বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
ঘুরে আসুন মধ্যযুগের ১০টি সেরা নিদর্শনে
প্রকাশ: ১২:৩৬ am ১২-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:৩৬ am ১২-০৪-২০১৭
 
 
 


মধ্যযুগের ব্যাপারে অনেক জেনেছি পড়েছি, এর অনেক কথা অনেক গাঁথা আমরা জনাই। এমনকি ইতিহাস পড়তে গিয়ে অনেক সময় আমরা অনেক রকমের  স্থাপনা, মন্দির, স্থান কিংবা ভাস্কর্য্য সম্পর্কে জেনেছি।

সেগুলোর আকার-আকৃতি, নকশা, সৌন্দর্য আর নির্মাণকৌশল সবাইকে অবাক করে দেয়। সে সময়ের সীমিত যন্ত্রকৌশলে এমন সব অসাধারণ  অবকাঠামো গুলো কিভাবে  নির্মাণ হলো?

এগুলোর মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের স্থাপনাগুলো নিয়েই কথাবার্তা হয় বেশি। এমন অনিন্দ্য সুন্দর ও অবাক করা নিদর্শন আছে পুরো বিশ্ব জুড়ে।

ওয়ান্ডারলিস্ট ওয়েবসাইটে ১০টি  এমন বিস্ময়কর স্থাপনার কথা জানানো হয়েছে যা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে দূরে। যার নাম ও হয়ত শুনা হয়নি কখনো জানা হয় নি অথচ এরা দখলে রেখেছে বিশ্বকে।

আসুন জেনে নেই সভ্যতা আর তার সৃষ্টি কে –

 

কিয়োটোর স্বর্ণমন্দির

জাপানের কিয়োটোতে অবস্থিত এক বিশাল স্বর্ণমন্দির যার স্থানীয় নাম ‘কিনকাকু-জি’। জাপানের তৎকালীন শাসক তৃতীয় সোগান ‘আশিকাগা ইয়োসিমিৎসু’  ১৩৯৭ সালে এটি বানিয়েছিলেন মূলত তার বাগানবাড়ী হিসেবে। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে এটিকে জেন বৌদ্ধমন্দিরে রূপান্তরিত করেন। মন্দিরটির ওপরের দুই তলা সম্পূর্ণরূপে সোনায় মোড়ানো।

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

জাপানের স্বর্ণমন্দির

ইৎজাদের চিচেন

মায়া সভ্যতার একটি স্থাপনা চিচেন। মেক্সিকোতে অবস্থিত এই চিচেন মূলত খ্রিস্টের জন্মের ৪০০ বছর আগে বানানো। এটি মায়াদের ‘ইৎজা’ গোত্র বানিয়েছিন। চিচেন নিয়ন্ত্রণ করতেন ইৎজা পুরোহিতরা কারণ ওদের প্রায় সব উৎসব-অনুষ্ঠানের কেন্দ্রই ছিল এটি।

ওদের ভাষায় চিচেন অর্থ ‘কুয়ার মুখ’। সেই মুখে ওরা স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করতে মানুষ উৎসর্গ করত। যারা সেখান থেকে বেঁচে ফিরে আসত, তারা ঋষির সম্মান পেত।  এই অদ্ভুত ধারণা থাকলেও বেশ প্রসিদ্ধ এই স্থানটি।

 

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

মায়া সভ্যতার ইৎজা চিচেন

হারিয়ে যাওয়া মাচু পিচু

ইনকা সভ্যতার হারিয়ে যাওয়া শহর মাচুপিচু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আট হাজার ফুট ওপরের এই শহর ইনকা সভ্যতার স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে। পেরুর উরুবাম্বা ভ্যালির চূড়ায় অবস্থিত শহরটির আরেক নামই হলো ‘ইনকাদের হারানো শহর’। ১৪৫০ সালের দিকে  ইনকারা মাচু পিচু শহর গড়ে তোলে। তখন ইনকা সভ্যতার রমরমা অবস্থা বিরাজমান ছিল।

অবশ্য শখানেক বছরের মধ্যেই, ১৫৭২ সালে স্প্যানিশদের আক্রমণে শহরটির পতন ঘটে।

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

হারানো মাচুপিচু

কলোসিয়াম

রোমান সাম্রাজ্যের সে সময়ের রোমানদের বিনোদনের কেন্দ্রস্থল ছিল কলোসিয়াম। ‘রোমান’ সাম্রাজ্যের অন্যতম সেরা স্থাপনা এটি। স্থাপনা টি এক দৈত্যাকৃতির অ্যাম্ফিথিয়েটার। বানানো হয়েছিল রোমান সাম্রাজ্যের ‘ফ্ল্যাভিয়ান’ যুগে। এখানে আয়োজন করা হতো গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই, নাটক, পশুশিকার, নকল সাগরের-লড়াই ইত্যাদি।

