শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯
শুক্রবার, ১৩ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
কুরু-পাণ্ডব যুদ্ধের সপ্তম দিনটি কেমন ছিল
প্রকাশ: ০২:৫৯ pm ২৭-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০২:৫৯ pm ২৭-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


যুদ্ধ শুরু হবার আগেই দুর্যোধন রক্তাক্ত শরীরে গেলেন ভীষ্মের শিবিরে। বললেন কিছুই বুঝতে পারছি না কী ভাবে পান্ডবদের হারাবো? আমি মকর ব্যুহ ভেদ করেই ভিতরে ঢুকেছিলাম , কিন্তু ভীমসেনের বাণে নিতান্ত কাতর হয়েছি। "ক্রুদ্ধ ভীমসেনকে দেখিয়া আমি ভয়ে মুর্ছিত হইয়াছি"।

ভীষ্ম দুর্যোধনকে কাহিল ও দুঃখিত দেখে প্রচুর উৎসাহ দিলেন। বললেন আমি নিরপেক্ষ হয়েই পান্ডবদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। "হে মহানুভব ! আমি তোমার নিমিত্তে যুদ্ধ করিয়া প্রাণ ত্যাগ করিতেও উৎসাহ বোধ করিতেছি"। দুর্যোধনের জন্য শত্রুপক্ষ তো দুরের কথা, দেব বা দানবদেরও উনি ছেড়ে কথা বলবেন না। দুর্যোধন আশ্বস্ত হয়ে কৌরব সেনাদের যুদ্ধ সজ্জা করবার আদেশ দিলেন। ভীষ্ম দেখলেন দুর্যোধন তখনো চিন্তাকুল। তাকে ভীষ্ম আবার আশ্বস্ত করলেন ও দুর্যোধনের যুদ্ধক্ষতে বিশল্যকরণী ও অন্যান্য ওষধি নিজহাতে লেপন করে দিলেন।

ভীষ্ম সাজালেন মন্ডল ব্যুহ। পান্ডবরা সাজালেন বজ্র ব্যুহ। দুই পক্ষই তাদের ব্যুহ অটুট রেখে বিপক্ষের দিকে অগ্রসর হলেন।

যুদ্ধের শুরুতেই বিরাট আর তার তৃতীয় ও শেষ জীবিত পুত্র শংখ একইসাথে দ্রোণাচার্য্যকে আক্রমণ করলেন। দ্রোণাচার্য্যের বানে শংখের ঘোড়া ও সারথী নিহত হলে উনি বাবার রথে উঠে বসলেন, একই সঙ্গে লড়াই করবেন। কিন্তু দ্রোণের এক বাণে শংখ প্রাণ হারালে রাজা বিরাট পালিয়ে যান।

অভিমন্যুর সাথে জোর লড়াই হলো তিন কৌরব ভাইয়ের- চিত্রসেন, বিকর্ণ ও দুর্মর্ষণের। অভিমন্যু ওদেরকে রথহীন করেও প্রানে মারলেন না, কেনো না ভীম যে আগেই এনাদের সকলের জীবনের ইজারা নিয়ে নিয়েছেন।

এর মধ্যে শিখন্ডী ভীষ্মের মুখোমুখী হলে ভীষ্ম শিখন্ডীর ধনুক ছিন্ন করে ফেললেন। শিখন্ডীও তখনি রথ ঘুরিয়ে দে দৌড়। যুধিষ্ঠির দেখতে পেয়ে ছুটে এলেন। বললেন, যুদ্ধের আগেই তুমি কথা দিয়েছিলে যে তুমিই ভীষ্মকে হত্যা করবে, আর এখন "রণে পরাজিত ও ছিন্ন চাপ হইয়া বন্ধুগনকে পরিত্যাগ পূর্বক কাহারো অপেক্ষা না করিয়া কোথায় যাইতেছ?" আরো বললেন, ভয়ে তোমার মুখ শুকিয়ে গেছে। ঐ দেখো ,অর্জুন স্বয়ং চলেছেন ভীষ্মের মোকাবিলায়।

শিখন্ডী অগত্যা আবার ভীষ্মের দিকে রথ চালালেন। ভীষ্ম তখন অপ্রতিরোধ্য। তার বাণে আকাশ ছেয়ে গেছে। শিখন্ডীকে দেখে ক্রুদ্ধ হয়েই ভীষ্ম অন্যত্র চলে গেলেন।

ক্রমে সন্ধ্যা হয়ে এলো, সেদিনের মতন যুদ্ধ শেষ। সবাই নিজের নিজের শিবিরে ফিরে গিয়ে ক্ষতের চিকিৎসা ও "বিবিধ জলে" স্নান করে শান্ত হলেন।

বিডি
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71