বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
গোপাল ভাঁড়ের খোঁজে...
প্রকাশ: ১১:৫৯ pm ১২-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৫৯ pm ১২-০৪-২০১৭
 
 
 


বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ স্থান জুড়ে অবস্থান করেন তিনি, রসের হাঁড়ি যেন সত্যিই উপচে পড়ে তার গল্পে। তিনি কি শুধুই লোককাহিনীর একটি চরিত্র, নাকি সত্যি সত্যি একদিন প্রবল অস্তিত্বে বিরাজ করতেন মধ্যযুগের সেই নদীয়া রাজসভায়?

বলছি গোপাল ভাঁড়ের কথা, যার নাম নিলে সবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে গোলগাল মুখ, হেলতে দুলতে চলছেন একজন ভুঁড়িওয়ালা লোক, আর মুখের দিকে চাইলেই যাতে দেদীপ্যমান প্রখর বুদ্ধির জ্যোতি। আশেপাশের সবাই যার বুদ্ধির তীক্ষ্ণতায় কখনো না কখনো পরাজিত হয়েছিলেন, এমনকি রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ও! তবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বস্তুতই গুণীর কদর করতেন, গোপাল ভাঁড়ের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাই তিনিও ভাস্বর হয়ে আছেন গল্পগুলোতে।

ঠিকঠাক জবাব দিতে কখনো পিছু হটতেন না গোপাল, তাই একদিন রাজা যখন গোপালকে অনামুখো বা অপয়া বললেন, গোপাল ঠিকই রাজাকে বুঝিয়ে দিলেন রাজার ভুল।

গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য, অতঃপর বিতর্ক

সাহিত্যে তার বুদ্ধিদীপ্ততা আর হাস্যরস সম্পর্কে গল্প যত বেশি প্রচলিত, তার সম্পর্কে কিন্তু ততটা তথ্য নেই ইতিহাসে। অনেকটাই অস্পষ্ট তার বংশ কিংবা পরিবারের কথাও। এতটাই অস্পষ্ট যে তিনি ছিলেন, কি ছিলেন না তা নিয়েও রয়েছে মতান্তর।

গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে কিছুটা তথ্য পাওয়া গিয়েছে ১৯২৯ সালে নগেন্দ্রনাথ রচিত ‘নবদ্বীপ কাহিনী’ গ্রন্থে। এই গ্রন্থানুসারে, গোপাল ভাঁড় জাতিতে নাপিত ছিলেন, কিন্তু তার গল্পের কোথাও এটি লক্ষ্য করা যায় না। তার গল্পগুলো থেকে বোঝা যায় তিনি বিবাহিত ছিলেন। গোপালের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। মেয়ের নাম রাধারানী। তার দুই পুত্র রমেশ ও উমেশ। কিন্তু তার এক পুত্রের খুব অল্প বয়সেই মৃত্যু হয়।

ঐতিহাসিক ও ভাষাবিদেরা যা বলেন গোপাল ভাঁড়কে নিয়ে

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও ভাষাবিদ সুকুমার সেন বলেছেন “গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে আধুনিক বাঙালির কৌতুহল থাকার ফলে বাস্তব অথবা কল্পিত ব্যক্তিটির সম্পর্কে যে জনশ্রুতি জাতীয় ঐতিহ্য গজিয়ে উঠেছে ও উঠছে, তার বীজ হচ্ছে ভাঁড় নামের অংশটি, গোপাল ভাঁড়ের ভাঁড়টুকু সংস্কৃত শব্দ ভাণ্ডারের ‘ভাণ্ড’-জাত মনে করে অনেক গোপালের জাতি নির্ণয় করেছেন।” সুকুমার সেনের মতে, গোপাল বলে হয়তো কেউ ছিলেন না, লোকমুখে সৃষ্ট হয়েছেন এই ‘গোপাল ভাঁড়’।

২৮০ বছর পর গোপাল ভাঁড় নিয়ে একটি সংবাদ!

এবারের কলকাতা বইমেলায় গোপাল ভাঁড় সংক্রান্ত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকে কেন্দ্র করেই নাকি ২৮০ বছর পর মুখোমুখি হলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও গোপাল ভাঁড়ের বংশধরেরা! এখানে গোপাল ভাঁড়ের বংশধর বলতে মূলত নগেন্দ্রনাথ দাসের বংশধরদের কথাই বলা হয়েছে। তাই নগেন্দ্রনাথের তৈরিকৃত বংশলতিকা কিংবা তার নিজেকে গোপাল ভাঁড়ের আত্মীয় বলার বিষয়টি বিতর্কিত হয়, নিঃসন্দেহে এই সংবাদটিও খুব বিশ্বাসযোগ্য হবে না!

সে যাই হোক, এই বংশধরেরা রাজসভার মতোই নিয়ম করে বসেছিলেন এবং সেই কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার মতো আবহাওয়া সৃষ্টি করাই তাদের ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু সেই রাজাও নেই, নেই সেই তীক্ষ্ণবুদ্ধির গোপালও! আছেন যারা তারা শুধুই আজকের কর্পোরেট সমাজের একেকটি চরিত্র।

আজকের দিনে গোপাল ভাঁড়

এটি খুবই আনন্দের কথা যে, লোকসাহিত্যের আরো অনেক চরিত্রের মতো গোপাল ভাঁড় হারিয়ে যান নি। এন্ড্রয়েড অ্যাপ হোক, কমিকস কিংবা টিভি সিরিয়াল- ছোট-বড় সবার বিনোদনের কোনো না কোনো জায়গায় গোপাল ভাঁড় এখনো সগৌরবেই বিরাজ করছেন। হয়তো এজন্যই তাকে চিরায়ত একটি চরিত্র মনে করা হয়।

‘গোপাল ভাঁড়’ শুধু একটি নাম নয়, একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। একটি নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের জীবনযাপনকেও প্রতিফলিত করে তার গল্পগুলো। বাংলা সাহিত্যই বলি আর লোককাহিনীই বলি, গোপাল ভাঁড় এর একটি চিরায়ত ও অবিচ্ছেদ্য চরিত্র।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71