বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
চলচ্চিত্র পরিচালক এবং লেখক তপন সিংহের ৯৩তম মৃত্যূ বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০১:৪৭ pm ১৫-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:৪৭ pm ১৫-০১-২০১৭
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

চলচ্চিত্র পরিচালক এবং লেখক তপন সিংহ (জন্মঃ- ২ অক্টোবর, ১৯২৪ - মৃত্যুঃ- ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯)

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতোকত্তর করার পর তিনি ১৯৪৬ সালে নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওতে সহকারী শব্দগ্রহণকারী হিসাবে যোগ দেন। পরে ক্যালকাটা মুভিটোন স্টুডিয়োয় শব্দযন্ত্রী হিসাবে; তারও পরে লন্ডনের পাইনউড স্টুডিয়োয়। 'অঙ্কুশ' (১৯৫৪) ছবি দিয়ে কাজ শুরু। চতুর্থ ছবি 'কাবুলিওয়ালা' থেকে সর্বভারতীয় খ্যাতি। ক্রমশ বিশ্বপরিচিতি, দেশে ও বিদেশে বহু সম্মান ও পুরস্কার লাভ। 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গল্প নিয়ে ১৯৫৭ সালে তপন সিংহ তৈরি করেন 'কাবুলিওয়ালা'। যেখানে ছোট্ট মেয়ে মিনির সঙ্গে ভাব হয়ে গেল দূর আফগান দেশ থেকে সওদা করতে আসা রহমত কাবুলিওয়ালার।

১৯৬৫ সালে তৈরি হয় 'অতিথি'। সেটাও কবিগুরুর লেখা গল্প। আপনভোলা ছেলে তারাপদর গল্প - যাকে মায়ের স্নেহ বা বন্ধুর ভালবাসা, কোন কিছুই বেশিদিন এক জায়গায় বেঁধে রাখতে পারেনা। তাই বাঁশীর সুরে, সব ভুলে, দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেড়ায় তারাপদ।

১৯৭৪ সালে তপন সিংহ তৈরি করেন ছোটদের জন্য হিন্দি ছবি 'সফেদ হাতি' । এই ছবিটির গল্প তিনি নিজে লিখেছিলেন। গ্রামের ছোট্ট ছেলে শিবুর সাথে বন্ধুত্ব হয় জঙ্গলের হাতিদের রাজা, ধপধপে সাদা হাতি ঐরাবতের। ঐরাবত শিবুকে সোনার মোহরের সন্ধান দেয়। শিবুর কুটিল কাকিমা সব কিছু জানতে পেরে যায়। তারপর একদিন এক মহারাজা জঙ্গলে শিকার করতে এলে, লোভী কাকা কাকিমা তাকে গিয়ে সাদা হাতির কথা বলে দেয়। মহারাজা তখন শিবুকে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। তাই দেখে, বন্ধু ঐরাবত নিজের থেকে রাজার হাতে ধরা দেয়। ঐরাবতকে ধরা দিতে দেখে, শিবুর বন্ধু ময়না পাখি জঙ্গলের অন্য সব পশুপাখিদের ডেকে আনে। জঙ্গলের যত হাতি, বাঘ, সাপ আর পাখিরা মিলে, রাজা আর তার সঙ্গীদের ভয় দেখিয়ে ঐরাবতকে জঙ্গলে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

ছোটদের জন্য তৈরি করা তাঁর অন্যান্য ছবিগুলি হল 'সবুজ দ্বীপের রাজা' (১৯৭৯), 'আজ কা রবিনহুড' (১৯৮৭/হিন্দী), 'আজব গাঁয়ের আজব কথা'(১৯৯৯) আর 'অনোখা মোতি (২০০০/হিন্দী), 'এক যে ছিল দেশ' (১৯৭৭)। এই ছবিতে এক তরুন বৈজ্ঞানিক এমন এক ওষুধ আবিষ্কার করেন যে তার এক ফোঁটা পেটে গেলেই সবাই সত্যি কথা বলতে শুরু করবে। তার ফলে হল কি? -যত কালোবাজারি আর মিথ্যাবাদী নেতারা সব সত্যি কথা বলে ফেলতে শুরু করল আর বেঁধে গেল নানা গন্ডগোল। ১৯৬৬ সালের 'গল্প হলেও সত্যি' এইরকম আরেকটা মজার ছবি। এক বড়সড় ঝগড়াটে পরিবারে, একদিন ভোরবেলা রাঁধুনি হয়ে এল এক অদ্ভুত মজার মানুষ। সে এমন এমন কান্ড ঘটাতে লাগল যে, সেই পরিবারের লোকজন সব ঝগড়া করতে ভুলে গেল!!

