বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
কৃত্রিম আলোয় সবজি চাষ
প্রকাশ: ০৩:৫৩ pm ২৯-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৩:৫৩ pm ২৯-১১-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সূর্যের আলো ছাড়াই ফলছে হরেক রকম সবজি। ঘরের মধ্যে সাদা, লাল, নীল আলোতে দিব্যি বেড়ে উঠছে লেটুস, টমেটো, বেগুন, মরিচ, ক্যাপসিকাম, পালংশাক ও পুঁইশাক।

অবাক করা বিষয় সূর্যের আলোতে যতটা না তরতাজা হয়, তার চেয়ে বেশি তরতাজা কৃত্রিম আলোতে বেড়ে ওঠা এসব সবজি। কারণ এসব সবজিতে পোকামাকড় কিংবা রোগবালাইয়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। তাই কীটনাশক প্রয়োগেরও দরকার হয় না। বাইরের সারেরও প্রয়োজন পড়ে না। কেবল মাটির আর্দ্রতার নিরিখে নিয়মিত পানি দিতে হয়।
সূর্যের আলোর বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন বর্ণের এলইডি লাইট ব্যবহার করে ঘরের মধ্যে সবজি উৎপাদন নিয়ে গবেষণা করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষকরা। তাঁরা পদ্ধতিটির নাম দিয়েছেন ‘ইনডোর ভেজিটেবল প্রডাকশন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ ভবনের ছাদের ছোট্ট এক কক্ষে চলছে এই গবেষণা।

কক্ষটিকে ককশিট দিয়ে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে তাতে স্তরে স্তরে বসানো হয়েছে টব।

তার ওপরে স্ট্যান্ডের সাহায্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে লাল, নীল ও সাদা রঙের এলইডি লাইট। এসবের নির্দিষ্ট তীব্রতার আলোই আবাদ করা সবজিগুলোর সূর্যের আলোর চাহিদা পূরণ করছে।

এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত শেকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের ছাত্রী শামসুন্নাহার রিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে গবেষণা করে এবার আমরা সফল হয়েছি। এই পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ ও লাভজনক। বাড়তি কোনো পরিশ্রম নেই। আমরা টাইমার ব্যবহার করে সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আলো সরবরাহ করি। তবে খেয়াল রাখতে হয় মাটির আর্দ্রতা যেন শুকিয়ে না যায়। এ জন্য নিয়মিত পানি দিতে হয়। ’ তিনি জানান, টবের মাটি প্রস্তুত করার সময় পরিমাণমতো জৈব সার ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর আর বাড়তি কোনো সার প্রয়োগ করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণভাবেই একটি জৈব পদ্ধতি।

গবেষকদলের প্রধান ও শেকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ফ ম জামাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাঠের চেয়ে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন বেশি লাভজনক হবে। নীল আলো ব্যবহার করায় পোকামাকড় আসে না। তাই কীটনাশকও ব্যবহার করতে হয় না। পুরো পদ্ধতিটি ঘরের মধ্যে হওয়ায় সবজি নষ্টকারী পশুপাখিও আক্রমণ করতে পারে না। তাই উৎপাদন বেশি হয়। এ ছাড়া আলোর তীব্রতা ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমরা ইচ্ছামতো গাছের আকার নির্ধারণ করতে পারব। চাইলেই যেকোনো সময় ফুল-ফল ধরাতে পারব। ’

এই গবেষক আরো বলেন, ‘কিছু কিছু সবজির বীজ উৎপাদন করতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সেসব আবার চড়া মূল্যে আমদানি করতে হয় চীন, জাপান, থাইল্যান্ড বা ভারত থেকে। কিন্তু কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে দেশেই বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। ’এ বিষয়ে নিজের গবেষণায় সাফল্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে গত বছর মাত্র পাঁচ মাসে বাঁধাকপির বীজ উৎপাদন করেছিলাম। উৎপাদিত সেই বীজ থেকে চারা গজানোর হার ছিল ৮৭ শতাংশ। অথচ সাধারণভাবে এর বীজ উৎপাদন করতে দুই বছর লেগে যায়। ’

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71