শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
পর্ব তিন
কুরুক্ষেত্রে চৌদ্দতম দিনের রক্তক্ষয়ী ঘটনা
প্রকাশ: ০৮:৪৮ pm ০৮-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:৪৮ pm ০৮-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সংকুল যুদ্ধ শুরু হলে আর দ্বৈরথ লড়াই চললো না। কিন্তু সাত্যকি এমনই পরাক্রমে যুদ্ধ করতে লাগলো যে দ্রোণকে আবার ছুটে আসতে হলো অবস্থা সামলাতে। এই সেকেন্ড রাউন্ড কিন্তু দ্রোণেরই। তার প্রহারে বিপর্যস্ত হলেন সাত্যকি। কুরু সেনাদের বিজয় উল্লাসের সিংহনাদ শুনে শংকিত হয়ে ছুটে এলেন মহারাজ যুধিষ্ঠির স্বয়ং। তার সাথে এলেন ধৃষ্টদ্যুম্ন ও আরো রথীরা। কিন্তু দ্রোণ অপ্রতিরোধ্য। তাকে কেউই সামলাতে পারছে না। বিশেষতঃ পাঞ্চাল সেনাদের নাগালে পেলে দ্রোণের বীরত্ব যেন দশগুন বেড়ে যায়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে আগাগোড়াই, দ্রোণ যতদিন জীবিত ছিলে, পাঞ্চাল সেনাদের প্রতি তার আক্রোশ ছিলো চোখে পড়ার মতন।

এইসময়েই আবার একটা ঘটনা ঘটে গেলো। জয়দ্রথের সামনে পৌঁছে বাসুদেব বার বার তার পাঞ্চজন্য বাজালেন। সেই শঙ্খধ্বনি শুনেই খুবই বিচলিত হয়ে পরলেন যুধিষ্ঠির।

যুধিষ্ঠির সাত্যকিকে বললেন পদ্মব্যুহের মধ্যে ঢুকে অর্জুনের কাছে যেতে। সাত্যকি প্রথমে নারাজ ছিলেন, কেননা গুরুদেব অর্জুন তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যুধিষ্ঠিরকে যেন অরক্ষিত না রাখা হয়। দ্রোণাচার্য্যে যে যুধিষ্ঠিরকে বন্দী করবার ফন্দি আঁটছেন এ তো সকলেরই জানা ছিলো। কিন্তু যুধিষ্ঠির সাত্যকিকে বোঝালেন, কেনো এতো চিন্তা করছো? এই তো আমার পাশেই রয়েছেন ভীম, দ্রুপদ, শিখন্ডী, ঘটোৎকচ, বিরাট, ধৃষ্টকেতু, কুন্তিভোজ, নকুল, সহদেব সকলেই। আরে, ধৃষ্টদ্যুম্ন একাই দ্রোণকে আটকাতে পারবে। তুমি অর্জুনের কাছেই যাও। অগত্যা সাত্যকি ভীমসেনকে দায়িত্ব দিলেন যুধিষ্ঠিরকে রক্ষা করার আর নিজে পদ্মব্যুহের দিকে রওয়ানা দিলেন।

আবার দ্রোণের মুখোমুখী। তৃতীয়বার। তবে এইবারের লড়াইএর উদ্দেশ্য আলাদা। আগের দুই বারে ছিলো দুই যোদ্ধার ডুয়েল। এবারে সাত্যকিকে পৌঁছাতে হবে অর্জুনের কাছে। দ্রোণ তাই তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমিও কি তোমার গুরুদেব অর্জুনের মতন পালিয়ে যাবে কাপুরুষের মতন? সাত্যকি বললেন, হে ব্রাহ্মণ, আপনার মঙ্গল হোক। কিন্তু আমার তাড়া আছে। এই বলে দ্রুত রথ চালিয়ে পাশ কাটিয়ে তিনি পদ্মব্যুহের দ্বারে এসে পড়লেন। সারথিকে বললেন, মন দিয়ে রথ চালাও হে।। দ্রোণ তো এখুনি এসে পড়বেন আমাদের তাড়া করে। দ্বিতীয় অর্থাৎ এই পদ্মব্যুহের দ্বাররক্ষী ভোজরাজ কৃতবর্মা। কিন্তু তার সাথে লড়াই শুরু হতে হতে না হতেই দ্রোণ এসে হাজির। উনি কৃত্তবর্মাকে বললেন তুমি ব্যুহের দ্বার সামলাও, সাত্যকিকে আমি রুখছি। ততক্ষনে পান্ডবদের দল ও এসে গেছে। ভীমসেন আর তার সাথে পাঞ্চাল সেনারা।

