শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
ঘুম থেকে তুলে গৃহবধূকে গাছে বেঁধে মারধরের পর আনন্দ উল্লাস
প্রকাশ: ১১:১৪ am ০৬-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:১৪ am ০৬-০৮-২০১৭
 
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
 
 
 
 


ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গৃহবধু ও প্রবাসীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে দুইজনকে কোমর বেঁধে রাস্তায় ঘুরিয়ে আনন্দ উল্লাস করা হয়। শালিস বৈঠকের নামে দুই লাখ টাকা আদায় ও জোর করে কয়েকটি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগও রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও  সদস্য ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায়  ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন নির্যাতিত ওই নারী। শুক্রবার রাতে রামগঞ্জ থানায় এ মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত নারী। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেন ও সিরাজ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর এলাকার হতদরিদ্র পাঁচ সন্তানের জননী (পারুল বেগম) প্রতিদিনের মত সন্তানদের নিয়ে ১ আগষ্ট রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। অনৈতিক কার্যকলাপের অপবাদ দিয়ে ইউপি সদস্য ফারুক ও রুবেলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন লোক রাত সাড়ে ৩টার দিকে পারুল বেগমের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে তাকে ঘর থেকে বের করে বৈদ্যুতের খুটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। এর আগে একই বাড়ির প্রবাসী সবুজকে একই কায়দা গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালায় তারা।

পরে দুইজনকে কোমর বেঁধে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়ে আনন্দ উল্লাস করে। পুনরায় ওই বৈদ্যুতিক খুটির সঙ্গে তাদের দুইজনকে বেঁধে রাখা হয়। পরের দিন বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে শালিস বৈঠকের আয়োজন করে। এসময় ওই নারী ও প্রবাসীকে দুই লাখ টাকা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয় চেয়ারম্যান। এসময় পারুল বেগমের স্বামী আবদুর রহমানকে বেদম মারধর করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্যাতিতদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায় করা হয়। ওই নির্যাতনের চিত্র শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ঝড় উঠে জেলা জুড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে। শুক্রবার রাতে নির্যাতিত পারুল বেগম বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১১ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেন ও সিরাজ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে। জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নির্যাতিত পারুল বেগম ও সবুজ জানায়, চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের নির্দেশে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে ইউপি সদস্যসহ অন্যরা। কোমর বেঁধে রাস্তায় ঘুরিয়ে উল্লাস করা হয়। পরে বিচারের নামে জোর করে কয়েকটি সাদাকাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় চেয়ারম্যান। এসময় বিচারের নামে দুই লাখ টাকাও আদায় করেন তারা। এলাকায় কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না। ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ তাদের লোকজনের হুমকিতে আতংঙ্কে আছি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। 

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও নিজেদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, জরিমানার দুই লাখ টাকা দিয়ে পুকুরের ঘাটলার কাজ করা হবে। অনৈতিক কাজ করায় এলাকাবাসী তাদের দুইজনকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করছে বলেও দাবি করেন তারা। এ ঘটনার সঙ্গে তারা কোনভাবে জড়িত নয়।

লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার আসম মাহাতাব উদ্দিন জানান, নির্যাতনের সত্যতা মিলছে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

বিএম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71