বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
খরা কাটল রেমিটেন্সের
প্রকাশ: ০৯:৪৫ am ০৪-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৪৫ am ০৪-১২-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ১২১ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৮ শতাংশ এবং বিগত মাস অক্টোবরের চেয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার রেমিটেন্স সংক্রান্ত হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ব্যাংকিং চ্যানেলে ৫৭৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের এই পাঁচ মাসের চেয়ে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রেমিটেন্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গত অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও রেমিটেন্স কমেছিল। এবার সে খরা কেটে গেছে।

তিনি বলেন, রেমিটেন্স বাড়াতে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোসহ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ সবের ইতিবাচক ফল এখন লক্ষ করা যাচ্ছে।

“তবে আমাদের সবার একটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। আমাদের অনেক প্রবাসী বিভিন্ন দেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছে। তারা কিন্তু আর আগের মতো রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে না।”

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত বলেন, চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসের মধ্যে এক মাস (সেপ্টেম্বর) ছাড়া বাকি চার মাসেই ভালো রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এটা অর্থনীতির জন্য সুখবর।

অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এই গবেষক।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেছেন, ঈদের পরের মাসে বরাবরই কম রেমিটেন্স পাঠান প্রবাসীরা। সে কারণে কোরবানির ঈদের পরের মাস সেপ্টেম্বরে কম রেমিটেন্স এসেছিল। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে তা বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। একক মাসের হিসেবে এটা ছিল সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর আগে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৯২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কারণে বেশ কিছু দিন ধরে বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহে ভাটা পড়েছিল। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম রেমিটেন্স আসে।
 
২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার রেমিটেন্স আসে। দ্বিতীয় মাস অগাস্টে আসে ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার।

অক্টোবর মাসে এসেছে ১১৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ (১৫.৩১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স বাংলাদেশে আসে।

এরপর প্রতিবছর রেমিটেন্স কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আড়াই শতাংশ কমে রেমিটেন্স আসে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে তা সাড়ে ১৪ শতাংশ কমে আসে ১ হাজার ২৭৭ কোটি ডলার, যা ছিল আগের ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রেমিটেন্সের উৎস দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দা এবং মোবাইল ব্যাংকিংসহ অন্যান্য মাধ্যমে হুন্ডি প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈধপথে প্রবাসীদের অর্থ কম আসছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রায় পুরো সময় ধরে পড়তির দিকে থাকা রেমিটেন্স চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। কিন্তু সেপ্টেম্বরে ফের তা কমে যায়।

অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে তা ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিটেন্সের নিম্নগতি সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছিল।

রেমিটেন্স বাড়াতে মাশুল না নেওয়াসহ নানা ঘোষণাও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নভেম্বরে ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের রেমিটেন্সের মধ্যে সরকারি ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ৯৯ লাখ ডলার।

৩৯টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৯২ কোটি ডলার। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা।

বিএম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71