শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
শনিবার, ১লা পৌষ ১৪২৫
 
 
কুলাউড়ায় মসজিদ-মন্দিরের সরকারি বরাদ্দ আ’লীগ নেতার পকেটে
প্রকাশ: ০২:২০ pm ০২-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:২০ pm ০২-০৭-২০১৭
 
 
 


কুলাউড়া : জেলার কুলাউড়া উপজেলায় অস্তিত্বহীন মসজিদ, মন্দিরের ভুয়া কমিটি, নামসর্বস্ব সামাজিক ক্লাব-সংগঠন দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ নিজ পকেটে ঢুকাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা ও স্থানীয় এক ইউপি সদস্য।

উপজেলার বরমচাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ চৌধুরী তুতি এবং চন্দন কুর্মি নামের স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

২৯ জুন বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর টাকা আত্মসাতের এমন অভিযোগ করেছেন বরমচাল চা বাগানের চা শ্রমীক এবং বরমচাল পরিবহন শ্রমীক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও অভিযোগ করেছেন মহলাল সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি-সম্পাদক।

লিখিত অভিযোগ থেকে এবং সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ সালের অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির ২য় পর্যায়ে কুলাউড়া উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মোট ৬৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪ শত ৫৮ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে ৮ টি প্রকল্পে মোট ৫ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

বরাদ্দকৃত প্রকল্পের মধ্যে কোনাগাঁও জামে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যদিও ওই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব বরমচাল ইউনিয়নে নেই। এছাড়া কালামিয়া বাজার জামে মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। এই নামেও কোনো মসজিদ খোঁজে পাওয়া যায়নি। বরমচালের কালামিয়ার বাজারে একমাত্র মসজিদ হচ্ছে ‘বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ’। এই মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইছহাক চৌধুরী ইমরান সোলার প্যানেলের জন্য বরাদ্দ সম্পর্কে কিছুই জানেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান।

এছাড়াও বরমচাল চা বাগানে অবস্থিত ‘শ্রী শ্রী কৃষ্ণ মন্দির উন্নয়ন’ প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ওই মন্দিরের সভাপতি সম্ভু বাউরী ও সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পাত্র এবং সাবেক বাগান পঞ্চায়েত স্থানীয় মুরব্বী গৌরা কুর্মি, অতুল কর্মকার মন্দির উন্নয়ন বরাদ্দের ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

তারা জানান, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য অনন্ত লালের সহযোগীতায় এই মন্দির কমিটির অধীনে এর আগে ২ বার সরকারি বরাদ্দ পেয়েছিলাম। কিন্তু এবার আমরা কিছুই জানি না।

এদিকে সোলার প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বরমচাল চা বাগানের ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই জানে না তাদের নামে বরাদ্দ হয়েছে। সুনু মির্ধা, খোকন বাড়াইক, মনোহর কুর্মি, ভুলা কুর্মি জানান, সপ্তাহ দিন আগে সোলার প্যানেল পাব বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি তাদের ভোটার আইডির ফটোকপি নিয়েছেন। এরপর আর কোনো খবর নেই।

এদিকে, প্রায় মাস আগে অন্য একটি সরকারি বরাদ্দে বরমচাল চা বাগানে ১৫ টি সোলার প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের ঘরে বিদ্যুৎ থাকা সত্বেও সোলার স্থাপন, আবার অনেকের (দিনমজুর) কাছ থেকে উৎকোচ (কারো কাছ থেকে ১০০০ আবার কারো কাছ থেকে ২৫০০ টাকা) গ্রহণ করে সোলার প্যানেল স্থাপন করে দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দকৃত প্রকল্পে ঘুষের বিনিময়ে শ্রমীকদের বরাদ্দ দেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বরমচালের ৮ টি প্রকল্পের মধ্যে ‘মহলাল সমাজ কল্যাণ ক্লাব’ নামক সংগঠনের বাস্তবে সভাপতি-সম্পাদক এক আর বরাদ্দে সভাপতি-সম্পাদক দেখানো হয়েছে অন্যদের। ভুয়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দেখিয়ে বরাদ্দ তুলে আনায় স্থানীয় পর্যায়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এইবেলাডটকম/নি এম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71