মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
গ্রামবাসীর উদ্যোগে কামারখন্দে ৬২৫ হাত বাঁশের সাঁকো
প্রকাশ: ০৭:৪৬ pm ২৫-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:৪৬ pm ২৫-০৮-২০১৭
 
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
 
 
 
 


হায় সেতু! তুমি কত আশাতীত অবলম্বন। সরকারী ভাবে আমাদের ভাগ্যে জুটিলে না। জুটিবেই বা কি করে? কেউ তো আর আমাদের কথা ভাবে না, ভাবি শুধু আমরা। তোমাদের ভাবতে ভাবতেই গেল বেশ কয়েকটি যুগ। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। ভাবনা  শুধু একবার ছিল হবে আমাদের সেতু। 

সরকারী ভাবে সেতু না হলেও আমরা আজ সুখী। তবে কেন? এ প্রশ্নটা একজন বিবেকবান লোকের কাছে দিয়ে দিলাম। এমনটাই ভাবনার কথা বলেছিল কামারখন্দের ষাটোর্ধ বৃদ্ধ এক বুড়ো। গ্রীস্মম বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত বসন্ত ছয়টি ঋতু নিয়েই আমাদের সোনার বাংলাদেশ। 

সেতুটি দেখার জন্য সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর নিকট থেকে জানা যায়, ফুলজোড় নদীটি ছিল তরঙ্গময়। নদীর ধারে জাল ফেলে পর্যাপ্ত মাছ মারতো গ্রামবাসী। আনুমানিক ঘন্টা খানিক জাল ফেললেই ধরা পরতো বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ। এখন আর তেমন মাছ পাওয়া যায় না ফুলজোড় নদীতে। ১৯৭১ সালের পর থেকেই শোনা যেত ফুলজোড় নদীর উপর দিয়ে সেতু হবে, সুবিধা পাবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্য এখনও ফুলজোড় নদীর উপর দিয়ে সেতু তো দুরের কথা একটি বাঁশের সেতুও মেলে নাই আমাদের কপালে। 

গ্রামবাসীর স্ব-উদ্যোগে তৈরি হলো বাঁশের সেতু। আনন্দ তাদের মনে, চলাচল করে যখন তখন। জল ভরা ফুল জোড় নদী পারা পারের একমাত্র অবলম্বন ছিল দেড় লক্ষ লোকের একমাত্র ডিঙি নৌকা। এখন আর ডিঙি নৌকা নয়, পারা পারের সুযোগ হলো ৬২৫ হাত একটি বাঁশে সেতু। শীত আর গ্রীষ্ম বাদে বছরের পুরোটা সময়ই পানিতে টুইটম্বুর থাকে ফুলজোর নদী। সে জন্য নদীর ওপারের ১ লাখ ৫০ হাজার লোকের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। দিনের বেলা কোনোরকম চলাচল করা গেলেও সন্ধ্যার পর বেকায়দায় পড়তে হয় গ্রামবাসীকে। চোখের সামনে বছরের পর বছর গ্রামবাসীর এমন দুর্ভোগ দেখলেও তাতে পাত্তা দেওয়ার সময় হয়নি এলাকার জনপ্রতিনিধিদের। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলেন ঔই গ্রামের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার সামছুল আলম শফি। তার উদ্যোগে হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়েছেন অন্য গ্রামবাসী। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ফুলজোর নদীর ওপর গড়ে ওঠল ৬২৫ হাত  লম্বা বাঁশের সাঁকো।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের ফুলজোর নদীর ওপর গড়ে ওঠা বাঁশের সাঁকো এখন সবার চোখেমুখে স্বস্তির হাসি ফুটিয়েছে। গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা গেল তাদের চোখে মুখে কতটুকু আনন্দের হাসি। সাঁকোর অভাবে আনুমানিক তিন মাস পূর্বে যে গ্রামবাসীর দুর্ভোগ-দুর্দশার অন্তঃছিলো না, তারা এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছেন। সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে রিকশা ভ্যান, মোটরসাইকেল। গ্রামবাসীর কাছে দেশের সবচেয়ে ‘দীর্ঘ’ বাঁশের সাঁকোটি দেখতে ছুটে আসছেন অনেকেই। ইঞ্জিনিয়ার সামছুল আলম শফি বলেন, অবহেলিত গ্রামবাসীর দিকে এলাকার জন প্রতিনিধিরা কেউ ফিরে তাকায়নি। সন্ধ্যার পর গ্রাম থেকে যখন গুরুতর রোগী আসতো, তখন অনেক দুর্ভোগ হতো। 

বৃষ্টির দিনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেতো। কিন্তু সবাই যদি মুখ ফিরিয়ে নেই তাহলে গ্রামবাসীর কী হবে? এমন চিন্তা থেকে কোনো কিছু করতেই নেমে পড়লাম বাঁশের সেতু নির্মান করতে। 

প্রায় আধা কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বাঁশের সাঁকোটি তৈরির কাজ শুরু হয় গত রোজার শেষ দিকে। এটি তৈরিতে গ্রামের লোকজন যে যার সাধ্যমতো বাঁশ ও শ্রম দিয়ে সাহায্য করেন। যারা বাঁশ দিতে পারেননি, তারা শ্রম দিয়েছেন। তাতেই মাত্র দেড় মাসে দাঁড়িয়ে যায় বাঁশের সাঁকোটি।

তবে উদ্যোগ নিয়েই যে সাঁকো তৈরি করে ফেলেছেন, এমনও নয়। বরং সাঁকো তৈরির কাজে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক শফিকে। প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়তে হয়েছে সামছুল হককে। সাঁকো তৈরির মাত্র দুই মাস সময়ে এতে দুর্বৃত্তের আঁচড় লেগেছে। সাঁকো থাকলে এখানে সেতু নির্মাণে সরকারের অনুদান পাওয়া যাবে না, এমন দুরভিসন্ধি করে দুইবার সাঁকোটি ভেঙে দেন প্রভাবশালীরা।

সাঁকোটি ঘুরে দেখার সময় চোখে পড়ে, কয়েকজন শ্রমিক সাঁকোটির ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত করছেন। তার, পেরেক দিয়ে খুঁজে খুঁজে ভাঙা অংশ ঠিক করা হচ্ছে। শ্রমিকরা জানান, সাঁকোটির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। এতে বিভিন্ন রং দেওয়া হবে, থাকবে নিশানা। এমনকি পুরো সাঁকোর ওপরে ছাউনি দেওয়ার কথা বলেন তারা। জুমার নামাজ আদায়ের জন্য সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছিলেন নদীর ওপারের চরদসশিকা গ্রামের ৭২ বছর বয়সী চাঁদ আলী। তিনি বলেন, সাঁকোর ফলে আমাদের এতো বছরের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।

৬৫ বছর বয়সী মনতাজ তালুকদার নদীর এপারের বাসিন্দা। সাঁকোর ফলে তারাও সুবিধা ভোগ করছেন বলে জানালেন দারুণ উচ্ছ্বাসে।
তার, পেরেক, গজালের গাঁথুনিতে তৈরি বাঁশের সাঁকোটি ৪টি গ্রামের দেড় লাখ বাসিন্দার যে দুর্ভোগ লাঘব করেছে, তা প্রভাবশালীদের ‘ধাক্কায়’ ভেঙে না পড়ে সে প্রত্যাশা স্থানীয়বাসীদের।

সি/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71