সারথি বললেন এতোক্ষনে সাত্যকি নিশ্চয়ই অনেক দুর চলে গেছেন। এদিকে আমাদের পিছন পিছন এসে গেছে পান্ডব ও পাঞ্চাল সেনারা। এবার আপনি ই বলুন, কী করব? বলতে না বলতেই দুঃশাসন এসে হাজির। সাত্যকির পরাক্রমে বিধ্বস্ত হয়ে উনি চুপিচুপি পদ্মব্যুহ ছেড়ে বাইরে চলে আসছিলেন। একেবারে দ্রোণের সামনেই, ধরা পরে গেলেন। দ্রোণও ব্যঙ্গের চাবুকে জর্জরিত করলেন দুঃশাসনকে। "ও হে দুঃশাসন, রথীরা পালায় কেন? মহারাজের মঙ্গল তো ? সিন্ধুরাজ বেঁচে আছেন তো ?আর আপনিই বা পালাচ্ছেন কেনো? যান,যান। জয়দ্রথকে সাহায্য করুন। আরে, এতো দিন এতো বড় বড় আস্ফালন শুনলাম আপনার মুখে আর এখন আপনি শত্রুদের হর্ষবর্ধন করছেন?

সঞ্জয় বললেন, দুঃশাসন এমন ভান করলেন যেনো এই কথাগুলি উনি শুনতেই পান নি। যাহোক, তিনি আবার রথ ঘোরালেন। ম্লেছ সেনাদের নিয়ে উনি আবার ব্যুহের মধ্যে সাত্যকিকে তাড়া করতে ঢুকলেন।

পাঞ্চালেরা ঘিড়ে ধরলে্ন দ্রোণকে। কিন্তু দ্রোণ একাই একশো। রাজকুমার বীরকেতু নিহত হলেন। পর পর প্রান হারালেন পাঞ্চাল বীর সুধন্বা, চিত্র্কেতু, চিত্ররথ, চিত্রবর্মা। এবারে দ্রোণের বিরুদ্ধে লড়াইতে নামলেন ধৃষ্টদ্যুম্ন। সকালের প্রথম দ্বৈরথে কোনো রকমে প্রান নিয়ে পালিয়েছিলেন দ্রুপদনন্দন। এবারে কিন্তু অতো সহজে হার মানলেন না। তার শরে একবার সংজ্ঞা হারালেন দ্রোণ। ব্যাস, ধৃষ্টদ্যুম্ন অমনি নিজের রথ থেকে নেমে তলোয়ার হাতে ছুটলেন দ্রোণের দিকে। কিন্তু তখুনি জ্ঞান ফিরে পেয়ে দ্রোণ তার এক বিঘৎ লম্বা ছোট্টো বানে ধৃষ্টদ্যুম্নকে বিদ্ধ করলেন।

দুটি বিষয় একটু অদ্ভুত। এক তো ধৃষ্টদ্যুম্নের এই তলোয়ার প্রীতি। রাজা গজারা তীর ধনুক থাকতে পারত পক্ষে তলোয়ার নিয়ে লড়াই করতেন না। ভারতীয় যুদ্ধ শাস্ত্রে অসিবিদ্যা খুব কল্কে পায় নি। ভীমের ছেলে সুতসোম - তারও অসিবিদ্যার প্রতি একটা ঝোঁক ছিলো। এ ছাড়া কোনো নায়কের তলোয়ার হাতে লড়াইএর কথা নেই। সেই দিক দিয়ে ধৃষ্টদ্যুম্ন একটি ব্যতিক্রম।

এরপর দ্রোণের বানে সারথির মৃত্যু হলে ধৃষ্টদ্যুম্ন রনে ভঙ্গ দিলেন। দ্রোণের লড়াই চললোই। নিষধরাজ বৃহৎক্ষত্র নিহত হলেন দ্রোণের সাথে সম্মুখ সমরে। এর পরে আরো প্রান হারালেন শিশুপাল তনয় ধৃষ্টকেতু ও তার পুত্র। মহাভারতকার সখেদে বলেছেন আগুন দেখলে পতঙ্গ যেমন ঝাঁপিয়ে পরে মৃত্যুবরন করে শিশুপালের পুত্র ও পৌত্র সেভাবেই অবধারিত মৃত্যু বরন করলেন। নিহত হলেন জরাসন্ধের পুত্রও।

