সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
গাইবান্ধায় অন্তঃসত্ত্বার পেটে চিকিৎসকের লাথি : মৃত সন্তান প্রসব
প্রকাশ: ১০:৩৯ pm ০৮-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৩৯ pm ০৮-০৮-২০১৭
 
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
 
 
 
 


গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় চিকিৎসকের দেয়া ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টের প্রতিবাদ করায় চিকিৎসকের লাথিতে ইসমত আরা নামে এক গৃহবধূর মৃত সন্তান প্রসবের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ক্ষিপ্ত রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের উপর ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একপক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

চিকিৎসক ডা. শরিফুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বড় সাতাইল বাতাইল গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী ইসমত আরা ১২ জুলাই গোবিন্দগঞ্জ নিরাময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শরিফুল আলম সুমনের কাছে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। তার দেয়া রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ইসমত আরার গর্ভে দুটি সন্তান রয়েছে।

এতে ইসমত আরার নিজের গর্ভের সন্তানের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তিনি ৪ আগস্ট স্থানীয় বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আরেকটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। সেখানকার পাওয়া রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়; ইসমতারার পেটে দুটি নয়, একটি সন্তান রয়েছে।

ওইদিনই ইসমত আরা ও পরিবারের লোকজন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শরিফুল আলম সুমনের কাছে রিপোর্ট দুটি দেখিয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে চান। এতে ডা. সুমন রোগীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি ওই গৃহবধূর পেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে ইসমত আরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত সোমবার তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন।

এ ঘটনায় ইসমত আরা বাদী হয়ে ডা. শরিফুল আলম সুমনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে ডা. শরিফুল আলম সুমন দাবি করেন, তিনি ওই গৃহবধূর পেটে লাথি মারেননি। বরং তার পরিবার এবং অন্যান্যরা তাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় তিনি গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. আমির আলী জানান, প্রাথমিক স্তরে গর্ভবর্তীর পেটের সন্তান সম্পর্কে সঠিক তথ্য আলট্রাসনোগ্রামে নাও আসতে পারে। এক্ষেত্রে তাই ঘটেছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে একটি সন্তানের কথাই বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই সন্তানটি প্রায় মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি ভুল তথ্যের কারণে শুধু চিকিৎসকের উপরেই হামলা করা হয়নি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গাইবান্ধার সিভিল সার্জন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ডা. শরিফুল আলম সুমনের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে হোসেন আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নি এম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71