বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
খিদিরপুরের কার্ল মাকর্স সরণিতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি আজ বেদখলে!
প্রকাশ: ০১:৫২ pm ২৬-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:৫২ pm ২৬-০৬-২০১৭
 
 
 


প্রতিবেশী ডেস্ক : বাংলার কিংবদন্তি কবি মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন ও সংলগ্ন জমি আজ বিপন্ন।

সেখানে তাঁর স্মৃতি ধরে রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট দায়িত্ব দিয়েছে হেরিটেজ কমিশনের ওপর। রাজ্য হেরিটেজ কমিশন এবং কলকাতা পুরসভার হেরিটেজ কমিটি এখন ঘোর দ্বিধায়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত কিংবা তাঁর পরিবার আদৌ খিদিরপুরের কবিতীর্থ এলাকার ওই ভূখণ্ডে বাস করতেন কি না তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। হেরিটেজ কমিশন ও পুরসভার হেরিটেজ কমিটি নাকি তেমন কোনও তথ্য খুঁজে পাচ্ছে না। ওই বাড়ি ও ভূখণ্ডের বর্তমান মালিক শেখ মহম্মদ সালাউদ্দিন। অর্থবলে, বাহুবলে এলাকায় তার খ্যাতি আছে। তিনি নিজেই ওই ভূখণ্ডের ওপর বিরাট ফলক টাঙিয়ে দিয়েছেন। তাতে লেখা— ‘‌যাঁরা সরকারি নথি–সহ প্রমাণ করতে পারবেন এই ভূখণ্ডে মাইকেল মধুসূদন দত্ত থাকতেন, তাঁকে ২৫ লক্ষ টাকা তিনিই পুরস্কার দেবেন।’‌

খিদিরপুরের উড়ালপুল ফ্যান্সি মার্কেটের কাছে যেখানে মাটিতে পা রেখেছে, সেখান থেকে বাঁদিকে একটু গেলেই ২০এ, বি ও সি— তিনটি প্রেমিসেস নম্বর নিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্তের পৈতৃক ভিটে বলে কথিত। মধুসূদনের জীবনীকার গোলাম মুর্শেদের লেখা ‘‌খিদিরপুরের ইতিকথা’‌য় এবং বাংলার অনেক গ্রন্থ ও রচনায় ১৮৩৭ থেকে ১৮৬২ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ওই বাড়িতে থেকেছেন বলে উল্লেখ করা আছে। ১৯৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের হেরিটেজ কমিশন গঠিত হয়। প্রতাপচন্দ্র চন্দ্রের কমিশনের রিপোর্টেও তা বলা আছে। অরুণ দের নেতৃত্বে কলকাতা পুরসভার হেরিটেজ কমিটির রিপোর্টেও তা বলা আছে। যার সদস্য ছিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, সমীর রক্ষিত, তপন বৈদ্য, ইন্দ্রজিৎ চৌধুরি ও দেবাশিস বসুর মতো বিশিষ্ট জনেরা।

২০০৫ সালে এটাকে কলকাতার হেরিটেজ তালিকার গ্রেড–২–এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, মাইকেল মধুসূদন দত্ত এই বাড়িতে থাকতেন। কিন্তু পরে নাকি এটাকে গ্রেড–৩ করা হয়েছে। গ্রেড–৩ তালিকাভুক্ত হলে সেই ভবন ও আবাসস্থলে যা কিছু নির্মাণ করা যায়, শুধু ইতিহাস সংবলিত একটা ফলক থাকলেই হল। বাস্তবে এই ফলকের কোনও অর্থ নেই। হিন্দু প্যাট্রিয়টের প্রকাশক ও সম্পাদক হরিশ মুখার্জির আবাসস্থলে কয়েক বছর আগেও এরকম একটা ফলক ছিল। এখন সেখানে বহুতল। ফলকটিকেও ফেলে দেওয়া হয়েছে। হরিশ মুখার্জির নামে রাস্তা আছে। তাঁর বাড়িটির কোনও চিহ্ন নেই। মধুসূদন দত্তের বাবা মুন্সি রাজনারায়ণ দত্ত রামনারায়ণ বসু সর্বাধিকারীর কাছ থেকে বাড়ি ও জমি কিনেছিলেন। রামনারায়ণ বসু কাশীপ্রসাদ ঘোষের মাতামহ।

কাশীপ্রসাদ ঘোষ ১৮৩০ সালে ইংরেজি ভাষায় ‘‌দি সায়ের অ্যান্ড আদার পোয়েম’‌ নামে কাব্য লিখে হইচই ফেলেছিলেন। বাঙালির লেখা প্রথম ইংরেজি কাব্য। কাশীপ্রসাদের মতো মধুসূদনও ছিলেন হিন্দু কলেজের ছাত্র। ১৮৪৩ সালে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পর ওই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। পরে বাবার মৃত্যুর পর তিনি বাড়ির মালিক হয়েছিলেন। ১৮৬২ সালে ইংল্যান্ডে ব্যারিস্টারি পড়তে যাওয়ার সময় বন্ধু কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই হরিমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বাড়িটি বিক্রি করে দেন। ওই পাড়াতেই আর এক কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। যে–সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন বাড়ির নম্বর থাকত না। এলাকাটি কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত ছিল না। ফলে হেরিটেজ কমিশন বা কমিটির কাছে নথি না থাকাটাই স্বাভাবিক। ইংল্যান্ডের অ্যাভন নদীর তীরে ছোট্ট শহর স্ট্রাডফোর্ডে শেক্সপিয়রের বাড়ি। ৫০০ বছর আগের বাড়িটি আজও তখনকার মতো করে রাখা আছে। সরকারি নীতি নয়, কাহিনীকারদের কাহিনীর ভিত্তিতেও ওটা হেরিটেজ। সালাউদ্দিন বললেন, ১৮৭৪ থেকে আমি জমির দলিল দেখে ওটা কিনেছি। তখন ওটার মালিক ছিলেন রামলোচন সরকার। প্রসঙ্গত, ১৮৭৪ সালে মধুসূদন মারা গেছেন।

সালাউদ্দিন বললেন, খবরের কাগজ আর কাহিনীকাররা বানিয়ে বানিয়ে কাহিনী লেখেন। সরকারি নথিতে এটাকে হেরিটেজ বললে আমি ছেড়ে দেব। হাইকোর্ট বিল্ডিংটাই তো হেরিটেজ তালিকায় নেই। শোনা যাচ্ছে, মধুমেলা কমিটি মধুসূদনের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ১৫ জুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে আবেদন জানিয়েছে। বাংলাদেশের গোলাম মোর্শেদ, আনিসুজ্জামান–সহ বিশিষ্ট জনেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে মধুর স্মৃতি রক্ষার আবেদন করছেন। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির কন্যা বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে এনেছেন। এখন দেখা যাক কী হয়?‌ ‌‌‌

এইবেলাডটকম/নি এম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71