এইবারে দ্রোণের মোকাবেলায় আসলেন স্বয়ং মহারাজ যুধিষ্ঠির। ঠিক কী কারনে তিনি দ্রোণের সাথে লড়াইতে মাতলেন বোঝা গেলো না। যুধিষ্ঠিরকে বন্দী করবার দ্রোণের অভিষন্দী সকলেরই জানা ছিলো। ঐ কারনেই সাত্যকিও যুধিষ্ঠিরের পাশ ছাড়তে চান নি। যাই হোক, প্রথমে কিছুক্ষন যুধিষ্ঠির ভালোই যুঝলেন। তীরের বদলে তীর,গদার বদলে গদা। কিন্তু অল্প পরেই একেবারে পর্য্যুদস্ত হয়ে পরলেন যুধিষ্ঠির। দ্রোণের শরজালে তার রথ একেবারে আচ্ছন্ন হয়ে পরলো। তাকে আর দেখাই যাচ্ছিলও না। বড়ো রথের মধ্যে গোপন প্রকোষ্ঠও থাকতো। বোধহয় যুধিষ্ঠির সেখানেই লুকিয়ে ছিলেন। কিন্তু পান্ডব সেনারা মহা হট্টগোল শুরু করে দিলেন - আমাদের মহারাজা নিশ্চয়ই নিহত হয়েছেন।দ্রোণ এইবারে যুধিষ্ঠিরের সারথি আর রথকে বিনষ্ট করে দিলে যুধিষ্ঠির অস্ত্র ত্যাগ করে কুরুক্ষেত্রের মাটীতে দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে রইলেন। অর্থাৎ আমি নিরস্ত্র তাই অবধ্য। তাকে বন্দী করবার জন্য ছুটে এলেন দ্রোণ। পান্ডব সৈন্যরা হাহাকার শুরু করে দিলেন - আমাদের মহারাজকে বন্দী করা হবে। ভাগ্য ভালো,সেই শুনে সহদেব দ্রুতগামী রথে এসে যুধিষ্ঠিরকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন।

ইতিমধ্যেই যুধিষ্ঠির আবার শুনতে পেলেন পদ্মব্যুহের থেকে কৃষ্ণের পাঞ্চজন্যনিনাদ। কেনো কৃষ্ণ শংখধ্বনি করছেন? চিন্তায় আকুল হয়ে পরলেন যুধিষ্ঠির। তৎক্ষনাৎ ভীমকে নির্দেশ দিলেন পদ্মব্যুহের মধ্যে ঢুকে অর্জুনকে সাহায্য করতে। ভীম রাজী কিন্তু তার আগে ধৃষ্টদ্যুম্নকে ভালো করে বুঝিয়ে দিলেন যুধিষ্ঠিরকে রক্ষা করার দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। এরপর মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি। কিরাতদেশীয় মদ্যপানে আরক্তলোচন ও উজ্জীবিত হয়ে হয়ে ভীম তখুনি তার সারথি বিশোককে নিয়ে ব্যুহের দিকে চললেন।বিকর্ণ সহ একুশ জন ধৃতরাষ্ট্র পুত্র খুব চেষ্টা করলো তাকে আটকাতে কিন্তু ভীমসেনকে থামানো গেলো না।

তাকে রুখতে এলেন সেই দ্রোণাচার্য্যই। প্রথমেই একটি নারাচে ভীমের কপাল বিদ্ধ করে দ্রোণ শ্লাঘাভরে বল্লেন - তোমার ছোটোভাই আমার অনুমতি নিয়েই ব্যুহের মধ্যে প্রবেশ করেছে - কিন্তু তাই বলে ভেবো না তোমাকেও অনুমতি দেবো।ভীমের উত্তর ঠিক ভীমেরই মতন।যথেষ্ট বিনয় সহকারে তিনি বল্লেন, আজ্ঞে আমি ঠিক অর্জুনের মতন আপনার কৃপাপ্রার্থী নই। এখন যুদ্ধে আমরা পরষ্পরের শত্রু।এই বলে গদা ঘুড়িয়ে ছুঁড়লেন। সেই গদার আঘাতে দ্রোণের রথ চুড়মার। কৌরব ভায়েরা আবার ভীমকে ঘিড়ে ফেলতেই ভীম অবিলম্বে তাদের সাতজনকে যমালয়ে জমা করে দিলেন।

