রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
গরম জল কেন খাবেন?
প্রকাশ: ১০:১৯ pm ১০-০২-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:১৯ pm ১০-০২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


প্রাচীন লোকগাথাগুলিতে স্বাস্থ্য ভাল রাখতে গরম জলের ভূমিকার অনেক উল্লেখ পাওয়া যায়। ত্বক, পেশি এবং স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা উচিৎ।
 
জল রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং কোষগুলিকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কয়েক গ্লাস উষ্ণ অথবা গরম জল পান করলেও অনেক সুফল পাওয়া যেতে পারে। অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন, স্বাস্থ্য ভাল রাখার একটি সহজ উপায় গরম জল।
 
গরম জল পান করার সুফল
হাজার বছর ধরে মানুষ উষ্ণ কিংবা গরম পানীয় গ্রহণ করে আসছে। প্রাচীন লোকগাথাগুলিতে স্বাস্থ্য ভাল রাখতে গরম পানির ভূমিকার অনেক উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সবে মাত্র এই বিষয়ে গবেষণা করতে শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের সে সব গবেষণার উপর নির্ভর করে গরম জল পান করার ৮টি সম্ভাব্য সুফল তুলে ধরা হল:
 
হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি
যদি কেউ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করে তাহলে খাদ্য এবং পানীয় থেকে দেহ যে পানি পায় তার প্রায় সবটুকুই ক্ষুদ্রান্ত্র শোষণ করে নেয়। এর ফলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা হতে পারে এবং অন্ত্রে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতার কারণে দীর্ঘমেয়াদের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। তা থেকে অন্ত্রের ব্যথা এবং অন্যান্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন হেমোরোইডস বা অর্শরোগ এবং ব্লটিং বা উদরস্ফীতি। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে এ সকল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
 
শরীর থেকে ক্ষতিকারক উপাদানসমূহ দূরীকরণ
বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, গরম জল শরীর থেকে ক্ষতিকারক উপাদান দূর করতে সাহায্য করে। জল কোনো ব্যক্তির দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করার মত গরম হয়ে উঠলে তা ঘামের সৃষ্টি করে। ঘামের ফলে শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকারক উপাদানগুলি বের হয়ে যায়।
 
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি
গরম জল রক্তনালী সম্প্রসারণ করে যার ফলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এটি পেশি সঞ্চালনকে আরামদায়ক করে এবং ব্যথা কমায়। যদিও গরম জলের সাথে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধির যোগসূত্র নিয়ে কোনো সরাসরি গবেষণা হয়নি, তবুও ধারণা করা হয় রক্তনালীর ক্ষণস্থায়ী সম্প্রসারণের ফলেও পেশি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্য দিয়ে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
 
ওজন কমানো
দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকেরা দাবি করে আসছেন, জল বেশি পান করলে ওজন হ্রাস পায়। এর একটি কারণ হতে পারে, জল পান করলে খিদে কম লাগে। এছাড়াও জল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে এবং দেহ থেকে অপ্রয়োজনীয় উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। ২০০৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায় ঠাণ্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানির চাইতে গরম পানি পান করলে ওজন হ্রাসের হার বেড়ে যায়। গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে খাওয়ার আগে ৫০০ মিলি. পানি পান করলে খাদ্য পরিপাকের হার ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। পানির তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি করলে পরিপাকের হার বেড়ে যায় ৪০ শতাংশ। পরিপাকের এই হার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
 
ব্যথা কমাতে সাহায্য করে
গরম পানি বিশেষত আঘাতপ্রাপ্ত পেশিতে রক্তের প্রবাহ এবং সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। তবে ব্যথা কমাতে গরম জলের ভূমিকা নিয়ে কোনো সরাসরি গবেষণা নেই। যা হোক, মানুষ ব্যথা কমানোর জন্যে নিয়মিত হিট প্যাক এবং গরম জলের বোতল ব্যবহার করে। গরম জল পান করলে হয়ত অভ্যন্তরীণ ব্যথা কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে তাপ দেয়ার ফলে আঘাতপ্রাপ্ত অংশ স্ফীত হয়ে উঠতে পারে।
 
সাইনাসের সমস্যা কমাতে
ঠাণ্ডা লাগার ফলে এবং অ্যালার্জির কারণে সাইনাসের উপর যে চাপ সৃষ্টি হয় তা উপশম করতে তাপের বেশ ভাল ভূমিকা রয়েছে। ধোঁয়াও এক্ষেত্রে সুফল দিতে পারে। গরম জল পান করলে মিউকাস বা শ্লেষ্মা জাতীয় পদার্থ নরম হয় কিংবা গলে যায়। এর ফলে কাশি ও সর্দি বেড়ে যায় এবং ভিতরে জমে থাকা পদার্থ দ্রুত বের হয়ে আসে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়।

স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে
এক কাপ গরম জল ক্লান্তি এবং দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে পারে। একটি পুরনো গবেষণা থেকে দেখা যায় গরম পানীয়, যেমন চা কিংবা কফি স্ট্রেস কমাতে ও দুশ্চিন্তা হ্রাস করতে সাহায্য করে। গবেষণায় বলা হয়, এর কিছুটা ঘটে ক্যাফেইনের প্রভাবে। তবে এক্ষেত্রে উষ্ণতারও ভূমিকা রয়েছে।

