রবিবার, ১৯ মে ২০১৯
রবিবার, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
 
 
কেরানীগঞ্জে গৃহকর্মীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা
প্রকাশ: ০৬:২২ pm ২২-০৩-২০১৭ হালনাগাদ: ০৬:২২ pm ২২-০৩-২০১৭
 
 
 


ঢাকা:: অভাবের তাড়নায় গৃহকর্মীর কাজ করতে ঢাকায় এসে লাশ হয়ে ফিরলেন মংলার এক তরুণী। গৃহকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ফুটন্ত গরম পানিতে তার শরীর ঝলসে দেয়। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় গৃহকর্মী ছটফট করতে থাকলে তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হয়। পরে গৃহকর্মীকে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা করতে চাপ দেয় বাড়ির লোকজন। এতে রাজি না হওয়ায় গৃহকর্মীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এতেও প্রাণে বেঁচে গেলে দগ্ধ গৃহকর্মীকে চিকিৎসা না দিয়ে গৃহকর্তা পাঠিয়ে দেয় খুলনায়। সেখানে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মঙ্গলবার ভোরে মারা যান গৃহকর্মী।

নিহত গৃহকর্মীর নাম ফাতেম বেগম (২২)। তার বাড়ি খুলনার মংলায় সিগনাল টাওয়ার এলাকায়। বাবার নাম মোজাম সরদার। নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বামী পরিত্যক্তা এ তরুণী অভাবের তাড়নায় ৯ মাস আগে কাজের উদ্দেশে ঢাকায় আসেন। গৃহকর্মীর কাজ নেন দক্ষিণ কোরানীঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় দোলোয়ার হোসেনের বাসায়। বেতন ছাড়াই পেটেভাতে কাজ করতে থাকেন। বৃহস্পতিবার সকালে গৃহকর্তার বাড়ির লোকজনের কাপড় ধোয়ার সময় অসাবধানতাবশত দুটি কাপড়ে রং লেগে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গৃহকর্তা দেলোয়ার ও তার ছেলে আশিক ফাতেমাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় গৃহকর্ত্রী সালমা ফাতেমার শরীরে গরম পানি ছুড়ে দেয়। এতে ফাতেমার পুরো শরীরে ফুসকা পড়ে ঝলসে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হয়। সেখানে হত্যার উদ্দেশে ফাতেমার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বাড়ির লোকজন। এতেও প্রাণে বেঁচে যান ফাতেমা। এ অবস্থায় ঢাকায় কোনো চিকিৎসা না দিয়ে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে ফাতেমাকে খুলনা নিয়ে যায় গৃহকর্তা দেলোয়ার। পরিচয় গোপন রেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফাতেমাকে ভর্তি করে সেখান থেকে পালিয়ে আসে দেলোয়ার ও তার লোকজন। আসার আগে ফাতেমার অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর তার পরিবারকে মুঠোফোনে জানায় দেলোয়ার। হাসপাতালে ৪ দিন পর চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার ভোরে মারা যান ফাতেমা।

জানা গেছে, মৃত্যুর আগে হাসপাতালে স্বজনদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন ফাতেমা। তার এ বর্ণনা মোবাইল ফোনে ভিডিও করা হয়েছে। ফাতেমা জানান, প্রথমে গৃহকর্তা দেলোয়ার ও তার ছেলে তাকে মারধর করে। পরে সালমা শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ছুড়ে মারে। প্রতিবেশীরা যাতে জানতে না পারে সেজন্য তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হয়। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ফাতেমা। এ অবস্থায় ফাতেমাকে হাসপাতালে না নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করতে চাপ দেয় বাড়ির লোকজন। এতে রাজি না হওয়ায় মুদি দোকান থেকে কেরোসিন এনে তারে শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দেলোয়ার ও তার পরিবারের সদস্যরা।

মংলা থানার ওসি লুৎফুর রহমান জানান, ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, মংলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাদের অবগত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71