তপন সিংহের বেশিরভাগ ছবির মধ্যেই থাকত কোন না কোন সামাজিক ঘটনার দিকে আলোকপাত। তাঁর অনেক ছবির গল্পই কিন্তু জীবন থেকে নেওয়া সত্যি ঘটনার আদলে তৈরি।

ছোট্ট ঘটনা
উত্তমকুমার বাঞ্ছারামের বাগানে অভিনয় করতে পারেননি। দ্বৈত চরিত্রে এসেছিলেন দীপংকর দে। উত্তমকুমার চেয়েছিলেন ছবির শুটিং মার্চে শুরু হোক। তার আগে ডেট দিতে পারবেন না। তপন সিংহ রাজি হননি। উত্তমকুমার মামলাও করেছিলেন। আদালতের জিজ্ঞাসা ছিল: মিস্টার সিন‌হা, উত্তমকুমারের মতো শিল্পীর জন্যে আপনি কি তিনটে মাস ছবির কাজ বন্ধ রাখতে পারেন না? তপন সিংহের জবাব ছিল: ‘তিন মাস পরে উত্তমকুমারকে পাব, কিন্তু শীতের সরষেফুল? কোথায় পাব?’

জন্ম
জন্ম কলকাতায়। প্রমীলা ও ত্রিদিবেশ সিংহের পঞ্চম সন্তান। শিক্ষা ভাগলপুর ও কলকাতায়, ফিজিক্সে এমএসসি। কর্মজীবনের শুরু নিউ থিয়েটার্স ও ক্যালকাটা মুভিটোন স্টুডিয়োয় শব্দযন্ত্রী হিসাবে; পরে লন্ডনের পাইনউড স্টুডিয়োয়। 'অঙ্কুশ' (১৯৫৪) ছবি দিয়ে কাজ শুরু। চতুর্থ ছবি 'কাবুলিওয়ালা' থেকে সর্বভারতীয় খ্যাতি। ক্রমশ বিশ্বপরিচিতি, দেশে ও বিদেশে বহু সম্মান ও পুরস্কার লাভ। শ্রেষ্ঠ ভারতীয় ছবির জন্য রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক পেয়েছেন একাধিক বার, পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার। পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারও।

ছবির তালিকা
ডটার্স অফ দিস সেঞ্চুরি (Daughters of This Century) (২০০১)
আনোখা মোতি (২০০০)
হুইল চেয়ার (১৯৯৪)
এক ডক্টর কি মউত(১৯৯১)
আজ কা রবিনহুড (১৯৮৭)
আতঙ্ক (১৯৮৬)
আদমি আউর অউরত (১৮৮৪) (দূরদর্শন)
অভিমন্যু (১৯৮৩)
আদালত ও একটি মেয়ে (১৯৮২)
বাঞ্ছারামের বাগান (১৯৮০)
সবুজ দ্বীপের রাজা (১৯৭৯)
সফেদ হাতি (১৯৭৭)
সাগিনা (১৯৭৪)
জিন্দেগি জিন্দেগি (১৯৭২)
সাগিনা মাহাতো (১৯৭০)
আপঞ্জন (১৯৬৮)
হাটে বাজারে (১৯৬৭)
গল্প হলেও সত্যি (১৯৬৬)
আরোহী (১৯৬৫)
অতিথি (১৯৬৫)
জতুগৃহ (১৯৬৪)
নির্জন সৈকতে (১৯৬৩)
হাঁসুলী বাঁকের উপকথা (১৯৬২)
ঝিন্দের বন্দী (১৯৬১)
ক্ষুধিত পাষাণ (১৯৬০)
কাবুলীওয়ালা (১৯৫৬)
উপহার (১৯৫৫)
অঙ্কুশ (১৯৫৪)

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71