আবার দ্রোণের সাথে মুখোমুখী লড়াই। ভীমের হাতে সময় বেশী নেই। তীর ধনুকে বড্ডো সময় বেশী নেয়। তিনি গদার আঘাতে ডাইনে বাঁয়ে যতেক রথীদের যমালয়ে পাঠাতে শুরু করলেন। দ্রোণের সাথে যুদ্ধে বড়ো বেশী সময় চলে যাচ্ছে।ভীমসেন ধৈর্য্য হারালেন। রথ থেকে নেমে উনি পায়ে হেঁটে দ্রোণের রথের দিকে এগোলেন। দ্রোণের তীরগুলি অবলীলায় সহ্য করলেন, যেমন ষাঁড়েরা সহ্য করে অবিরল বর্ষণ, তেমনই নির্লিপ্ত ভাবে চোখ বুঁজে পৌঁছে গেলেন দ্রোণের রথের পাশে।।গদাটদারও দরকার নেই। রথের যোয়ালটা ধরে রথ ও দ্রোণকে তুলে দুরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। দ্রোণ মাটীর থেকে উঠে আরেকটি রথে উঠে ব্যুহদ্বারে চলে গেলেন। ততক্ষনে বিশোক অতি দ্রুত রথ নিয়ে এসে ভীমকে নিয়ে পদ্মব্যুহের ভিতরে ঢুকে গেলেন। মহাভারতকার যদিও খুব স্পষ্টভাবে লেখেন নি কিন্তু মনে হয় দ্রোণ হার মেনেই আবার স্বস্থানে ফিরে গেলেন। এই রকম রথ টথ শুধু টেনে ছুঁড়ে দিয়ে যুদ্ধ করবার কোনো সমাধান বোধহয় দ্রোণের কাছেও ছিলো না।

অর্জুনের সাক্ষাত পেয়ে ভীম উল্লাসে সিংনাদ করে উঠলেন। অর্জুন আর কৃষ্ণও তাকে দেখে সিংহনাদে অভ্যর্থনা জানালেন। সেই নাদ শুনে যুধিষ্ঠির নিশ্চিন্ত হলেন।কিন্তু দুশ্চিন্তা তো ছিলোই। অর্জুন কি পারবে শেষরক্ষা করতে? জয়দ্রথ নিহত হলে কি দুর্যোধন সন্ধির প্রস্তাব আনবেন? দুর্যোধনরও তো অনেক ভাই মারা গেছেন।তাহলে নিশ্চয়ই দুর্যোধন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আসবে।
সঞ্জয় উবাচ, এইরূপে কৃপাপরতন্ত্র রাজা যুধিষ্ঠির যখন নানা প্রকার চিন্তা করিতেছিলেন, তৎকালে কুরুপান্ডবের ঘোরতর যুদ্ধ হইতেছিলো। এখন থেকে জয়দ্রথ বধ পর্যন্ত্য দ্রোণের আর কোনো ভুমিকা থাকবে না।

দ্রোণকে এড়িয়ে সাত্যকি ঢুকেছেন পদ্মব্যুহের মধ্যে। কৃতবর্মার সাথে তুমুল যুদ্ধ। ভোজরাজকে রথশুণ্য করে জিতলেন সাত্যকি। সময় নষ্ট করার নেই। সাত্যকি তবু তার সারথিকে আশ্বাস দিলেন, তুমি নিঃশংকচিত্তে মন্দগতিতে রথচালনা কর। নির্দেশ দিলেন ঐ যে ত্রিগর্ত্তদেশীয় রাজনেরা আছেন,সেখানে নিয়ে চলো আমাকে। রাজা জলসন্ধ নিহত হলেন সাত্যকির হাতে।এই যুদ্ধে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা যে হাতীর পিঠে সওয়ারী রাজা জলসন্ধ তরোয়াল বিঘুর্নিত করে ছুঁড়ে সাত্যকির শরাসন ছিন্ন করে দেন। তলোয়ারকে এইরকম ক্ষেপনীয় অস্ত্রের মতন ব্যবহার বিরল,যদিও এই ঘটনার কিছু পরেই ভীমসেনকে আমরা দেখবো এইভাবে হাতের তরোয়াল ছুঁড়ে কর্ণের ধনুক কেটে ফেলছেন। এইবারে শেষবারের মতন দ্রোণ আর সাত্যকির ডুয়েল হবে, এর আগে অপ্রতিরোধ্য সাত্যকি দুর্য্যোধনকে নাস্তানাবুদ করে তুলেছিলেন। কৃতবর্মাও সাত্যকির শরে সংজ্ঞা হারিয়ে নিজের রথের মধ্যে শুয়ে পরেন।