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

কলোসিয়াম

পিসার হেলে যাওয়া টাওয়ার

নির্মাণ ত্রুটির জন্য ইতালির পিসা শহরের এই টাওয়ার জগদ্বিখ্যাত। এটি মূলত পিসার বিখ্যাত ক্যাথেড্রালের বেল টাওয়ার। বেল টাওয়ারটা যেখানে বানানো হয়, তার মাটি একদিকে একটু নরমই ছিল। কাজ শুরুর পর থেকেই তাই টাওয়ারটি একদিকে ঝুঁকতে থাকে। ১১৭৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও হেলতে থাকা কমেনি! পরে অবশ্য টাওয়ারটির হেলে পড়া থেমেছে। কিন্তু ইতোমধ্যেই এটি হেলানো টাওয়ার হিসেবে নাম কামিয়ে নেয়।

 

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

পিসার ত্রুটিপূর্ণ বিস্ময়কর হেলানো দালান

আলহামরা

ইসলামী স্থাপত্যের এই অনন্য নিদর্শন স্পেনের আন্দালুসিয়া প্রদেশের গ্রেনাডায় আলহামরা। ৮৮৯ সালে এটি বানিয়েছিলেন তখনকার দক্ষিণ স্পেনের শাসক মুরিষ। দুর্গ হিসেবে যার জন্ম পরে তা ১৩৩৩ সালে গ্রেনাডার সুলতান প্রথম ইউসুফের রাজপ্রাসাদ হয়ে যায়। ষোড়শ শতকের দিকে আরো অনেক পরে ইসলামী শাসকরা একে তাঁদের খাসমহল বানান।  তখন তাঁরা দুর্গটির কাঠামোতেও বেশ কিছু পরিবর্ধন ও সংযোজন করেন।

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

ইসলামী নিদর্শন আলহামরা

অ্যাংকর ভাট

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় নিদর্শন ও স্থাপনার সম্মান আজো অক্ষুণ্ণ রেখেছে অ্যাংকর ভাট। ‘খেমার’ সভ্যতার সাক্ষী হয়ে কম্বোডিয়ায় এখনো টিকে আছে এটি। ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবেই তো আছেই এটি পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় এবং সবথেকে বড় মন্দির ও বটে এটি।। বানানো হয় খ্রিস্টপূর্ব ৮০২ থেকে ১২২০ অব্দের মধ্যে। এই অ্যাংকর ভাটে একশরও বেশি পাথরের স্থাপনা আছে। সবকটিই অবশ্য মন্দিরের অংশ নয়। কিছু স্থাপনা প্রশাসনিক ও সামাজিক নানা কাজেও ব্যবহৃত হতো।

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

খেমারের আংকর

অমৃতসরের  স্বর্ণমন্দির

জাপানের কিয়োটর স্বর্ণমন্দিরের সম্পর্কে জেনে হতাশ হয়ার কিছুই নেই আমাদের এই উপমহাদেশেও আছে সোনায় মোড়ানো এক মন্দির, যার চূড়ো পুরোটি স্বর্ণ দিয়ে আবৃত। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসরে এই স্বর্ণমন্দির যা কিনা শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় স্থান। স্থানীয়দের কাছে মন্দিরটি পরিচিত ‘দরবার সাহেব’ বা ‘হারমান্দার সাহেব’ নামে। চারপাশের কৃত্রিম লেকে আছে হাজার হাজার মাছ। চারপাশে চারটা প্রবেশদ্বার রাখা হয়েছে উদারতার প্রতীক হিসেবে।

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

ভারতের স্বর্নমন্দির

নয়েসোয়ানস্টাইন ক্যাসল

আঠারো শতকের জার্মানির ব্যাভারিয়ার খেয়ালি রাজা ‘দ্বিতীয় লুডভিগ’ রাজ্যশাসনের চেয়ে শিল্প-সাহিত্য-স্থাপত্যের প্রতিই উৎসাহী ছিলেন বেশি। তিনি প্রাসাদ-দুর্গ বানাতে, এমনকি প্রচুর ধারকর্জও করেছিলেন। সেগুলোর সেরা এই নয়েসোয়ানস্টাইন দুর্গ। অবস্থান দক্ষিণ ব্যাভারিয়ার ফুসেন শহরের হোহেনসোয়ানগাউ গ্রামের এক পাহাড়ের ওপর।

অবশ্য এর কাজ শেষ হওয়ারে আগেই, ১৮৮৬ সালে মারা যান তিনি। পরে অনেক কিছু না বানিয়েই ১৮৯২ সালে দুর্গটির কাজ শেষ করা হয়।

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

ফুসেন শহরের খ্যাতনামা দূর্গ বাড়ি

কিয়োমিজুদেরা

ইউনেস্কো কিয়োটোর যে ১৭টি মন্দিরকে একত্রে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল এই মন্দির সেগুলোর একটি। এটিও জাপানের কিয়োটো শহরের একটি বৌদ্ধমন্দির। মন্দিরটি প্রথম বানানো হয় ৭৯৮ সালে। তবে এখনকার যে স্থাপনাটি, সেটি বানানো হয়েছিল পরে, ১৬৩৩ সালে।

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার এই স্থাপনাতে কোনো পেরেকই ব্যবহার করা হয়নি!

 

মধ্যযুগে ঘুরে আসুন! ১০টি স্থাপনা

কিয়োটোর আরেক নিদর্শন

 

 

এইবেলাডটকম/পিসি 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71