বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কৃষি প্রাণ বৈচিত্র্য রক্ষায় অল্পনা রানীর অকল্পনীয় ভূমিকা
প্রকাশ: ০৪:৩০ pm ১৮-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৪:৩০ pm ১৮-১২-২০১৬
 
 
 


সাতক্ষীরা:: দেশের উপকুলীয় অঞ্চলের কৃষি বাড়ীতে কিছু কিছু দেশীয় ফল গাছ পাওয়া গেলেও অধিকাংশ ফল গাছ বিলুপ্তির পথে। স্বাদে ও পুষ্টিতে ভরপুর বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলজ গাছ সুরক্ষায় অনেকেই গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করছেন। এ রকম এক জন নারী শ্যামনগরের প্রত্যন্ত এলাকার নারী অল্পনা রানী।

জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের কৃষাণী অল্পনা রানী (৪৪) নিজের প্রচেষ্টায় টিকিয়ে রেখেছেন কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ কৃষি বাড়ি। একই সাথে নিজের মাত্র ৩৩শতক বসতভিটায় বছরব্যাপী বৈচিত্র্যময় সবজী উৎপাদন ও কৃষি চর্চার পাশাপাশি লাগিয়ে রেখেছেন নানা জাতের দেশীয় ফল গাছ। নিজের আঙিনাকে সাজিয়েছেন স্থানীয় জাতের ফল গাছ দিয়ে। অল্পনা রানী তার বসত ভিটার চার পাশে আম (গোবিন্দভোগ, আ¤্রপালি, হিমসাগর, বারমাসি আম, নিলাম্বরী, লতা) জাম, কলা (সবরী, কাঁচকলা, কাঁঠালে, বড়বাউলে, ঠুটে, ডয়রা) নারকেল, পেয়ারা (দেশী, কেজি ও লাল), টক আমগা, পানি আমড়া, সবেদা, জামরুল (সাদা ও লাল), বাতাবি লেবু, ডাবো, ডুমুর, তাল, খেজুর, করমচা, কেওড়া, কদবেল, পাতিলেবু, আঙুর, লিচু, আপেল, কুল (নারকেল, টককুল, বিলিতে), তেঁতুল, আঁশফল, জলপাই, গবেদা, কমলালেবু, ডালিম, বেদানা, কাঁঠাল, সুপারি, পেঁপে, গাব গাছ, দেশী বেল, আতা, আমলকি, হরিতকি, বহেরা, সহ প্রায় ৬০ প্রজাতির দেশীয় ফল।
 

অল্পনা রানী বৈচিত্র্যময় ফলজ বাগান দেখার জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ সহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ পরিদর্শনে আসেন। নিজের বাগানের মৌসুমী ফল নিজেদের পারিবারিক চাহিদা পুরণ, আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ এর মাধ্যমে আন্ত;সম্পর্ক উন্নয়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 

অল্পনা রানী বৈচিত্র্যময় ফলজ বাগান দেখার জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গ, সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ সহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ পরিদর্শনে আসেন। নিজের বাগানের মৌসুমী ফল নিজেদের পারিবারিক চাহিদা পুরণ, আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ এর মাধ্যমে আন্ত:সম্পর্ক উন্নয়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 

বাড়িতে নানা জাতের ফল গাছ লাগানোর ব্যাপারে কৃষাণী অল্পনা রানী বলে, “আগে আমাদের এলাকায় নানা ধরণের দেশীয় ফল গাছ দেখা যেত, এখন দেখা যায় না, এগুলো লাগানো মুল উদ্দেশ্য বাজার থেকে আমাকে কোন ফল কিনতে হয় না, নিজের বাগানের বিষমুক্ত ফল খেতে পারি, সেই সাথে বড় ধরনের খরচের হাত থেকে রক্ষা পাই। এসকল ফলজ বাগান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বারসিক আমাকে বিশেষ সহযোগিতা করেছে।”
অল্পনা রানীর ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সহ মোট ৪জনের সংসার। স্বামী ও সন্তানের সহযোগিতায় গৃহস্থালীর কাজ, বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন, প্রানী সম্পদ পালন,এবং সমন্বিত কৃষি কাজ (পাতার চাতর তৈরি, ধান রোপন, ধান কাটা মাড়াই, বীজ সংরক্ষণ) সহ সব ধরণের কাজ করেন। স্থানীয় ফলজ বনায়নের পাশাপাশি ঔষধি উদ্ভিদবৈচিত্র্য হিসেবে অনন্তমূল, অপরাজিতা, ঈষাণমূল, লালকেউটে, কালকেউটে, শিউলি, সোনাঝুরি, কৃষ্ণ তুলসী, রাধা তুলসী, মাধবীলতা, যাঁতিফুল, শিষ আকন্দ, শ্বেত আকন্দ, বাউফুল, কানফুল, ঝাউগাছ, চিরবসন্ত, পাথরকুচি, দূর্বাঘাস, মেহেদী, ধুতরা, গাদাফুল অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য হিসেবে আদাবরুন/বিলশাক, তেলাকচু, ঘুমশাক, কলমীশাক, গাদামনি শাক, হেলাঞ্চ, মাটিফোড়া শাক, খুদকুড়ো, হাতিশূর, সেঞ্চি শাক, ঘোড়া সেঞ্চি, কাটানটি, গিমে শাক, থানকুনি, কালকচু প্রদর্শনী প্লট করে সংরক্ষণ করেছেন।
কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক ১৪১৯ ব্রোঞ্জ পদক গ্রহণ করেন। এজাড়াও বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার সহ আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে নানা ধরনের পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।

অল্পনা রানীর ফল বাগান উপকুলীয় শ্যামনগর উপজেলার একটি শ্রেষ্ঠ মডেল বললে ভুল হবেনা যা অনেকে মত প্রকাশ করেন। এলাকা উপযোগি প্রায় সব ধরণের ফলজ গাছের বাগান করে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করেছেন। স্বাদে ও পুষ্টিতে ভরা অল্পনা রানীর বৈচিত্র্যময় ফলজ বাগান একদিকে যেমন তার পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পুরণ করে ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে অপরদিকে আর্তনির্ভরশীলতা ও বৈচিত্র্য সুরক্ষায় গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখছে যা এলাকার কৃষিবিদদের মতামত ।s

 

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71