নি এম/

প্রাচীন লোকগাথাগুলিতে স্বাস্থ্য ভাল রাখতে গরম জলের ভূমিকার অনেক উল্লেখ পাওয়া যায়। ত্বক, পেশি এবং স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা উচিৎ।
 
জল রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং কোষগুলিকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কয়েক গ্লাস উষ্ণ অথবা গরম জল পান করলেও অনেক সুফল পাওয়া যেতে পারে। অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন, স্বাস্থ্য ভাল রাখার একটি সহজ উপায় গরম জল।
 
গরম জল পান করার সুফল
হাজার বছর ধরে মানুষ উষ্ণ কিংবা গরম পানীয় গ্রহণ করে আসছে। প্রাচীন লোকগাথাগুলিতে স্বাস্থ্য ভাল রাখতে গরম পানির ভূমিকার অনেক উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সবে মাত্র এই বিষয়ে গবেষণা করতে শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের সে সব গবেষণার উপর নির্ভর করে গরম জল পান করার ৮টি সম্ভাব্য সুফল তুলে ধরা হল:
 
হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি
যদি কেউ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করে তাহলে খাদ্য এবং পানীয় থেকে দেহ যে পানি পায় তার প্রায় সবটুকুই ক্ষুদ্রান্ত্র শোষণ করে নেয়। এর ফলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা হতে পারে এবং অন্ত্রে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতার কারণে দীর্ঘমেয়াদের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। তা থেকে অন্ত্রের ব্যথা এবং অন্যান্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন হেমোরোইডস বা অর্শরোগ এবং ব্লটিং বা উদরস্ফীতি। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে এ সকল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
 
শরীর থেকে ক্ষতিকারক উপাদানসমূহ দূরীকরণ
বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, গরম জল শরীর থেকে ক্ষতিকারক উপাদান দূর করতে সাহায্য করে। জল কোনো ব্যক্তির দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করার মত গরম হয়ে উঠলে তা ঘামের সৃষ্টি করে। ঘামের ফলে শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকারক উপাদানগুলি বের হয়ে যায়।
 
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি
গরম জল রক্তনালী সম্প্রসারণ করে যার ফলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এটি পেশি সঞ্চালনকে আরামদায়ক করে এবং ব্যথা কমায়। যদিও গরম জলের সাথে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধির যোগসূত্র নিয়ে কোনো সরাসরি গবেষণা হয়নি, তবুও ধারণা করা হয় রক্তনালীর ক্ষণস্থায়ী সম্প্রসারণের ফলেও পেশি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্য দিয়ে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
 
ওজন কমানো
দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকেরা দাবি করে আসছেন, জল বেশি পান করলে ওজন হ্রাস পায়। এর একটি কারণ হতে পারে, জল পান করলে খিদে কম লাগে। এছাড়াও জল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে এবং দেহ থেকে অপ্রয়োজনীয় উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। ২০০৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায় ঠাণ্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানির চাইতে গরম পানি পান করলে ওজন হ্রাসের হার বেড়ে যায়। গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে খাওয়ার আগে ৫০০ মিলি. পানি পান করলে খাদ্য পরিপাকের হার ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। পানির তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি করলে পরিপাকের হার বেড়ে যায় ৪০ শতাংশ। পরিপাকের এই হার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
 
ব্যথা কমাতে সাহায্য করে
গরম পানি বিশেষত আঘাতপ্রাপ্ত পেশিতে রক্তের প্রবাহ এবং সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। তবে ব্যথা কমাতে গরম জলের ভূমিকা নিয়ে কোনো সরাসরি গবেষণা নেই। যা হোক, মানুষ ব্যথা কমানোর জন্যে নিয়মিত হিট প্যাক এবং গরম জলের বোতল ব্যবহার করে। গরম জল পান করলে হয়ত অভ্যন্তরীণ ব্যথা কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে তাপ দেয়ার ফলে আঘাতপ্রাপ্ত অংশ স্ফীত হয়ে উঠতে পারে।
 
সাইনাসের সমস্যা কমাতে
ঠাণ্ডা লাগার ফলে এবং অ্যালার্জির কারণে সাইনাসের উপর যে চাপ সৃষ্টি হয় তা উপশম করতে তাপের বেশ ভাল ভূমিকা রয়েছে। ধোঁয়াও এক্ষেত্রে সুফল দিতে পারে। গরম জল পান করলে মিউকাস বা শ্লেষ্মা জাতীয় পদার্থ নরম হয় কিংবা গলে যায়। এর ফলে কাশি ও সর্দি বেড়ে যায় এবং ভিতরে জমে থাকা পদার্থ দ্রুত বের হয়ে আসে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়।

স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে
এক কাপ গরম জল ক্লান্তি এবং দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে পারে। একটি পুরনো গবেষণা থেকে দেখা যায় গরম পানীয়, যেমন চা কিংবা কফি স্ট্রেস কমাতে ও দুশ্চিন্তা হ্রাস করতে সাহায্য করে। গবেষণায় বলা হয়, এর কিছুটা ঘটে ক্যাফেইনের প্রভাবে। তবে এক্ষেত্রে উষ্ণতারও ভূমিকা রয়েছে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71