বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ক্ষয়ে যাওয়া ইতিহাস রায় বাহাদুর সূত্রাপুর জমিদারবাড়ি
প্রকাশ: ০১:৩৭ pm ২৭-০১-২০১৮ হালনাগাদ: ০১:৩৭ pm ২৭-০১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


পুরান ঢাকার সূত্রাপুর জমিদারবাড়ির মূল কাঠামো ও নকশা অক্ষুণ্ন রেখেই সেখানে গড়ে তোলা হবে দেশের প্রথম ফায়ার স্টেশন জাদুঘর। সূত্রাপুরের আর এম দাস রোডে অবস্থিত এই স্থাপনা রেবতী মোহন লজ নামেও পরিচিত। এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত ভবনের তালিকায় রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে নির্মিত সুদৃশ্য এই ভবন অনেক দিন ধরেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের আবাসিক কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ পুরোনো ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন একটি ভবন নির্মাণের আবেদন জানালে অধিদপ্তর আপত্তি জানায়। অধিদপ্তর সেটি না ভেঙে সেখানে একটি জাদুঘর গড়ে তোলার সুপারিশ করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে এক বৈঠকে ভবনটির কাঠামো ও নকশা অক্ষুণ্ন রেখে একটি ফায়ার স্টেশন জাদুঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিসহ স্থপতি ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, জাদুঘরের নকশা কেমন হবে, আন্তর্জাতিক মান অক্ষুণ্ন রেখে সেখানে কী কী উপকরণ প্রদর্শন করা যেতে পারে, এই বিষয়গুলো ঠিক করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে অধিদপ্তরের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নাজির হোসেনের কিংবদন্তির ঢাকা গ্রন্থ থেকে জানা যায়, এই বাড়ির মালিক ছিলেন রায় বাহাদুর সত্যেন্দ্র কুমার দাস। ব্রিটিশ আমলে তিনি একাধারে জমিদার, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও প্রেস মালিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি ঢাকা পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। আর এম দাস রোডের নাম রাখা হয়েছে তাঁর বাবা রেবতী মোহন দাসের নামে।

সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও উপজেলা সদরে ১৫৬টি ফায়ার স্টেশন স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এ জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. আতাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, এটি হবে দেশের প্রথম ফায়ার স্টেশন জাদুঘর।

আতাউল হক জানান, এখন ভবনের সামনে খোলা জায়গায় একটি ছোট ফায়ার স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। এতে করে ভবনটির যাতে সৌন্দর্যহানি না হয়, সে ব্যাপারে লক্ষ রাখা হয়েছে। নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ভবনটিকে জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে দুটি আলাদা তিনতলা ভবনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সাদা রঙের এই স্থাপনা তৈরি হয় বিশ শতকের শুরুতে। এর দক্ষিণ অংশটি অপেক্ষাকৃত প্রাচীন। এই অংশ দিয়ে ভবনের প্রবেশমুখ প্রায় ৫০ ফুট উঁচু। প্রবেশমুখের দুই পাশ ও ভবনের স্তম্ভগুলো নজরকাড়া ফুল-পাতার কারুকাজশোভিত। এই অংশে বিভিন্ন আয়তনের ৩৫টি কক্ষ আছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুটি ভবনের ভেতরেই একটি করে ৫০ বর্গফুটের উন্মুক্ত আঙিনা আছে। তিন পাশ ভবন দিয়ে বেষ্টিত। পূর্বদিকের উন্মুক্ত অংশ দিয়ে একটি করে পথ চলে গেছে ধোলাইখালের দিকে।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71