দ্রোণের সাথে লড়াইতে এইবারে সাত্যকির সারথি মুর্ছিত হয়ে পরলে সাত্যকি নিজেই রথ চালাতে শুরু করেন। আর ঐ অবস্থাতেই দ্রোণের সারথিকে নিহত করেন। সারথিহীন দ্রোণের ঘোড়াগুলি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে এলোমেলো ছোটাছুটি করতে থাকে। কিছুটা সামলে নিয়ে দ্রোণ ফিরে এসে দেখলেন যে ব্যুহ ভেদ করে সাত্যকি অনেক ভিতরে প্রবেশ করে গেছে। তিনি আবার স্বস্থানে অর্থাৎ ব্যুহদ্বারে ফিরে এসে পান্ডব ও পাঞ্চালদের নিবারিত করতে লাগলেন। অর্জুন,সাত্যকি আর ভীমও - পর পর তিন জন সেই অভেদ্য ব্যুহ ভেদ করে ঢুকে পরেছেন।

সেনাপতি হিসেবে দ্রোণ এইদিনে ব্যর্থ ছিলেন সন্দেহ নেই। পাঞ্চাল নিধনে তার অবসেসনও কিছুটা এর জন্য দায়ী।
সাত্যকিকে আটকাতে তখন বাকী রইলো দুর্যোধন।(কর্ণ ও অন্যান্য মহারথীরা তখনো পদ্মব্যুহের মধ্যে সুচীবুহ্যয় জয়দ্রথের প্রতিরক্ষায় সামিল।অর্জুন সেইখানে পৌঁছেছেন। সাত্যকির এখনো কিছুটা পথ বাকী)। দুর্য্যোধন আর দুঃশাসনের রণসংগীদের মধ্যে ছিলো যবন, শক, দরদ,বর্ব্বর ও তাম্রলিপ্তকেরা। এই তাম্রলিপ্তক কথাটাই ভাবায়। এ নিশ্চয় আমাদের তমলুক। এর আগে আসাম ও পুন্ড্র(উত্তর বংগ) সেনাদেরও মহাভারতকার ম্লেচ্ছ বলেছেন। যবনদের বিশেষণ হিসেবে ধনুর্ধর কথাটি ব্যবহার হয়েছে একাধিকবার ।এই যবনেরা লোহা আর কাঁসার বর্ম পরতো। তাদের লম্বা দাড়ি ছিলো।

সাত্যকি তিনশো ঘোড়া আর চারশো হাতী ঘায়েল করলেন।সবাই পালিয়ে যেতে থাকলে দুঃশাসন তখন পাহাড়িয়াদের পাঠালেন। তারা অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে লড়েন না,পাথর ছুঁড়ে যুদ্ধ করেন। এরকম পাঁচশো পাষাণযোদ্ধাও গতায়ু হল। তুংগন, খশ, লম্পক ও পুলিন্দ জাতির সেনাদের মৃতদেহে রণাংগন পুর্ণ হল।

সেই যে অর্জুনের দুই পার্শ্বরক্ষক ছিলো, দুই পাঞ্চাল বীর উত্তমৌজা ও যুধামন্যু। যারা শকট ব্যুহ ভেদ করলেও পদ্মব্যুহের মুখে এসে আটকা পরেন। কৃতবর্মাকে হারিয়ে কিছুতেই আর ভিতরে ঢুকতে পারেন নি। কিন্তু তারা হাল ছাড়েন নি, ধনুকও না।
সরাসরি লড়াই বাদ দিয়ে তারা কৌশলের আশ্রয় নিলেন। তারা চুপিচুপি কৌরব ব্যুহের পিছন দিক দিয়ে এসে ব্যুহের ভিতরে ঢুকবার চেষ্টা করলেন।দুর্য্যোধনের নজরে পরতেই তো তিনি রে রে করে তেড়ে এলেন। দুই পাঞ্চাল বীর একই রথের ভিতর থেকে তীর ছুঁড়ে দুর্য্যোধনের রথের ঘোড়াগুলিকে মেরে ফেললেন। দুর্য্যোধন রথ ছেড়ে গদা হাতেই ছুটে এলেন ওদের মোকাবেলায়। গদার আঘাতে ভেঙে দিলেন ওদের রথ।কিন্তু ওদের থামাতে পারলেন না।ওরা অন্য একটি রথে চড়েই অর্জুনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেন। অবশেষ ওরা পৌছেও যাবেন সূচীব্যুহে।


বিডি


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71