শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যোদ্ধা হয়ে কাজ করবে: জেলা প্রশাসক
প্রকাশ: ১০:২৭ pm ২৪-১১-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:২৯ pm ২৪-১১-২০১৮
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
 
 
 
 


উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যোদ্ধা হয়ে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান নিয়ে দেশের জন্য কাজ করবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতি চর্চাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের নিজেকে পারদর্শী করে গড়ে উঠতে হবে শিক্ষার্থীদের। জেলার ২০ হাজার ৫৯৮ জন শিক্ষার্থীর প্রায় কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রয়েছে, এটা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জন্য একটি অর্জন। কিন্তু আগামীতে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে এই স্কুল ব্যাংকিং এর আওতায় নিয়ে আসতে হবে। 

শনিবার সকালে স্কুল ব্যাংকিং করফারেন্স ও মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্মার্ট হতে হবে, একজন স্মার্ট শিক্ষার্থী কখনো পিছিয়ে পড়তে পারেনা। শিক্ষার্থীদের দেশের স্বাধীনতা, দেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে জানতে হবে, মুক্ত চিন্তার চর্চা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। 

তিনি অভিভাবকদের উদ্যেশ্যে বলেন, আপনার সন্তানের বেশী বেশী করেন যত্নবান হোন, অধিক সচেতন হয়ে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সতর্কভাবে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলুন। অভিভাবক ও শিক্ষক উভয়ে মিলে যত্নবান হলেই আমাদের শিশুরা যৌগ্যতা নিয়ে গড়ে উঠবে। 

তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, সুখী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো আমরা। এর আগে নবাবগঞ্জ টাউন ক্লাব মিলনায়তনে দিনব্যাপী স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স ও ব্যাংকিং মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক এ.জেড.এম নূরুল হক। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী জোনের মহাব্যবস্থাপক নুরুন নাহার, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল মালেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জয়নাল আবেদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে কনফারেন্সে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের জোনাল ব্যবস্থাপক ও স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স এর আহবায়ক মো. আব্দুল্লাহ সালাহ উদ্দিন গাজী। কনফারেন্সে আরও বক্তব্য রাখেন আমনুরা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আমেনা খাতুন ও শহরের হরিমোহন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাহেল আল মাহদী, নবাবগঞ্জ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাফিউল আজম ও আমনুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুদরত ই খুদা। 

উপস্থিত ছিলেন কামাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. খালেদা বেগম, প্রবীন সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা মো. তসলিম উদ্দিন, ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’র প্রকাশক ও সম্পাদক চ্যানেল আই’র জেলা প্রতিনিধি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক আলমগীর কবির কামাল, আলহাজ্ব মো. নাইমুল হক, আমিনুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা, জেলার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখার কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার নিখিল চন্দ্র কর্মকার, সিনিয়র অফিসার শেখ মো. মুখতার, মঈনুদ্দিন সেন্টুসহ অন্যরা। নবাবগঞ্জ ক্লাব চত্বরে বিভিন্ন ব্যাংকের ৬টি স্টল নিয়ে স্কুল ব্যাংকিং মেলায় শিক্ষার্থীরা ভিড় জমায়। স্কুল ব্যাংকিং করফারেন্সে জেলার ২৭টি বিদ্যালয়ের ২৭০জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যাগসহ অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। বক্তারা শিক্ষার্থীদের বেশী বেশী সঞ্চয়ী, আত্মবিশ্বাসী, আত্মসম্মানী, মুক্তচিন্তার অধিকারী হয়ে নিজেকে গড়ে তোলার আহবান জানান।  

কনফারেন্সে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের জোনাল ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ সালাহ উদ্দিন গাজী বলেন, ২০১০ সালে ১০ নভেম্বর শুরু হয় স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম। প্রথমে ৬ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত যে কোন শিক্ষার্থীই ব্যাংকে খুব সহজভাবে এ্যাকাউন্ট খুলে টাকা জমা রাখার নিয়ম থাকলেও পরবর্তীতে শিশু ক্লাশ থেকে শুরু করে ১৮ বছর বয়স সকল শিক্ষার্থীদের জন্যই স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী জোনের মহাব্যবস্থাপক নুরুন নাহার বলেন, শিশু বয়স থেকেই সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষেই এই স্কুল ব্যাংকিং এর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে। সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের মত শিক্ষার্থীর হিসাব নম্বরে জমাকৃত টাকার জন্য কোন বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ নেয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের জমাকৃত সমুদয় অর্থ উচ্চ শিক্ষার জন্য ব্যয় করার লক্ষ্য নিয়েই এই স্কুল ব্যাংকিং। তিনি বলেন এই স্কুল ব্যাংকিং এর সফলতা নিয়ে আসতে হলে, ব্যাংক কর্মকর্তাদের মানুষের দোরগোড়ায় পৌছাতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে শ্লোগান তোলেন “আমি সাহসী, আমি বিশ্বাসী, আমি পারি, আমি পারবো, আমি আমার জীবন গড়বো”। 

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. খাজামুদ্দীন তালুকদার বলেন, আমাদের শিশুদের সঞ্চয়ী করে গড়ে তুলে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের সুন্দরভাবে দেশের কাজে লাগানোর প্রত্যয়ে কাজ করার সাহস জোগাতে হবে। একজন শিশু তিলে তিলে জমানো টাকা দিয়েই সে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণেও ভূমিকা রাখতে পারে। বক্তারা কনফারেন্সে স্কুল ব্যাংকিং এর পাশাপাশি স্টুডেন্ট ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু করে সকল বয়সী শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ী মনোভাব তৈরী এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশ করার আহবান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আব্দুল রোকন মাসুম। 

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২০ হাজার ৫’শ ৯৮টি শিক্ষার্থীর হিসাব নম্বরে প্রায় ৫ কোটি টাকা জমা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে। দেশে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীদের হিসাব নম্বরে প্রায় ১৫’শ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

নি এম/ইমরান 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71