার গদা ছুঁড়ে শত্রুদেবকে নিহত করলেন। পুত্রহত্যায় ক্রুদ্ধ কলিঙ্গরাজ এইবারে তাঁর আরেক ছেলে ভানুমানকে নিয়ে হামলা চালালেন। ভীম এইবার হাতে নিলেন খড়গ আর ষাঁড়ের চামড়ার ঢাল। শ্রুতায়ুর বানগুলিকে তিনি খড়গাঘাতেই ছিন্ন করতে থাকলেন। এটি কিন্তু সমগ্র মহাভারতের ঐতিহ্যের বিরুদ্ধকথন। মহাভারতের যুদ্ধে তীর ধনুকের উপরে কেউ নেই। সে যাই ছুঁড়ে মারা হোক না কেনো, শক্তি, চক্র, গদা বা অসি- সবই বাণের আঘাতেই খন্ড খন্ড হয়ে যায়। এটি তার ব্যতিক্রম। ভীম এরপর ভানুমানের মহাগজের দুই দাঁত ধরে লাফিয়ে উঠে পড়লেন তার পিঠে। ভানুমানকে খড়গের এক কোপে নিহত করে আর এক কোপে হাতীটিরও মুন্ডচ্ছেদ করে দিলেন। এবার ভীম এক এক করে হাতীর পিঠের উপর লাফিয়ে একটানা শত্রু নিধন করে চললেন। খড়গাঘাত ছাড়াও লাথি বা উরুর আঘাতেও প্রানহরণ করলেন অনেকের। অসংখ্য গজারোহী সৈন্য নিহত হলে মাহুতহীন হাতীগুলি ইতঃস্তত ছোটাছুটি করে কলিঙ্গ সেনাদেরই হতাহত করে দিতে লাগলো। হাতীর দল শেষ হয়ে গেলে তিনি এইবারে পড়লেন ঘোড়া ও রথের উপর।

দুই পুত্রহত্যায় ক্রুদ্ধ শ্রুতায়ু আরো প্রচুর সেনানী নিয়ে এসে ভীমকে বাণবিদ্ধ করলে ভীমের সুযোগ্য সারথী বিশোক রথ নিয়ে এসে ভীমকে নিয়ে চলে গেলেন। ততক্ষনে আবার সাত্যকি আর ধৃষ্টদ্যুম্নও এসে গেছেন ভীমকে মদত দিতে। ভীম আবার ফিরে এসে কলিঙ্গ সেনাদের হতাহত করতে লাগলেন এবং তাঁর হাতে নিহত হল নিষদরাজ কেতুমানও। প্রচুর শোরগোল শুনে অগত্যা ভীষ্ম এসে হাজির। ভীষ্ম আর ভীমের তুমূল লড়াই। ভীষ্ম’র বানে ভীমের ঘোড়াগুলি নিহত হলে ভীমও এক শক্তি নিক্ষেপ করে ভীষ্মকে সারথীশুন্য করলেন। ভীষ্মের ঘোড়াগুলি দিশাহারা হয়ে ভীষ্মকে নিয়ে ছুটে চলে গেলো।

একেবারে শেষদিকে অর্জুন মহাসংহারী হয়ে উঠলেন। তার অস্ত্রাঘাতে বহু কুরুসেনা হতাহত হচ্ছিলো। ভীষ্ম তখন দ্রোণকে বললেন অর্জুনকে আজ আর সামলানো যাবে না, বরং আমরা এখনই আজকের মতন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দেই । দ্রোণ রাজী হলে দ্বিতীয় দিনের যুদ্ধও শেষ হল। অর্জুন আর কৃষ্ণ আজকে "হৃষ্টচিত্তে" শিবিরে গমন করলেন।

আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71