শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯
শনিবার, ৫ই শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
গর্ভধান সম্বন্ধে সনাতন ধর্ম কি বলে জেনে নিন
প্রকাশ: ১০:০৫ am ১৯-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:০৫ am ১৯-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বিবাহিত অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনের মূল লক্ষ্য হল সুস্থ- সবল, গুণবান, যশস্বী, ধার্মিক, সুশীল সন্তান প্রাপ্তি। স্ত্রী পুরুষের স্বাভাবিক গঠন এমন যে তারা পরস্পর মিলিত হলে স্ত্রী গর্ভবতী হয়। কিন্তু এই মিলনের জন্য তিথি নক্ষত্র, দিন ক্ষণ, শুভ ও অশুভ বিচার করে দিন নির্ধারণ করা হয় তবে তার সুপ্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে।

স্মৃতি শাস্ত্রে লিখিত আছে-
নিষেকাদ্ বৈজিকং চৈনো গার্ভিকং চাপমৃজ্যতে ।
ক্ষেত্রসংস্কার সিদ্ধিশ্চ গর্ভাধানফলং স্মৃতম্ ।।

অর্থাৎ বিধি বিধান মতো এবং সংস্কার মতো গর্ভাধান থেকে শুভগুণ সম্পন্ন সুযোগ্য সন্তান সৃষ্ট হয়। আর এই সংস্কার থেকেই বীর্য
ও গর্ভ সংক্রান্ত পাপের নাশ হয়। দোষ নষ্ট হয়। ক্ষেত্র সংস্কার হয়। এগুলিই হল গর্ভাধান সংস্কারের ফল বা পরিণতি।

নানা সমীক্ষা ও গবেষণার দ্বারা এটা প্রত্যক্ষ করা হয়েছে গর্ভাধান কালে স্ত্রী-পুরুষ যেমন ভাবনায় ভাবিত থাকেন, বা তাদের মানসিক অবস্থা যেমন থাকে তা তাদের রজঃ বীর্যে প্রতিফলিত হয়। সেই থেকে সৃষ্ট সন্তানের ওপরে সেই ভাবনা পড়ে।

সুশ্রত সংহিতায় লেখা আছে –
আহারাচার চেষ্টা ভিয়াদৃশোভি সমন্বিতৌ ।
স্ত্রীপুংসৌ সমুপেয়াতাং তয়োঃ পুত্রোত্তপি তাদৃশঃ ।।
( সুশ্রত সংহিতা / শরীর ২/৪৩/৫০ )

অর্থাৎ- নর নারী যেমন আহার ব্যবহার বা প্রচেষ্টায় মিলিত হয়ে পরস্পর সহবাস করে তাদের পুত্র সন্তানও তেমনি স্বভাব প্রাপ্ত হয়। ঋতুকালের চতুর্থ দিনে স্নান করে পবিত্র হয়ে শ্রদ্ধা ভরে সাত্বিক ভাবে ঈশ্বর, মহাপুরুষ দিগকে প্রণাম করে তাহার পর স্বামীর সাথে সহবাস করলে সুশীল, ধার্মিক, উত্তম সন্তান লাভ হয়।

রাত ১২ টা থেকে ভোর ৩ টের মধ্যে সহবাসের ফলে যে সন্তান জন্ম হয়- সে ভক্ত হয়। অর্থাৎ ধার্মিক হয়। ঋতুর চতুর্থ, ষষ্ঠ, অষ্টম, দশম, দ্বাদশ, পঞ্চম, সপ্তম, নবম, একাদশ রাত্রে সহবাস অতি উত্তম।

একদশী, দ্বাদশী বা কোন ব্রতের আগে বা ব্রতের দিন বা ব্রতের পরের দিন সহবাস করলে সন্তান অসুর হয়ে জন্মায়। অমাবস্যা, পূর্ণিমা, চতুর্দশী, রবিবার, সংক্রান্তি, অষ্টমী, গ্রহণ, বারবেলা, কালবেলা, রাক্ষসীবেলা, শনিবার, মঙ্গলবার, পূজা পর্বের দিন সহবাসে উৎপন্ন সন্তান রাক্ষস ও দুঃখী হয়। সকালে, সন্ধ্যায়, দুপুরে সহবাস নিষিদ্ধ।

দৈত্যমাতা দিতি জোর করে কশ্যপ মুনিকে প্রাতঃকালে সহবাসে বাধ্য করলে তাহাদিগের হিরন্যক্ষ–হিরন্যকশ্যপ নামক দুই অসুর পুত্র ও হোলিকা নামক এক আসুরী কন্যা জন্মায়। কেকসী সন্ধ্যাকালে বিশ্রবা মুনিকে সহবাসে বাধ্য করলে তাদের সন্তান রাবণ রাক্ষস হয়। সুতরাং ঐ সময়ে সহবাস নিষিদ্ধ ।

অল্প কথায় গর্ভাধান একটি পবিত্র কর্ম। শুদ্ধ বস্ত্রে, শুদ্ধ শয্যায়, শুদ্ধ চিত্তে সহবাসে লিপ্ত হতে হয় তবেই সুশীল, ধার্মিক, সুকুমার সুকুমারী পুত্র বা কন্যা সন্তান লাভ হয়।

ক্লান্ত, চিন্তিত, ভয়ার্ত, পায়খানা-প্রস্রাবের বেগ, ক্ষুধা, পিপাসা, মানসিক প্রতিকূলতার সময় সহবাস নিষিদ্ধ। গর্ভধারণের সময় ধর্ম চিন্তা করলে সন্তান ধার্মিক হয়।

গর্ভাধানের আগে এই মন্ত্র পড়তে হয়-
গর্ভং ধেহি সেনাবালি গর্ভং ধেহি প্রথুষ টুকে।
গর্ভং তে অশ্বিনী দেবাবাধাতাং পুষ্কর স্রজৌ।।

অর্থাৎ- সেনাবালি দেবি! এবং হে বিস্তৃত প্রথুষটুকা দেবী, তুমি এই স্ত্রীকে গর্ভধারণের সামর্থ্য দাও ও তাকে পুষ্ট করো। কমল মালায় অশ্বিনীকুমার ভাতৃদ্বয় তার গর্ভকে পুষ্ট করুন।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71