বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
বুধবার, ৮ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
গ্রীণসিটির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে যুবক হারুনের স্বপ্ন
প্রকাশ: ০৫:১১ pm ১২-১১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৫:১১ pm ১২-১১-২০১৮
 
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
 
 
 
 


সবুজ শ্যামলে ভরা এই বাংলাদেশ। আমাদের চার পাশে একটু ঘুরে তাকালেও দেখা যায় এই প্রকৃতির সৌন্দর্যময় চিত্র। বর্তমানে সমাজের ভারসাম্য কিছু বিপর্যস্তের দিকে গেলেও সরকার বিভিন্নভাবে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার্থে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে, এই সবুজ বাংলার এক সৌরভ ও সৌন্দর্যের প্রতীক নানান প্রকার ফুল গাছে গাছে শোভা পেলেও দেশের বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, সেমিনার, বিয়ে কিংবা পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলোক সজ্জায় ব্যবহার হয়ে থাকে। 

কিন্তু সমাজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে গ্রীণসিটির মাঝে সৌন্দর্যের প্রতীক ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন ফুলের চারা রোপন করে চলেছে শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের মৃত আব্দুল সাকিমের ছেলে হারুন অর রশিদ (ওসমান গণি)। তিনি একজন ছাত্র। সে এবছর কানসাট সোলেমান ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষার্থী। ছোট থেকেই ইচ্ছে পোষণ করে, ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দর্শনীয় স্থান, বিভিন্ন লোক সভালয় স্থানে বিভিন্ন জাতের ফুলের চারা রোপন করেন। তাঁর ইচ্ছে জন্মস্থান থেকে শুরু করে জেলা ও জেলার বাইরে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে এই ফুলের চারা রোপন করবেন।

বর্তমানে তিনি শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দর্শনীয় স্থানে ৩০/৩৫ প্রজাতির প্রায় ২ শতাধিক ফুলের চারা রোপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পলাশ, বকুল, কৃষ্ণচূড়া, কাঞ্চন, জারুল, সোনালু, চেরিসহ বিভিন্ন নাম করা প্রজাতির ফুলের গাছ।

তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গৌড় শহরের সোনামসজিদ, দরাসবাড়ি মসজিদ, খনিয়াদীঘি মসজিদসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ফুলের চারা রোপন করেছেন। এছাড়া উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এবং গোমস্তাপুর উপজেলার খোলশি ও রহনপুর পিএম আইডিয়াল কলেজে ফুলের চারা রোপন করেছেন। জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজের তিনি বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা রোপন করেছেন। বর্তমানে তাঁর বাড়ির ছাদে ৩০/৩৫ প্রজাতির প্রায় ৩ শতাধিক ফুলের চারা রয়েছে।

তিনি সুবিধামত জেলা প্রতিটা উপজেলার এসব স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন মসজিদ এবং দর্শনীয় স্থানকে সুসজ্জিত করতে চারাগুলো রোপন করবেন। 
স্থানীয়রা জানান, আমাদের গ্রামের ছেলে হারুন। সে ছোট থেকে ফুলকে ভালোবাসতো। ফুলকে ভালোবাসতে গিয়ে সে ফুলপ্রেমী হয়ে উঠছে। তার মন যখন যেখানে চাই, সে ফুলের চারা ও খুনতি (চারা লাগানো দেশী যন্ত্র) হাতে নিয়ে গিয়ে রোপন করে আসে। আমাদের জানা মতে, সে অনেক ফুলের চারা রোপন করেছে।

এব্যাপারে পিতৃহারা যুবক হারুন অর রশিদ (ওসমান গণি) জানান, আমি ছোট থেকে ফুলকে ভালবাসি। যেখানে ফুলের গাছ দেখতাম, সেখানেই গিয়ে ফুল গাছের পরিচর্যা করতে লাগতাম। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা ও মসজিদের সামনে কিংবার পাশের ফুলের চারা রোপন করেছি। এই চিন্তাটা আমি সব সময় ভাবতাম যে, কিভাবে এই সবুজ বনায়নের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করা যায়। মানুষ অনেক চিন্তা ও স্বপ্ন দেখেন এবং ইচ্ছে পূরণ করেন। আমি এই ফুলকে ভালোবেসে শুধু সমাজের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য জেলার শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দর্শনীয় স্থানে ৩০/৩৫ প্রজাতির প্রায় ২ শতাধিক ফুলের চারা রোপন করেছি। 

এর মধ্যে রয়েছে পলাশ, বকুল, কৃষ্ণচূড়া, কাঞ্চন, জারুল, সোনালু, চেরিসহ বিভিন্ন নাম করা প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। 

তিনি আরো জানান, শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নয়, আমার ইচ্ছে এই বাংলাদেশের প্রতিটা জেলা-উপজেলায় ফুলের চারা রোপন করে গ্রীণসিটি শোভাবর্ধিত সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলবো ইনশা আল্লাহ।

হারুন অর রশিদ (ওসমান গণি) জানান, আমি পারিবারিক দিক থেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য করি। আমার বাবা ২০১৪ সালে মারা যান। তাঁর অবর্তমানে আমি পরিবারের সব কিছু দেখা শুনা করছি। নিজের অর্থ দিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ দেশকে একটি গ্রীণসিটি শোভাবর্ধিত সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি। আমি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থণা করছি, যেনো আমি আমার সেই ইচ্ছে পূরণ করতে পারি।

এছাড়া তিনি আরো বলেন, আমি যে সব ফুলের চারা এপর্যন্ত রোপন করেছি তা রাজশাহীর বিভিন্ন নার্সারী থেকে নিয়ে আসা। এসব ফুল উন্নত প্রজাতির। 

নি এম/ইমরান 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71