শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
গ্লুকোমা কি? গ্লুকোমা হলে কি অন্ধ হযে যায়?
প্রকাশ: ০৮:১৭ pm ১৯-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:১৭ pm ১৯-০৩-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আমাদের চোখের ভিতর এ্যাকুয়াস হিউমার নামক তরল পদার্থ অবিরাম প্রবাহিত হচ্ছে। চোখের ভেতর স্বাভাবিক চাপ ১০-২০ মি.মি. পর্যন্ত। গ্লুকোমা হলে এই তরল পদার্থের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় ফলে চোখের ভিতর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এই অতিরিক্ত চাপের কারণে চোখের অপটিক নার্ভের ক্ষতি সাধন হয় ফলে চোখে দেখার পরিধি আস্তে আস্তে সংঙ্কুচিত হতে থাকে এবং শেষ পর্যায়ে দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্নভাবে লোপ পেতে পারে। এই অবস্থার নামই গ্লুকোমা। তবে চোখের চাপ স্বাভাবিক থাকা সত্বেও রুগী গ্লুকোমায় আক্রান্ত হতে পারে।

গ্লুকোমা শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও অনিবারণযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। এটা চোখের এমন একটি রোগ, যাতে চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে চোখের পেছনের স্নায়ু অকার্যকর হয়ে ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টি চলে যায়। স্নায়ু নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় বলে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি অনিরাময়যোগ্য অসুখ। ছোট থেকে বড় সবারই রয়েছে গ্লুকোমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। জন্মের সময় বেশ বড় চোখ এবং চোখে বাড়তি চাপ নিয়ে জন্মালে একে কনজেনিটাল গ্লুকোমা বা জন্মগত উচ্চ চক্ষুচাপ বলে। তরুণ বয়সেও হতে পারে, একে বলে জুভেনাইল গ্লুকোমা। বেশির ভাগ গ্লুকোমা রোগ ৪০ বছরের পরে হয়। এদের প্রাথমিক গ্লুকোমা বলে। যারা মাইনাস পাওয়ার চশমা পরে, যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের মধ্যে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তবে বেশি বয়সজনিত চোখের গঠনে পরিবর্তন, জন্মগত গঠনের ত্রুটি, ডায়াবেটিসজনিত চোখের রক্তহীনতা, আঘাত, অনিয়ন্ত্রিত স্টেরয়েড বা হরমোন থেরাপি, ছানি পেকে যাওয়া ইত্যাদি কারণেও গ্লুকোমা হতে পারে।

গ্লুকোমায় আক্রান্ত হওয়ার পর তা থেকে মুক্তির কোনো চিকিৎসা নেই। তবে ওষুধ ও সার্জারির মাধ্যমে আরো ক্ষতির হাত থেকে চোখ বাঁচানো যায়, দৃষ্টি হারানোর গতি কমিয়ে দেওয়া যায়। এর পাশাপাশি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হয়। যেমন- পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, লবণজাতীয় খাবার এড়িয়ে যাওয়া এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা। চোখের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি হলে একটি ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। চোখের চাপ যদি অনেক বেশি থাকে অথবা একটি ওষুধে যদি নিয়ন্ত্রণ না হয়, তাহলে দুটি অথবা তিনটি ওষুধ ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে। যদি দু-তিনটি ওষুধে চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকে এবং আস্তে আস্তে দৃষ্টিশক্তি লোপ পেতে থাকে, সে ক্ষেত্রে ট্রাবেকুলেকটমি নামের অপারেশনের মাধ্যমে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বাচ্চাদের গ্লুকোমা ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সে ক্ষেত্রে ট্রাবেকুলেকটমি, গনিয়টমি ইত্যাদি অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। সেকেন্ডারি গ্লুকোমার চিকিৎসার সঙ্গে কারণ চিহ্নিত করে তার প্রতিকার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি দুই মাস অন্তর ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তখন চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ এবং স্নায়ু পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে ফিল্ড টেস্ট করানো যেতে পারে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71