শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
শুক্রবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদকে নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে !
প্রকাশ: ০৬:১৩ pm ১৪-০৪-২০২০ হালনাগাদ: ০৬:১৩ pm ১৪-০৪-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদ তার ব্যবহার্য কিছু জিনিসিপএ তার ছোট বাচ্ছা ও নতুন বৌকে হাত লাগাতে দিতো না। ঐ ব্যগটি এখন খুলে দেখা গেছে সেখানে কয়েকটি মোবাইল সিম পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এটা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ঐ মোবাইল সিম দিয়ে সে বাংলাদেশে তার পরিবার ও ছেলে মেয়েদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতো এটা নিশ্চিত।

এবার মূল কথায় আসা যাক বঙ্গবন্ধুর কয়েকজন খুনির ফাঁসি হয়েছে ২০০৯ সালেই। আজ ২০২০ অর্থাৎ প্রায় ১১ বছর। আব্দুল মাজেদের নূরানী চেহারা দেখে সকলেই ধরে নিয়েছে মোটামুটি সচ্ছলভাবেই তিনি ছিলেন। সাথে সাথে ঢাকার পরিবার, ছেলে আমেরিকা, নতুন বৌ ও মেয়ে কলকাতার পার্কস্ট্রিটে। আহ কি মজা!

এমন একজন খুনী, যার নামে ইন্টারপোল-এ অ্যালাট ছিল, ভারত বাংলাদেশের কোন গোয়েন্দারাই তার খবর দিতে পারলো না! আমরা জানি যে কোন মানুষ যে কোন অ্যাপসের মাধ্যমে হোক বা সরাসরি কথা বলুক! শুধুমাএ টেলিফোনে/ মোবাইলে কথা বললেই তাকে আইডেন্টিফাই করা সম্ভব। এটা কোন রকেট প্রযুক্তি নয় বর্তমান সময়ের জন্য। আব্দুল মাজেদ অবশ্যই তার ঢাকায় অবস্থিত স্ত্রীর সাথে মোবাইলের মাধ্যমে কথা বলে যোগায়োগ রক্ষা করে চলতো। সাধারণের মতামত এই যে, শুধুমাএ তার ঢাকার স্ত্রীকে মনিটরিং এর মধ্যে রাখলেও তো অনেক আগেই আব্দুল মাজেদকে ধরা সম্ভব হতো।কিন্তু কেন হয় নাই সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তাহলে কি সাধারণ মানুষ ধরে নেবে ক্যাপ্টেন(বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদের খুঁটির জোর অর্থাৎ শিঁকড় ছিলো অনেক গভীরে ? বঙ্গবন্ধুর খুনীর অবস্থা এ রকম হলে যেখানে তার মেয়েই আছে বাংলাদেশের সরকারী ক্ষমতায় তাহলে অন্যদের বেলায় কি অবস্থা হয় তা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে।

এবার আসি কলকাতার পার্কস্ট্রিটের সেই ডেরার খবর নিয়ে- তাকে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখেনি মহল্লার মানুষ। হিংসা-বিবাদ তো দূর অস্ত! লোকটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন নিয়ম করে। সেই তাদের মাস্টার মশাই নাকি বঙ্গবন্ধুর খুনি! এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না লকডাউনের পার্ক স্ট্রিট। এই পার্কস্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আব্দুল মাজেদ।

গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মিরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে রীতিমতো অবাক পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের বাসিন্দারা! কিন্তু আব্দুল মাজেদ নয়। পার্কস্ট্রিট তাকে চেনে আলি আহমেদ ওরফে ইংরেজির মাস্টার মশাই হিসেবে। এলাকার লোকে জানতো, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে থেকে পাশ করেছেন মাস্টার মশাই। টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাতেন তিনি। প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মাজেদ। পরে পার্কস্ট্রিটে চলে আসেন।

২০১১ সালে তার থেকে ৩২ বছরের ছোট উলুবেড়িয়ার সেলিনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের ছয় বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বছর বাহাত্তরের মাজেদের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পিজি হাসপাতালে একপ্রস্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হয়।

দিনটা ছিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি। পিজি হাসপাতাল থেকে সেই রিপোর্ট আনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সেটাই শেষ। আর বাড়ি ফেরা হয়নি মাজেদের। স্বভাবতই উদ্বিগ্ন স্ত্রী রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। তদন্তে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। পিজি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ তন্ন তন্ন করে ঘাঁটলেও হদিশ মেলে না মাজেদের।

এরপর পুলিশ মাজেদের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ব্যাগ পায়। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং এক মহিলাসহ তিনজন শিশুর ছবি পাওয়া যায়। স্ত্রী সেলিনা পুলিশকে জানায়, ব্যাগের মতো তার অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসে কাউকে হাত দিতে দিতেন না মাজেদ।

মহল্লায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না তিনি। টিউশনির পাশাপাশি বড়জোর এলাকার এক চায়ের দোকান, রেশন দোকান এবং এক বিল্ডার্সের দোকানে আড্ডা দিতেন মাজেদ। বাড়ির সদর দরজায় সব সময় তালা লাগানো থাকতো। বাইরের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হতো না। এক আধ বছর নয়, এভাবেই আঠারো-উনিশ বছর ডেরা বেঁধে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন আব্দুল মাজেদ।

২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল মাজেদের যাত্রাপথের একাংশের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে পুলিশের।

পরবর্তী খবর বাংলাদেশে যা আমাদের সকলের জানা।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71