শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
গোয়ালঘরে শিয়ালের কামড় খাওয়া মায়ের অবস্থার উন্নতি
প্রকাশ: ০৭:২৪ pm ০৪-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:২৪ pm ০৪-০৬-২০১৭
 
 
 


ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে সন্তানদের অবহেলায় গোয়ালঘরে থেকে শিয়ালের কামড়ে আহত মা মরিয়ম নেছার (৯০) শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার তেজ পাটুলি গ্রামের মরিয়মের চিকিৎসা চলছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৮ মে ফুলবাড়িয়া উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিকেরা গোয়ালঘরে কাঁথা মুড়ে শুয়ে থাকা মরিয়ম নেছার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করার পর সেটি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে স্থানীয় সাংসদ, ইউএনওসহ অনেকেই ছুটে যান মরিয়মকে দেখতে। তাঁরা মরিয়মকে হাসপাতালে ভর্তি করান। ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন সাংসদ।

আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মরিয়ম নেছার পাশে ছোট ছেলে মারফত আলী, মেজ ছেলে মোবারক আলীর স্ত্রী ফরিদা বেগম ও প্রতিবেশী নাসরিন আক্তার বসে আছেন। মারফত আলী বলেন, ‘আমাদের অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। আর এমন ভুল হবে না। পৃথিবীর কোনো ছেলে যেন মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ না করে।’

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মরিয়ম নেছা খুব বেশি কথা বলতে পারছেন না। তাঁর অবস্থা জানতে চাইলে ক্ষীণ কণ্ঠে বলেন, আগের চেয়ে একটু ভালো। হাতের মুঠো দেখিয়ে বলেন, ‘আমারে তিন বেলা একটু ভাত দিলেই অইব।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার বলেন, অপুষ্টির কারণে তিনি শারীরিকভাবে খুব দুর্বল। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বয়স বেশি হওয়ায় তাঁর পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগতে পারে। শিয়ালের কামড়ের চিকিৎসাও চলছে। 

মরিয়ম নেছার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাঁর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। ১৯৭৫ সালে স্বামী মারা যান। কয়েক বছর আগে ছেলেদের অবহেলায় বাধ্য হয়ে ভিক্ষা শুরু করেন তিনি। কিন্তু হাঁটার ক্ষমতা হারানোর পর থেকে এক ছেলের গোয়ালঘরে থাকতেন। এক রাতে শিয়াল এসে কামড় দেয়। তবু চিকিৎসা করাননি ছেলেরা। মাকে দেখাশোনা করতে অবহেলার অভিযোগে গত ৩০ মে গ্রেপ্তার করা হয় মরিয়মের বড় ছেলে মোখলেছ আমিনকে।

এইবেলাডটকম /আরডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71