মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯
মঙ্গলবার, ১০ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
গোয়াল ঘরে থাকা সেই মায়ের দায়িত্ব নিলেন  প্রধানমন্ত্রী 
প্রকাশ: ০৬:৪০ pm ০৫-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৬:৪০ pm ০৫-০৬-২০১৭
 
 
 


ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ফুলবাড়ীয়ায় শেয়ালে কামড়ানো বৃদ্ধা মা মরিয়ম নেছার দায়িত্ব নিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার চিকিৎসাসহ যাবতীয় ব্যয়ভার রাষ্ট্রীয়ভাবে বহনের জন্য জেলা ময়মনসিংহের প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ‘সন্তানের অবহেলায় বৃদ্ধা মায়ের স্থান গোয়াল ঘরে’ এই শিরোনামে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে  সংবাদ প্রকাশের পর মরিয়ম নেছার পাশে দাঁড়ান সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, ফুলবাড়ীয়ার সাংসদ এডভোকেট মোসলেম উদ্দিন এবং মুক্তাগাছা আসনের সাংসদ সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি। তারা এই মায়ের চিকিৎসাসহ যাবতীয় খরচ বহনের ঘোষণা দেন।

এরপর আবারও ফুলবাড়িয়ায় সেই অসহায় মায়ের পাশে বিরোধীদলীয় নেত্রী সহ তিন এমপি এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। পরে তিনি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান বলেন, বৃদ্ধা মা আগের চেয়ে ভালো আছেন। হাসপাতালে তার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করছি তিনি দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠবেন। আজ সোমবার ( ৫ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ( মমেক ) হাসপাতালে ৮নং কেবিনে মেডিসিন ইউনিট-৩ ডাক্তার আকাশের তত্ত্বাবধানে নার্স সেফালী রায় বৃদ্ধা মাকে সেবা ও পরিচর্যা করছেন।

এখানে এখন প্রতিদিন তাকে দেখার জন্য হাসপাতালে মানুষের ভিড় জমে। নার্স জ্যোৎস্না জানান, শেয়ালে কামড়ানো বৃদ্ধা মা মরিয়ম নেছা ( ৯৮) এখন অনেকটাই সুস্থ্য। এধরনের রোগীর সেবা দিতে পেরে তারা আনন্দ পাচ্ছেন বলে জানান জ্যোৎস্না । ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার তেজপাটুলি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী মরিয়ম নেছার (৯৮) কথা। মায়ের প্রতি সন্তানদের নিষ্ঠুর অবহেলায় গোয়াল ঘরে স্থান হয়েছে তার। শুধু তাই নয়, খোলা স্থানে শোয়ার কারণে রাতে শিয়াল এসে তার পায়ের মাংস নিয়ে যায়। যেন তাকে দেখার কেউ ছিলনা। অথচ, পাঁচ সন্তানের জননী তিনি।

তিনি জানান, ১৯৭৫ সালে মারা যায় তার স্বামী। তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে বড় ছেলেকে মেট্রিক পাশ করান। বড় ও মেজু ছেলে বিয়ে করার পর মাকে রেখে স্ত্রী সন্তান নিয়ে চলে যায় অনত্র। স্বামীর ভিটায় নিজের বসত ঘর না থাকায়, ছোট ছেলের ঘরের বারান্দা থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে কোন রকম দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি।

এখন আর বয়সের ভারে তাও পারেন না। শতবর্ষ হলেও তার কপালে আজও জুটেনি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা। প্রায় নয় মাস আগে তিন ছেলে সিদ্ধান্ত নেন, প্রত্যেকের বাসায় তিন মাস করে থাকবেন মা। এরপর বড় ছেলের বাড়িতে আড়াই মাস রাখার পর তাকে রেখে আসে মেজু ছেলের বাড়িতে। মেজু ছেলে ২ থেকে ৩ দিন খাবার দেওয়ার পর কাউকে না বলে তাকে রেখে যায় ছোট ছেলের বাড়িতে। ছোট ছেলের ঘরে ঠাঁই না পেয়ে মরিয়ম নেছার জায়গা হয় ঘরের খালি বারান্দায়। তারপরও সন্তানদের কেউ খোঁজ-খবর নেয়নি এই মায়ের।

এ ঘটনায় বৃদ্ধার বড় ছেলে মুখলেছুর আমীনকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

 

 

এইবেলাডটকম/রবীন্দ্র নাথ/রাজু

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71