বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
কেমন ছিলো কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে চতুর্থ দিনটি 
প্রকাশ: ০৯:৪৮ pm ২০-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৪৮ pm ২০-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


পান্ডবপক্ষকে তো কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের শুরুতেই শিখন্ডী জানিয়েছিলেন যে তাঁর সৃষ্টিই হয়েছে ভীষ্ম নিধনের জন্য। ভীষ্মও কুরুপক্ষকে বলেছিলেন শিখন্ডীর সাথে তিনি যুদ্ধ করবেন না। সেই মতন দুর্যোধন নির্দেশও দিয়েছিলেন শিখন্ডী যেনও ভীষ্মের কাছে না আসতে পারে। কিন্তু পান্ডব পক্ষে একবারও দেখি না শিখন্ডীকে ভীষ্মের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

চতুর্থ দিনে দুই পক্ষেই ব্যাল বুহ রচনা করে। বর্ধমানের মহারাজার স্পনসর্ড অনুবাদে এই ব্যাল ব্যুহের উল্লেখ পেয়েছি কিন্তু আর কোনো অনুবাদে ব্যুহের নাম নেই। ব্যাল' এর আভিধানিক অর্থ হিংস্র পশু, অনেক ক্ষেত্রে নিদৃষ্ট করে সাপকেও বলা হয়। তো সর্প ব্যুহ বললে তাও একটা অনুমান করা যায় ব্যুহের আকৃতি কেমন ছিলো।

মহাভারতে শুধু লেখা আছে পান্ডব ব্যুহের কর্ণদেশে (অর্থাৎ সামনের সাড়িতে দুই ফ্ল্যাংকে) চার হাজার করে হাতী ছিলো। এইসব ব্যুহ সজ্জা কিন্তু করতেন রাজা যুধিষ্ঠিরই। ধৃষ্টদ্যুম্নের কোনো ভূমিকাই ছিলো না।

যুদ্ধ শুরু হলো। আকাশ ধুলোময়। এই সংকুল যুদ্ধের মধ্যে ভীষ্মের নজরে এলো অর্জুনের কপিধ্বজ পতাকা। সেই মতন তিনি তাঁর সব মহারথীদের নিয়ে অর্জুনের দিকে অগ্রসর হলেন। সেই দেখে অভিমন্যু, ব্যুহদ্বার থেকে বার হয়ে এসে অর্জুনকে আড়াল করে দাঁড়ালেন। ভীষ্ম তাঁকে "অতিক্রম করে", মানে পাশ কাটিয়ে অর্জুনের মুখোমুখী হলে দুজনে দ্বৈরথ শুরু হল।

অভিমন্যু কিন্তু কুরুপক্ষের পাঁচ রথী, যারা ভীষ্মের অনুবর্ত্তী ছিলেন, তাঁদের রুখে দিলেন। অশ্বত্থামা, ভুরিশ্রবা, শল্য আর বাকী দুজন হচ্ছেন চিত্রসেন ও সাংযমনির পুত্র। এঁরা কারা? চিত্রসেন নামে এক বিখ্যাত গন্ধর্ব রাজা ছিলেন আর আরেকজন চিত্রসেন হচ্ছেন কর্ণের এক ছেলে। আর সাংযমনি বা তার অনামা পুত্রেও কোনো হদীশ নেই। যদিও বেশ বিস্তারিত ভাবে অভিমন্যুর সাথে এদের লড়াইয়ের কথা রয়েছে।

সপুত্র অর্জুনকে নিহত করবার জন্য দুর্যোধন কেকয় ও মদ্র দেশীয় সেনাদের সেইখানে পাঠালেন আর সেই দেখে ধৃষ্টদ্যুম্নও দলবল নিয়ে সেখানে হাজির। ধৃষ্টদ্যুম্নের বাণে সাংযমনি পুত্র রথ ও সারথীশুন্য হলে তিনি তরোয়াল হাতে ধৃষ্টদ্যুম্নের দিকে ছুটলেন আর গদার আঘাতে প্রাণ হারালেন।

তবে আজকের প্রতাপশালী কিন্তু সেই ভীমসেন। হাতী দেখলেই ভীম রথ থেকে নেমে গদা হাতে হাতীদের বধ করতে থাকেন। আজকের যুদ্ধেও তিনি ভয়ংকর হয়ে উঠে প্রচুর গজসেনা বিনাশ করলে দুর্য্যোধনের সাথে তার দ্বৈরথ শুরু হয়। এর পরে চোদ্দজন কুরু ভাই এক যোগে ভীমকে আক্রমণ করলে ভীম সাত জন কৌরব রাজকুমারকে নিহত করেন। যে একশো ভাইকে হত্যা করার সংকল্প তিনি করেছিলেন, এই চতুর্থ দিন থেকে সেই প্রতিশোধের পালা শুরু হল।

তখন দিনও শেষ হয়ে আসছে। সেই সময়ে ঘটোৎকচ ভয়ানক যুদ্ধ শুরু করলে ভীষ্ম দ্রোণকে ডেকে বললেন,"দুরাত্মা ঘটোৎকচের সহিত যুদ্ধ করিতে আমার অভিরুচি হইতেছে না"। আমরা সবাই খুবই বিক্ষত। আমাদের বাহনেরাও পরিশ্রান্ত ।"এক্ষণে পান্ডবেরা জয়ী হইয়াছে, অতএব আমার বিবেচনায় উহাদিগের সহিত যুদ্ধ করা উচিৎ নহে"। আজ থাক, কাল না হয় আবার যুদ্ধ করা যাবে।

সেই মতন চতুর্থ দিনের যুদ্ধ শেষ হলো। কৌরবেরা "পরাজিত ও লজ্জিত" হয়ে নিজেদের শিবিরে ফিরে গেলেন। অন্যদিকে পান্ডবেরা ভীম ও ঘটোৎকচের প্রশংসা করতে করতে নিজেদের শিবিরে ফিরে গেলেন। দুর্য্যোধন সাত ভাইকে হারিয়ে চিন্তাকুল হয়ে পড়লেন।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71