শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯
শুক্রবার, ১৩ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
কুরুক্ষেত্রের নবম দিনের যুদ্ধ, কি ঘটেছিল সেদিন
প্রকাশ: ০৮:০৯ pm ৩০-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:০৯ pm ৩০-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


যুদ্ধের শুরুতেই দুর্যোধন সব ঠিক করে নিলেন। বললেন এই ভীষ্মই আমাদের ভরসা। সুতরাং সব রথীরা এবং যে "দ্বাবিংশতি শ্রেণীভুক্ত" সেনা আছে, সবাই ভীষ্মকে রক্ষা করুন। দুঃশাসনকে নির্দেশ দিলেন যে অর্জুন নিশ্চয়ই শিখন্ডীকে সামনে রেখে যুদ্ধ করবেন, সঙ্গে রাখবেন পাঞ্চাল দেশীয় বীর যুধামন্যু আর উত্তমৌজা। সেটা যেনো না হয়।

সেই মতন কৌরবপক্ষী ভীষ্ম সাজালেন সর্বতোভদ্র ব্যুহ। আটটা বৃত্ত অথবা চতুর্ভুজ ভাবে সেনারা থাকবে। প্রতিটি স্তরেই একটি করে ব্যুহ মুখ রইবে। ভীষ্ম থাকবেন সবার সামনে। তাকে ঘিরে থাকবেন অন্যান্য রথীরা।

জন কীগান তার The history of warfare এ লিখেছিলেন, যুদ্ধরথের প্রথম যুগে এক একজন তীরন্দাজ রথী মিনিটে পাঁচ কি ছয়বার তীর নিক্ষেপ করতে পারতেন। সেই মতন দশজন রথী আধঘন্টার মধ্যেই অন্ততঃ শ পাঁচেক পদাতিক সেনাকে ঘায়েল করতে পারতো দুশো গজ দুরত্ব থেকেই। সাধারণ সেনানীদের কাছে ক্ষেপনীয় অস্ত্র বিশেষ থাকতো না। তাই তারা রথীদের পাল্টা আঘাত করতেও খুব সক্ষম হতেন না। একেবারে প্রায় একতরফা কিলিং মেশিন ছিলো এই রথীরা।

পান্ডবপক্ষের কোন ব্যুহ রচনা হল সেটির উল্লেখ নেই। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় তাঁদের ব্যুহের ভ্যানগার্ড রইলেন, অবশ্যই ভীম এবং নকুল ও সহদেব। এমন কি রইলেন যুধিষ্ঠিরও। যিনি সচরাচর পিছন দিকেই থাকেন। তাঁদের পরে রইলেন সাত্যকি ও বিরাট। তারও পরে অর্জুন ও শিখন্ডী। পরিকল্পনা ছিলো ভীষ্মকে ক্লান্ত করে দিয়ে তারপর অর্জুন আর শিখন্ডী তার মুখোমুখী হবেন।

যেমন হয় প্রতিদিনই। মহারথীরা পরষ্পরকে ব্যস্ত রাখলেন। ভীমকে রুখতে এলো অসমের ভগদত্ত ও কলিংগের শ্রুতায়ু, দুজনেই হাতীর পিঠে, সঙ্গে আরো গজসেনা। হাতী দেখলে ভীমের আর ধৈর্য্য থাকেনা। উনি তখনই তীর ধনুক ছেড়ে বিশাল গদা হাতে রথ থেকে লাফিয়ে নামলেন।

আর অন্যত্র ভীষ্ম আজ ভয়ংকর। কৃষ্ণ তাড়না করলেন অর্জুনকে। এই তো সময়। এখনই চলো ভীষ্মকে সংহার কর। অর্জুন অনিচ্ছুক ভাবে কৃষ্ণের দিকে তির্য্যক ভাবে তাকিয়ে বললেন যারা আমার অবধ্য তাদের নিধন করে রাজ্য লাভ তো নরকবাসের সমতুল্য। বনবাসও তার থেকে বেশী অপ্রিয় নয়। তবে তুমি যেরকম বলছ, সেরকমই হোক। তুমি আমাকে ভীষ্মের কাছে নিয়ে চল। দ্বৈরথ শুরু হলে অর্জুন ভীষ্মের ধনুক দুইবার ছিন্ন করলেন। ভীষ্ম মহাখুশী। চেঁচিয়ে বললেন "সাধু, সাধু"। সবটাই যেন খেলা খেলা। কৃষ্ণ দারুণ রথ চালিয়ে ভীষ্মের শরক্ষেপন ব্যর্থ করছিলেন কিন্তু ক্রমশঃই অর্জুনের সাথে দুজনেই ভীষ্মের বাণের আঘাতে ক্রমাগত বিক্ষত হচ্ছিলেন।

অর্জুন "মৃদু" যুদ্ধ করে চলেছেন কিন্তু ভীষ্ম কিন্তু কঠোর। কৃষ্ণ দেখলেন সকলেই শত্রু বিজয়ে একনিষ্ঠ, "এমন কি, যুধিষ্ঠির (শত্রু) সৈন্যদিগের প্রতি যুগ প্রলয় করিতেছেন" । কৃষ্ণের আবার ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙলো। তৃতীয় দিনের মতন আবার উনি রথ থেকে নেমে ভীষ্মের দিকে তেড়ে গেলেন। সেই একই ঘটনা। ভীষ্ম স্তব করতে লাগলেন আর অর্জুন এসে আবার হাতে পয়ে ধরে কৃষ্ণকে রথে তুললেন। কিন্তু দ্বৈরথ বোধহয় আর হল না। ভীষ্ম নাগাড়ে পান্ডব সেনাদের পিঁপড়ের মতন বধ করতে লাগলেন। অবশেষে সন্ধ্যা হলে পান্ডব সেনারা নিষ্কৃতি পেলেন।

আজকের দিনের যুদ্ধে প্রথম দিকে শিখন্ডীকে নিয়ে ধৃষ্টদ্যুম্ন, বিরাট, দ্রুপদ এই পান্ডব রথীরা ভীষ্মকে ঘিরে ধরলে তিনি শিখন্ডী ব্যতীত সকলকে অক্লেশে বাণবিদ্ধ করলেন। এর পরেই দুই পক্ষের সকল বীরেরা একসাথে জড়ো হয়ে পুরোটাই ঘেঁটে গেলো। আর ভীষ্মের উপর আর নজর থাকলো না। প্রচুর পান্ডব সেনাক্ষয়ের মধ্যে নবম দিনের যুদ্ধ সমাপ্ত হল।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71